পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

ওয়েস্টার্ন ছবির দুর্বৃত্তরা কি বাংলাদেশে হানা দিয়েছে?

হলিউডে এ যাবত যত ছায়াছবি তৈরি হয়েছে তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ‘ওয়েস্টার্ন‘ নামে শ্রেণীভুক্ত। এসব ছবির তাত্পর্য বুঝতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন—এ কথাটা যে আদৌ সত্য ছিল না সেটা বর্তমানকালে স্বীকার করা হয়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন অতলান্তিক পার হয়ে ওপারে পৌঁছান তখন উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশেই মানুষ ছিল, তাদের সমাজ ছিল, সভ্যতা ছিল। প্রচুর সোনা-দানা ইত্যাদি নতুন মহাদেশ থেকে এনে কলম্বাস স্পেনের রাজকোষ সমৃদ্ধ করেছিলেন এবং তারপর থেকে স্পেন নতুন মহাদেশে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। সেজন্য সেসব দেশের আদিবাসীদের অসভ্য, বর্বর বলে দুর্নাম দেয়ার প্রয়োজন ছিল, নইলে খোদ স্পেনে ‘সভ্যতা বিস্তার ও খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের’ নামে সাম্রাজ্য বিস্তারের যৌক্তিকতা দেখানো কঠিন হতো। 

বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, সেখানেও বহু জাতি ও উপজাতির মানুষের বসতি ছিল। তাদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে ১০২ জন ব্রিটন ১৬২০ সালের ৬ নভেম্বর মে ফ্লাওয়ার নামক জাহাজে চড়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের প্লিম্যাথ থেকে উত্তর আমেরিকায় পাড়ি দেয়। তারা পূর্ব উপকূলে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী কিছুকাল আরও বহু ইউরোপীয় উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে। আদিবাসী আমেরিকানরা (অভিবাসীরা যাদের রেড ইন্ডিয়ান বলত) গোড়ায় নবাগতদের প্রচুর সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। 

সমস্যা দেখা দেয় পরবর্তী কালে, বিশেষ করে ঊনবিংশ শতকে—যখন নবাগতরা পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল ছেড়ে পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ শুরু করে। তারা গরুর গাড়িতে পরিবার ও মালপত্র নিয়ে নিজেরা ঘোড়ার পিঠে চড়ে শত শত মাইল দূরে গিয়ে বসতি গেড়েছে, খামার পেতেছে। প্রায় অন্তহীন বিশাল সবুজ এলাকার সম্ভাবনা বিবেচনা করে অনেকে বিশাল বিশাল গরুর পাল গড়ে তুলেছে, আরও শত শত মাইল দূরে নিয়ে হাজার হাজার গরু তারা মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছে। আরও পরবর্তী কালে ডেকোটার ব্ল্যাকহিল প্রভৃতি স্থানে সোনার খনি আবিষ্কার হয়। নবাগত আমেরিকানরা সেসব এলাকায় গিয়েও ভূমি দখল করে। গোটা প্রক্রিয়ায় আদিবাসীরা পদে পদে বাধা দিয়েছে। তারা শ্বেতাঙ্গদের পশ্চিমমুখী মিছিলে আক্রমণ করেছে, নতুন বসতি ও খামারে আগুন লাগিয়েছে। কিন্তু নবাগতদের উন্নত অস্ত্রের মুখে শেষ পর্যন্ত তারা টিকতে পারেনি। দীর্ঘস্থায়ী এ সমরে বহু আদিবাসী জাতি-উপজাতি নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সংঘর্ষগুলো হয় মূলত শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে। আগে এসে যারা পাথর ভেঙে চাষের জমি তৈরি করেছে, দুর্বৃত্ত শ্বেতাঙ্গরা ঘোড়ায় চড়ে এসে সে সব মালিকদের হত্যা করেছে, তাদের চাষের জমি ও খামার দখল করে নিয়েছে। দীর্ঘকালের কঠোর পরিশ্রমে গরুর পাল গড়ে তোলার চেয়ে বাজারের পথে হানা দিয়ে গো-পালকদের খুন করে পাঁচ কিংবা দশ হাজার গরু নিজেরা বিক্রি করা অনেক বেশি লাভজনক। বহু দুর্বৃত্ত সে লোভ সামলাতে পারেনি। এ ধরনের দস্যুবৃত্তি হরহামেশা ঘটেছে। 

আরও পরে দুর্বৃত্তপনার প্রকারভেদ ঘটে। কয়েকজন দুর্বৃত্ত বন্দুকের জোরে নতুন গড়া শহরগুলো দখল করে নেয়। প্রাণভয়ে প্রকৃত অধিবাসীরা অনেক সময় মুখ বুজে অত্যাচার সয়েছে। দুর্বৃত্তরা শহরের ব্যবসায়, সম্পত্তি, কাছাকাছি এলাকার খামার, গরুর পাল ইত্যাদি দখল করে নেয়, বহু লোকের স্ত্রী-কন্যাকে তারা কেড়ে নিয়েছে। মধ্য-পশ্চিম এবং পশ্চিম আমেরিকায় ধীরে ধীরে আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা হয়। বন্দুকধারীরা আইন ও প্রশাসনের সব যন্ত্র নিজেরা হাতিয়ে নেয়। শহরের মেয়র (প্রশাসন-প্রধান), শেরিফ (পুলিশ প্রধান), জজ ইত্যাদি সব পদ তারা দখল করে। 

কেউ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তামাশার বিচার করে (বর্তমানকালে ক্যাঙ্গারু কোর্ট নামে বর্ণিত) তাত্ক্ষণিকভাবে সবচেয়ে কাছের গাছটিতে লটকিয়ে তাকে হত্যা করা হতো। র্যান্ডল্্ফ স্কট অভিনীত একখানা ওয়েস্টার্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি প্রধান সড়কের ওপরের শহরটি এক দুর্বৃত্ত পরিবারের কয়েক ভাই মিলে দখল করে নিয়েছে। তাদের এক ভাই হয়েছে জজ, দ্বিতীয়জন মেয়র, তৃতীয় জন শেরিফ এবং ছোটভাই শহরের একমাত্র হোটেলের মালিক। 

অত্যাচারীর বিচার : কাহিনীর নায়ক (র্যান্ডল্্ফ স্কট) ঘোড়ায় চড়ে দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। পথে রাত কাটাতে ওই শহরে থামেন। হোটেলে রাত কাটাতে দশ ডলার, খাবারের দাম আরও দশ। টাকা দেয়ার সময় হোটেলের মালিক অতিথির স্বর্ণ মুদ্রাগুলো দেখে ফেলে। আর যায় কোথায়! মালিক দাবি করল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হোটেলের সিন্দুকে জমা রাখতে হবে। স্বর্ণ মুদ্রার খবর জানতে পেরে শেরিফ ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে সেসব মুদ্রা বলতে গেলে কেড়েই নিল। পরদিন নায়ক যখন তার গচ্ছিত মুদ্রাগুলো ফেরত চাইলেন তখন সাজানো অভিযোগে তাকে জেলে ঢোকানো হলো।

এদিকে এক স্প্যানিশ যুবক তার সুদৃশ্য খানদানি ঘোড়ায় যাচ্ছিল ওই শহর দিয়ে। তার দাদার ঘোড়া পালনের খামার কিছু দূরে। স্পেন থেকে আমদানি করা মহামূল্য জাতের ঘোড়ার বংশবৃদ্ধি করেন তিনি। তার ঘোড়া দেখে শেরিফের লোভ হলো। ঘোড়াটি হাতিয়ে নেয়ার জন্য সাজানো মামলায় তাকেও জেলে বন্দি করে রাখা হয়। রগচটা যুবক শারীরিকভাবে বাধা দিয়েছিল। বড় ভাই জজ আইন কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার দায়ে যুবকের ফাঁসির আদেশ দেয়। যুবকের দাদা খবর পেয়ে জজের কাছে লোক পাঠান। জজ তাকে বলে দিল, স্বর্ণ মুদ্রায় ৫০ হাজার ডলার পেলে যুবককে মুক্তি দেয়া হবে। দাদার দূত যথাসময়ে স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে ফিরে আসছিল, কিন্তু খবর পেয়ে শেরিফ ভাই যুবকটিকে জেলখানা থেকে সরিয়ে অন্যত্র গোপন রাখে এবং স্বর্ণ মুদ্রাগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ভাইদের পারস্পরিক বিবাদের সুযোগ নিয়ে কাহিনীর নায়ক কীভাবে নিজেকে এবং স্প্যানিশ যুবকটিকে উদ্ধার করেছিল এবং সে প্রক্রিয়ায় দুর্বৃত্ত ভাইদের হত্যা করে শহরের মানুষগুলোর কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছিল, সেটা হচ্ছে কাহিনীর উপজীব্য।

বিশাল দেশ আমেরিকায় তখনও রেলপথ বসেনি। কিন্তু তখনও কিছু দুঃসাহসী মানুষ নানা উদ্দেশ্যে ঘোড়ার পিঠে বহু দূরের পথ পাড়ি দিত। ঊষর মরুভূমির ওপর দিয়ে দিনের পর দিন চলতে গিয়ে পানি ও খাবারের অভাবে অথবা রেড ইন্ডিয়ানের তীরের ঘায়ে ঘোড়া মারা গেছে। অসহায়ভাবে হাঁটতে হাঁটতে আরোহীও মৃতকল্প। মাথার ওপর শকুনিরা দল বেঁধে উড়ছে আর পাক খাচ্ছে সুযোগের অপেক্ষায়। বহু দূর থেকেও সেসব শকুনির পাক খাওয়া দেখে অনেক সময় দয়ালু অশ্বারোহী সাহায্য দেয়ার বাসনায় এগিয়ে এসেছে।

এসব কাহিনী বহু ওয়েস্টার্ন ছবিতে দেখেছি। আগে যখন সারা সপ্তাহ বিবিসিতে প্রতিদিন বহু ঘণ্টা কাজ করেছি, শনি-রোববার ওয়েস্টার্ন ছবিগুলো দেখতে আমার ভালো লাগত। সেসব কাহিনীতে কে দুর্বৃৃত্ত আর কে ভালো মানুষ, চেনার সমস্যা ছিল না। তারা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলেই দেখত। ক্লান্ত দেহে আর ক্লান্ত মনে চিন্তা-ভাবনা করে কাহিনী অনুধাবন কিংবা তাত্পর্য বিশ্লেষণ করতে হতো না। ওয়েস্টার্ন ছবি দেখা নিয়ে আমার বন্ধু শফিক রেহমান আমাকে ক্ষেপাতেন।

ঠগীর উত্পাত্ শত বছর পরে : সেকালের মধ্য-পশ্চিম আর পশ্চিম আমেরিকার নৈরাজ্য আর অরাজক পরিস্থিতির যে বর্ণনা পাওয়া গেল তা থেকে যদি পদে পদে আজকের বাংলাদেশের চিত্র আপনাদের মনে ফুটে ওঠে তাহলে আমি নিরুপায়, অসহায়। দুর্ভাগ্যবশত সেটাই হচ্ছে খাঁটি চিত্র। অষ্টাদশ শতাব্দীতে আমেরিকার এই বিশাল এলাকায় কোনো কেন্দ্রীয় শাসন চালু হয়নি, অশাসিত এসব এলাকায় বর্তমান সংজ্ঞার আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন তখনও ওঠেনি। জোর যার মুল্লুক তার—এ ছিল সেখানকার আইন আর সে আইনের প্রয়োগ হতো বন্দুকের নলের ভেতর থেকে।

বর্তমান বাংলাদেশ যে ভূমিখণ্ড নিয়ে গঠিত সেখানে দু’শ বছর আগেই ব্রিটিশরা নিজেদের শোষণের স্বার্থে মোটামুটি কিছু আইন আর শৃঙ্খলা চালু করেছিল। কিন্তু দুষ্কৃতি আরও বহুকাল ধিকিয়ে ধিকিয়ে চলেছে। ঠগীদের উত্পাত ছিল সে রকমের। আমার নানি শ্রীপুর মোল্লাবাড়ির ধনাঢ্য তালুকদারদের মেয়ে বিয়ে করে সৌদপুরের গোলন্দাজ বাড়িতে (উভয় গ্রামই এখন লক্ষ্মীপুর জেলায়) গিয়েছিলেন। প্রথম দিনেই তার ধারণা হয়েছিল যে, তার যথেষ্ট খাতির-যত্ন হয়নি শ্বশুর বাড়িতে। পরদিন সকালে পালকি ডেকে সেই যে তিনি বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন, আর কখনও শ্বশুরবাড়িতে পা দেননি। নানা মালদা জেলা স্কুলের হেড মৌলবী ছিলেন, ছুটিতে বাড়ি এসে প্রায়ই তাকে বাপের বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির মধ্যে যাতায়াত করতে হতো। ঠগীদের হাতে যাতে মারা না যান সেজন্য তার শ্বশুর তাকে ঘোড়া আর বন্দুক কিনে দিয়েছিলেন। 

সে ছিল প্রায় একশ’ বছর আগের কথা। তারপর থেকে ব্রিটিশরাও আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি করেছে। বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংস ঠগীদের উত্পাত থামিয়ে দিয়েছিলেন। ভারত ভাগ হয়েছে ৬৪ বছর আগে। পাকিস্তানিরা এবং স্বাধীন বাংলাদেশও আরও উন্নতি করেছে। আসলে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের আশাবাদী হওয়ার বহু কারণ ঘটেছিল। কিন্তু সবকিছু জাহান্নামে গেছে গত তিন বছরে। র্যান্ডল্্ফ স্কট অভিনীত ওয়েস্টার্ন ছবিটির চরিত্রগুলোর মতো একটি চক্র এখন দেশটি দখল করে নিয়েছে। তারা প্রশাসক, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষী এবং তারাই বিচারক। এবং এ সবকিছুই পরিচালিত হয় তাদের স্বার্থে। তারা চক্রান্ত আর অসাধুতা করে কোনোমতে গদি পেয়েছে, সে গদি তারা কিছুতেই ছাড়বে না। যদি বলা হয় ওখানে মণ্ডা-মিঠাই আছে, ওরা বলবে, আমি খাব। ওখানে হাতি আছে। ওরা বলবে, আমি খাব। সবকিছু তারা গ্রাস করবে, সবকিছু লুটেপুটে খাবে।

গোড়াতেই তারা প্রশাসন দখলে নিয়ে নেয়। আল্লাহ্র বান্দা আর রাসুলের (সা.) অনুসারীদের ওপর তারা ভরসা করতে পারেনি, তাই ‘মা-দুর্গার’ ভক্তদের ডবল-ট্রিপল পদোন্নতি দিয়ে উচ্চ পদগুলোতে বসানো হয়। পুলিশেও সেটাই হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দিয়ে, মুক্তিযোদ্ধার ছেলে কিংবা নাতি দাবিতে সংরক্ষিত আসনের নামে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ ক্যাডারকে পুলিশে ভর্তি করা হয়েছে (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে পুলিশকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ বলেছে)। সংরক্ষিত আসনের নামে আওয়ামী লীগের অর্ধশিক্ষিত ক্যাডারকে সিনিয়র সিভিল সার্ভিসে ভর্তি করা হচ্ছে। কট্টর আওয়ামী লীগপন্থীকে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। 

ঢাকা মহানগরীর নির্বাচন করতে তারা দেয়নি, কেননা বিএনপির কাছে তারা হেরে যাবেই, তাদের নৌকো অতলে তলিয়ে যাবে। সেজন্য মহানগরীকে তারা ভেঙে দু’টুকরো করে ফেলল, আওয়ামী লীগপন্থী প্রশাসক নিয়োগ করল দুই টুকরায়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চক্রান্তের ঠেলাঠেলি করে রাজধানীতে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হলো। তারা ভেবে দেখল, জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবেই। সুতরাং ৬১ জেলায় সবচেয়ে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ধরে ধরে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। আওয়ামী লীগ যে নির্বাচন কিংবা গণতন্ত্র চায় না, তারা যে ফ্যাসিবাদী বাকশাল চায়—এ হচ্ছে তার অকাট্য প্রমাণ।
 
আকাশে ভারতীয় শকুন : শেখ হাসিনা বলেছিলেন তার পরিবারের হত্যার প্রতিশোধ নিতে তিনি রাজনীতিতে নেমেছেন। সে প্রতিশোধ তিনি নিচ্ছেন ভয়াবহভাবে। বাংলাদেশের যা কিছু আছে একে একে তিনি ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছেন তার গদি বজায় রাখার মূল্য হিসেবে। ভারতীয়রা এখন গোটা বাংলাদেশই গ্রাস করে নেয়ার স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের আকাশে এখন ভারতীয় শকুনরা পাক খাচ্ছে।

তবে তাদের হিসেবে কিছু ভুল আছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য-পশ্চিম আমেরিকা ছিল জনবিরল, তারা আইনের শাসন দেখেনি। অবলীলায় আদিবাসীদের হত্যা ভূমিলোভী, সোনালোভী শ্বেতাঙ্গ সমাজ প্রশ্রয়ের চোখে দেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের আস্বাদ তারা পেয়েছে। মুজিবের বাকশাল আর ৬০ জন গভর্নর নিয়োগ তারা সহ্য করেনি। শেখ হাসিনার বাকশাল কিংবা ফ্যাসিবাদ আর স্বাধীনতাকে পরের হাতে তুলে দেয়াও তারা সহ্য করবে না। কথা হচ্ছে, তাদের প্রতিরোধ কবে বজ্রকঠোর হবে। এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে যত বেশিদিন গদিতে থাকতে দেয়া হবে তারা ততই নিজেদের গদি পোক্ত করার চেষ্টা করবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কাজ ততই কঠিন হবে।
লন্ডন, ২৬.১২.১১


সূত্রঃ আমারদেশ, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন