পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১

অর্থমন্ত্রী না জানলে জানবে কে?

সমস্যাটি পুঁজিবাজার নিয়ে। জানুয়ারিতে যে ধসের শুরু, তা কোনোভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এখন অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, তা আমি জানি না।’ বোঝা গেল তিনি অসহায়, তা না হলে এমন কথা কি অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন! ব্যাপারটি অনেকটা আত্মসমর্পণের মতো। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে যাঁরা সব খুইয়ে বসেছেন, তাঁদের কাছে এ আত্মসমর্পণের কোনো অর্থ আছে কি? আর এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, পুঁজিবাজার সমস্যার সমাধান যদি অর্থমন্ত্রী না জানেন, তবে জানবে কে?
অর্থমন্ত্রীই যখন পুঁজিবাজারের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তখন সে বাজারের আর কী ভবিষ্যত্ থাকতে পারে! আজ বুধবার সূচক আরও কমেছে, কমেছে শেয়ারের লেনদেনও। অর্থমন্ত্রীর ‘সমাধান জানি না’ ঘোষণার কারণেই বাজারের এই পতন কি না, কে জানে! পুঁজিবাজারে ধস শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থমন্ত্রী যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাতে এই বোধোদয়ও তাঁর হয়েছে যে পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়। ‘পুঁজিবাজার নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমি কোনো কথা বললেই নাকি বাজার ধ্বংস হয়ে যায়।’ কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করতে না চেয়েও অর্থমন্ত্রী এই যে মন্তব্য করলেন (সমাধান জানি না) তা তো আতকে ওঠার মতো।
অর্থমন্ত্রীর এই ‘সত্’ স্বীকারোক্তির পর বিষয়টি অনেকটা এমন দাঁড়াল যে পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর আর কোনো দায় রইল না। এমন পুঁজিবাজারের দায় আসলে কে-ইবা নিতে চায়! বাজার পরিস্থিতি যখন ভালো ছিল তখন চাঙা পুঁজিবাজারের ‘দায়’ নিতে অবশ্য সরকার বা সরকারের লোকজনের অভাব পড়েনি। এখন কেউ আর এ নিয়ে কথা বলেন না, বলতে চান না। অর্থমন্ত্রীও সেই পথ ধরলেন। পুঁজিবাজারে যাঁরা সংকট সৃষ্টি করেছেন, তাঁদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংকট সামাল দেওয়ার জন্য—এমন অভিযোগ করেছিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সাংবাদিকদের কাছে এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, ‘আমরা কাউকে দায়িত্ব দেইনি। তাঁরা নিজেরই দায়িত্ব নিয়েছেন।’ অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয় কাউকে দায়িত্ব না দিলেও যদি কেউ পুঁজিবাজারের দায়িত্ব নিয়ে নিতে পারেন, তবে এ মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্বটাই কী অনেকটা প্রশ্নের মুখে পড়ল না!

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৯ অক্টোবর, ২০১১ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন