পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

রবিবার, ১১ মার্চ, ২০১২

কারাবন্দী এই শহরে


 গাজী মোহাম্মদ ইয়াছিন 
          
          রাত ৯ টায় অফিস ছুটি হলো । মগবাজারে এসে দেখি শতশত লোক দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কোন বাস নেই। মানুষের কোলাহলে আঁচ করতে পারলাম কেন বাস নেই। কারণ বি এন পির ১২ মার্চের মহাসমাবেশ বাধাগ্রস্থ করতে সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে। পায়ে হেটে মৌচাক হয়ে কোন মতে বাসায় ফিরলাম। কিন্তু অনেক কষ্টে। কিছুক্ষন আগে সংবাদে দেখলাম সরকার দলীয় একজন বড় নেতা বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য না কি এই ব্যবস্থা। চলছে তল্লাসী, গন গ্রফতার। শুধুকি এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ! গনগ্রেফতার হলে থানায় চলবে গ্রেফতার বানিজ্য, বাস ট্রাক না চললে বাড়বে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম। তাকে সরকারের কি? ভোগান্তি যা হবার তাতো হবে জনগণের। ঢাকা শহর এখন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন, শহরের হোটেল গুলোতে লোক উঠতে দেয়া হচ্ছে না, খাবারের দোকান সব ১২ তারিখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে পুরো শহরটাই একটা কারাগার, যেখানে আমরা সবাই বন্দী। কিন্তু এ সবের মানে কি!!

শেয়ার মার্কেট কেলেংকারী, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মুল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মুল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক গুলোতে তারল্য সংকট, বানিজ্য ঘাড়তি ইত্যাদি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তা নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। পাতাল রেল, উড়াল রেল, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু কত কিছুই তো এই মেয়াদে শেষ করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু এখন ও শুরুই করতে পারলো না !!!

একই কাজ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে করেছিল। ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে  জনগণ তাদেরকে  প্রত্যাখ্যান করেছিল, আগামীতে তার চেয়ে ভয়াবহ উত্তর কি জনগণ ব্যলটের মাধ্যমে দেবে কি না কে জানে!

২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলো দিন বদলের গান শুনিয়ে। দিন যত যাচ্ছে সেই গান ততোই বেসুরো হয়ে যাচ্ছে। কেন যেন সরকারের নেতাদের মনে ভয় বিরাজ করছে। কিন্তু কিসের ভয়! তারা কি জনগণকে ভয় পাচ্ছে না কি বিরোধী দলকে? কেন সরকার এখন জনগণের উপর আস্থা রাখতে পারছে না? বিরোধী দল কি তাহলে জনগণের মন জয় করে নিয়েছে? আমি মনে করি বি এন পি জনগণের ভাল লাগার মত কাজ করতে পারেনি বরং সরকার এমন কিছু কিছু কাজ করছে যার কারনে জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যপারে শতভাগ পরাজয়ের শংকা হাতছনি দিচ্ছে!!

৭ মার্চ আওয়ামী লীগ বিশাল রালী করলো। তাতে যোগ দিল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সমালোচনা তো হল কিন্তু তখন কি জনগণের ভোগান্তি হয়নি?? তাহলে বিএনপি মহাসমাবেশ করলে এতে তো দোসের কিছু দেখিনা। এই সমাবেশকে বানচাল করতে সরকার এত মরিয়া হয়ে উঠল কেন? তারা কি নিজেদের উপরও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে! তবে কি তারা বুঝতে পেরেছে, জোর করে ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না! এই ধারনা করলে তার জন্য সরকারকে হয়তো অনেক মুল্য দিতে হতে পারে ।

সরকার যদি নিজেদের সফল মনে করে তবে ১২ মার্চের মহাসমাবেশে বিরোধী দলকে সহয়োগীতা করা উচিত।  ক্ষমতা প্রয়োগ করে নয়, রাজনীতি করতে হবে রাজনীতির মাধ্যমে। তাই আসন্ন সংঘাতের কালো মেঘের যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে তা যেন সত্য না হয় সেদিকে সরকারকে খেয়াল করতে হবে।  তাই আসুন সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে গনতন্ত্রের পথে অগ্রসর হই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন