পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

টক অব দ্য উইক : এরশাদের ভণ্ডামি

ভণ্ডামির ক্ষেত্রে এরশাদের জুড়ি নেই। 
৯ বছরের স্বৈরশাসনের সময় জনগণ তার একের পর এক ভণ্ডামি দেখেছে। বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা নিয়েই এরশাদ সাইকেল চালিয়ে অফিস করেছেন কয়েকদিন। একদিন জনসভায় হঠাত্ ঘোষণা করেন স্বপ্নে তিনি দেখেছেন তার সন্তান হবে। দেখা গেল এক সপ্তাহের মধ্যেই রওশন এরশাদের একটি ছেলে হয়েছে হাসপাতালে। অবশ্য এ রহস্যের কূলকিনারা এখনও হয়নি। তার নারী কাহিনী তো তখন ছিল মুখে মুখে। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান তাকে বিশ্ববেহায়া হিসেবে আখ্যায়িত করে বিখ্যাত একটি কার্টুনও এঁকেছিলেন।
ক্ষমতার পর দুর্নীতির জন্য এরশাদ জেল খেটেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সখ্য সেই ক্ষমতা নেয়ার সময় থেকেই। এখনও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ভাগিদার তিনি। কিন্তু হাওয়া দেখে মাঝেমাঝেই তিনি উল্টো সুরে কথা বলেন।
এরশাদের সঙ্গে ভারতেরও রয়েছে মধুর সম্পর্ক। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় এরশাদ ভারতের দেরাদুন থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন। দেরাদুন থেকে যারা ট্রেনিং নেয়, তারা ভারতের একান্ত নিজের লোক হিসেবেই পরিচিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরের সময় এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কয়েকদিন আগে এরশাদ ভারত সফরও করে এসেছেন। কিন্তু হঠাত্ দেখা যায়, এরশাদের ভিন্ন চেহারা। তিনি প্রতিবাদী রাজনীতিকের মুখোশ পরেছেন। টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবেন ১০ ডিসেম্বর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা এরশাদের স্বভাবজাত ভণ্ডামি। দিল্লি সফর করে দেশে ফিরেই এরশাদের ভারত বিরোধিতার এই নাটক চাণক্য কৌশল মাত্র। দিল্লির সম্মতি এবং শেখ হাসিনার ইশারাতেই এরশাদের এই ভাঁড়ামি।
দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। শেখ হাসিনা তাই এরশাদকে গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা করতে ষড়যন্ত্র করছেন। টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেটের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষুব্ধ। এ সুযোগটি যাতে বিএনপির দিকে না যায়, সে জন্য এরশাদ সিলেটের মানুষের সমর্থন নেয়ার জন্য টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতায় নেমেছেন। এটা এরশাদের সর্বশেষ ভণ্ডামি।

সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন