পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১১

উইকিলিকসে মার্কিন গোপন বার্তা : চারদলীয় জোটে ঢুকতে রাজি ছিলেন এরশাদ




উইকিলিকসের ফাঁস করা এক তথ্যে দেখা যায়, বর্তমান মহাজোট সরকারের শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চারদলীয় জোটে যোগ দিতে সম্মত ছিলেন। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় বলা হয়েছে, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দিচ্ছেন বলে বাজারে জোর গুঞ্জন থাকলেও তিনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন, আনুষ্ঠানিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পথেই রয়েছে।’তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস এই তারবার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠান। এতে বলা হয়, ২৭ জুলাই সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রী বাবরের বাসায়। বৈঠকে আলোচনার পর এরশাদ চারদলীয় জোটে যোগ দিতে সম্মত হন। এরশাদের দাবি ছিল, তাকে প্রেসিডেন্ট বানাতে হবে এবং বিএনপি তা মেনে নেয়। তবে দুটি বিষয়ের সুরাহা তখনও হয়নি। তা হচ্ছে জোটে ঢোকার পর জোট থেকে এরশাদের জাতীয় পার্টি কয়টি আসন পাবে এবং সরকার তাকে দুর্নীতির মামলা থেকে রেহাই দেবে কি না।এতে বলা হয়, ১ আগস্ট এরশাদ মিডিয়াকেও জানান, ‘তিনি চারদলীয় জোটে যোগ দিতে যাচ্ছেন।’মার্কিন তারবার্তায় বলা হয়, ‘এরশাদ আমাদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষ দুই নারীকে নিয়ে অত্যন্ত হতাশ। তারা নতুন নেতৃত্ব খুঁজছেন। তবে দুটি জোটের একটিতে যোগ দেয়া ছাড়া জাতীয় পার্টির সামনে বিকল্প নেই। কারণ নির্বাচনে দাঁড়াতে যে অর্থ লাগবে, তা জাতীয় পার্টির নেই।’ তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে তার ঘাঁটিতেই কেবল নয়, তিনি দেশব্যাপী ৫০টি আসনে লড়তে চান। এরশাদের মতে, ‘তার দল ৪০টি আসনে জিতবে। এ মুহূর্তে জাতীয় পার্টির ১৪টি আসন রয়েছে।’চারদলীয় জোটে যোগ দেয়ার ব্যাপারে কবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘কেয়ারটেকার সরকার আসার আগেই ঘোষণা দেব। তবে কোন কোন আসনে জাতীয় পার্টি লড়বে তা নির্ধারণ করতে সময় লাগবে। এ কারণেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া যাচ্ছে না।’একই তারবার্তায় বলা হয়, জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান তার দলের পক্ষ থেকে মার্কিন দূতাবাসকে বলেন, চারদলীয় জোটে এরশাদের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এরশাদ একজন ধুরন্ধর ব্যক্তি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে জাতীয় পার্টিকে চারদলীয় জোটে ডাকার এখতিয়ার তারেক রহমানের নেই। তবে জামায়াত নেতার সঙ্গে বিউটেনিসের সাক্ষাত্ কবে হয়েছিল অথবা তা টেলিফোনযোগে হয়েছিল কিনা, সে সম্পর্কে তারবার্তায় কিছু বলা হয়নি। এরশাদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। তাছাড়া দুর্বল গণভিত্তির কারণে চারদলীয় জোটে জামায়াতের আবেদন তেমন নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টির গণভিত্তি থাকায় বিএনপি এরশাদকে পেতে চাইছে। তারবার্তার মন্তব্য অংশে বলা হয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিযোগিতা সমানে সমানে চলছে। আর এ সুযোগটাই নিচ্ছেন এরশাদ। দুটি দলের যে কেউ এরশাদের কাছ থেকে ১০টি আসন পেলেই ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত বলে সবার ধারণা। তবে এ মুহূর্তে এরশাদ বিএনপিকে ক্ষেপিয়ে তুলবেন না। জাতীয় পর্যায়ে এরশাদের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে, গত বছর দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনায়। এছাড়া বেশিরভাগ বাংলাদেশী তার দুর্নীতি, ঠগবাজি ও কালোটাকা সম্পর্কে জানে। তাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হাস্যকর হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ক্ষমতায় যেতে যে কোনো দাম দিতে প্রস্তুত।

সুত্রঃ আমার দেশ, ০৭ অক্টোবর, ২০১১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন