পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

নির্ধারিত সময়েই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত

প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজারে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য সহায়ক ও সমাধানযোগ্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর স্বার্থে গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটি। বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান বলেন, বেঁধে দেওয়া দুই মাস সময়ের মধ্যেই স্বল্প পুঁজি ও মার্জিন ঋণ গ্রহণ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই ধরনের বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে একটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান ফায়েকুজ্জামান আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রণোদনার পূর্ণাঙ্গ
সুযোগ-সুবিধা পায়, সে ব্যাপারে সরকার আন্তরিক এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য ওই কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ‘প্যাকেজ পদক্ষেপ’ ঘোষণা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। প্যাকেজদফ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গঠন করা হয় ৬ সদস্যের বিশেষ স্কিম কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানকে। এছাড়া কমিটিতে আরও রয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন প্রতিনিধি, এসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জহুরুল আলম এবং সিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজিদ হোসেন ও সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএইচ সামাদ। ইতোমধ্যেই বিশেষ স্কিম কমিটি তাদের ১ম বৈঠক করেছে গত ৫ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় বৈঠক চলতি সপ্তাহে হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসইসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, কমিটি ১ম বৈঠকে প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য নীতিগতভাবে কিছু পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে, যার ভিত্তিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করা যাবে। যেমন মার্জিন ঋণের বিষয়ে পোর্টফোলিও জানতে চেয়ে ব্রোকারেজ হাউস ও সিডিবিএলের কাছে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ব্রোকারেজ হাউস ও সিডিবিএলের সহযোগিতা না পেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া জটিল হবে। কারণ তারাই পোর্টফোলিও নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে সিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজিদ হোসেন মনে করেন দু ধরনের বিনিয়োগকারীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যেমন- মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত আবার মার্জিন ঋণ না নিয়েও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও অনেক। ফলে এ দুই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী সহায়তা পাবার আওতায় আসবেন কি-না তাও বিবেচনা করা হবে। তিনিও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসসমূহকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান। আইসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে দরপতনের পরও এ ধরনের কমিটি গঠিত হয়েছিল, তখনও এরকম একটি কমিটি কাজ করেছিল। সেসময় আইসিবিসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বিনিয়োগকারীরা ১০০ কোটি টাকা বা সমমূল্যের প্রণোদনা সুবিধা পেয়েছিল। ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জহুরুল আলম জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুবিধার্থে ক্ষুদ্র, মাঝারি বিনিয়োগকারীদের ফ্রেশ ডাটা চেয়ে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিডিবিএলের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য কমিটির হাতে পৌঁছানোর পরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে ও তা বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে বিশেষ স্কিম কমিটি আন্তরিকভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইসিবি ইনভেস্টর ফোরামের সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করব কমিটি একটি সৎ, সাহসী ও সর্বজনগ্রাহ্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ক্ষত কিছুটা হলেও উপশম করবেন। বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায় বিনিয়োগকারীদের যাদের বিনিয়োগ ১ থেকে ৫ লাখ ও ৫ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত এবং যাদের মার্জিন লোন আছে সেইধরনের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা করা হবে। দ্বিতীয় যাদের মার্জিন লোন নেই, কিন্তু বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ থেকে ১০ লাখ তাদের ব্যাপারেও প্রণোদনা দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। যাদের বিনিয়োগ ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে ক্ষতির পরিমাপ কী তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ স্টক বাংলাদেশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন