পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১১

অনলাইনে আয়ের সহজতম পথ সাইট টক!! পর্ব -২



প্রায় নতুন একটি স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট হিসেবে ইতোমধ্যে সাইট টক ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গত কয়েক দিন আগে সাইট টকের নতুন ভার্সন চালু হয়েছে। sitetalk.com এর হোম পেজটা অনেক সুন্দর করা হয়েছে। যাই হোক আজ আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে জয়েন করে একজন অ্যাক্টিভ মেম্বার হিসেবে আপনি আয় কারতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যত বেশী Referrer থাকবে তত বেশী আয় করা সম্ভব ।


একজন অ্যাক্টিভ মেম্বার হিসাবে আপনাকে কি করতে হবেঃ

  • বন্ধুদের সাথে চ্যাট করবে হবে।
  • সাইট টকে বিচরণ করবে পারেন এবং অন্য বন্ধুদের Status বা Comments পড়তে পারেন।
  • আপনার স্ট্যাটাস আপডেট করতে পারেন।
  • কোন বন্ধুকে অ্যাড করতে পারেন।
  • কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারেন।
  • একটি গ্রুপ তৈরি করতে পারেন।
  • আপডেট কমেন্ট করতে পারেন।
  • কোন গ্রুপে সক্রিয় থাকতে পারেন।
  • আপনার প্রোফাইল আপডেট করতে পারেন।
  • প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করতে পারেন।
সপ্তাহে এক দিন উপরে উল্লেখিত যে কোন একটি কাজ করলে আপনি অ্যাক্টিভ মেম্বার হিসাবে গন্য হবেন।



কিভাবে আয় করবেনঃ

·         যত বেশী সম্ভব আপনার Refer তৈরি করুন।
·         তাদেরকে সাইন আপ করান আপনার রেফারেল লিঙ্কে ( আপনার রেফারেল লিঙ্ক হবেঃ www.sitetalk.com/username)
·         নতুন মেম্বারদের অ্যাক্টিভ মেম্বার হতে সাহায্য করুন।

কিভাবে আপানার আয় পাবেনঃ

·         যখন আপনার সুবিধা হবে তখন একটি মেম্বারশীপ প্যাকেজ ক্রয় করতে পারেন ( বিস্তারিত জানতে পুরো পোস্টটি পড়ুন)
·         প্যাকেজ কেনার পর আপনি একটি মাস্টার কার্ড পাবেন যা দিয়ে আপনি যে কোন সময় যে কোন দেশ থেকে টাকা উঠাতে পারবেন।
·         যদি আপনার সরাসরি লিঙ্কে ১০০ জনের উপর অ্যাক্টিভ মেম্বার থাকে তাহলে আপনি আয় করবেন ১৫০০০+ টাকা।
·         আবার আপনার কাজ শেষ, আপনার অ্যাক্টিভ মেম্বাররা কাজ করলে আপনার কাজ সহজ হয়ে গেল ( অ্যাক্টিভ মেম্বার না থাকলে আপনাকেই কষ্ট করতে হবে)

সাইট টক মেম্বারশীপ প্যাকেজ সমূহঃ

·         ব্যসিক মেম্বারশীপ প্যাকেজঃ মূল্য ১৪৯  ইউরো
সুবিধাঃ
আপনি একটি Towah Master Card পাবেন যা দিয়ে আপনি বিশ্বের যে কোন দেশ থেকে টাকা উঠাতে পারবেন।

·         ব্রোঞ্জ মেম্বারশীপ প্যাকেজঃ মূল্য ৫০০ ইউরো
সুবিধাঃ
      * Towah Master Card
      * Holiday plus ( ভ্রমনকালীন সময়ে বিশ্বের যে কোন দেশের পাচ তারকা হোটেলে  থাকা ফ্রী)     
    * Mandatory অ্যাকাউন্টঃ ৫০ ইউরো ( সাথে সাথে ব্যাক)
    * ২০০০ অ্যাড ক্লিক্স।
    * Oxford Module (MBA Degree).
      * OFC পাবেন ১০০০+

·         গোল্ড মেম্বারশীপ প্যাকেজঃ মূল্য ২০০০ ইউরো
সুবিধাঃ
* Towah Master Card
* Holiday plus ( ভ্রমনকালীন সময়ে বিশ্বের যে কোন দেশের পাচ তারকা হোটেলে  থাকা ফ্রী
* Mandatory অ্যাকাউন্টঃ ২৫০ ইউরো ( সাথে সাথে ব্যাক)
* ১০০০০ অ্যাড ক্লিক্স। 
    * Oxford Module (MBA Degree).
    * সাইট টক সিম কার্ড( ২৩০+ দেশে রোমিং ফ্রী এবং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক কাভারেজ)।
    * ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীক ইমেইল অ্যাকাউন্টঃ ............@sitetalk.com
      * OFC পাবেন ৮০০০+

ব্রোঞ্জ ও গোল্ড মেম্বারশীপ প্যাকেজে আরও অনেক বিশেষ গিফট আছে!!



সাইট টক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য নিচের ওয়েবসাইট গুলো দেখতে পারেনঃ

http://www.presidentclub.biz/
http://www.alexa.com/siteinfo/sitetalk.com
http://www.mysitecost.com/
http://www.unaico.com/
http://www.sitetalk.com/
http://www.sitetalkmail.com/
http://www.sitetalksim.com/
http://www.sitetalkcoffee.com/
http://www.sitetalkme.com/
http://www.presidentclub.biz/
http://www.sitetalkmall.com/
http://www.oxfordprogramme.co.uk/
http://www.towahbanking.com/
http://www.sitetalktravel.com/
http://www.sitetalkcare.org/

বিস্তারিত জানতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন  gazi.yeasin@yahoo.com  এই ঠিকানায় । 

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

সংবিধান ও আইনের লঙ্ঘন ''-নারায়ণগঞ্জে সেনা দেয়নি সরকার''

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু সরকার তা দেয়নি। এ ব্যাপারে ইসি যে চিঠি দিয়েছিল, তার কোনো জবাবই দেয়নি সরকার।
ইসি সেনাবাহিনী চাইলেও না দেওয়া সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য হইবে।’ আর সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদে আছে, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হবে, কমিশন অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।’
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ২(১) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, বাংলাদেশ রাইফেলস, কোস্টগার্ড বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ।’
এই আইনের আলোকে নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে। নির্বাচনে চার কোম্পানি সেনা মোতায়েন এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে ২৪ অক্টোবর পরিপত্রটি জারি করা হয়। কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব আবদুল বাতেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, ‘সেনাসদস্যগণ ২৮ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ১ নভেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এই চার কোম্পানির মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত তিনটি থানায় তিন কোম্পানি এবং মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে এক কোম্পানি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিজার্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাওয়ামতো সরকার নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করে সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দিতে চায় না। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন আইনে সশস্ত্র বাহিনীও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ। তাই এখানে সরকারের ‘না’ করার অর্থ হলো, আইন ও সংবিধান দুটোই অমান্য করা।
ইসির চিঠির জবাব নেই: ১৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দেয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মিহির সারোয়ার মোর্শেদ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়, ভোটাররা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন এবং কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য কমিশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সরকার এই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। এখন নির্বাচন কমিশন ধরে নিয়েছে যে সরকার সেনাবাহিনী দেবে না।
কমিশনে বৈঠক: গতকাল শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ছিল। কিন্তু সেনা না যাওয়ায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন দিনভর অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের পর বিকেলে বৈঠকে বসে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠক থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। র‌্যাবের মহাপরিচালক ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কমিশন যোগাযোগ করতে পারেনি বলে জানা যায়। কমিশন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে।
নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের জন্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা করেনি। এ বিষয়ে যে সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা সরকার নিশ্চয়ই জানে।
আইনবিদ শাহ্দীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, সরকার সেই সহযোগিতা দিতে বাধ্য। সরকার যদি কোনো কারণে সহযোগিতা করতে সমর্থ না হয়, সেটা কমিশনকে জানানোর ব্যাপারেও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না করলে সরকার সাংবিধানিক জটিলতায় পড়বে। স্থানীয় সরকার আইনেও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে রাখা হয়েছে।



 
সুত্রঃ প্রথম আলো, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১১

ফেসবুকনির্ভর সাইটগুলো

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জায়ান্ট ফেসবুকনির্ভর অনেক সাইট তৈরি করছেন ওয়েব ডেভেলপাররা। ওয়েব প্রোগ্রাম,অ্যাপ্লিকেশন,গেমস ছাড়াও ফেসবুকের আইডিয়ানির্ভর অনেক সাইটের দেখা মেলে ইন্টারনেটে। ফেসবুক ব্যবহারকে আরো সহজ এবং মজাদার করতেই এসব ওয়েবসাইটগুলো তৈরি হয়। যদিও এসব ওয়েবসাইটের কোনোটাই ফেসবুকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় তবুও ফেসবুক পুঁজি করেই এগুলো তরতর করে এগিয়ে চলেছে। এমনকি কিছু সাইট আবার ফেসবুকের নামও নিজের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছে।

Howdoifacebook.com নতুন ফেসবুক ব্যবহারকারীর জন্যই এ সাইটটি। ফেসবুক বিষয়ে মনে যতো প্রশ্ন ওঠে তার তাবৎ উত্তর রয়েছে সাইটটিতে। ফেসবুক বিষয়ক সমস্যার সমাধান নিয়েই তৈরি করা হয়েছে

www.howdoifacebook.com সাইটটি। ফেসবুকের নিজস্ব সমস্যার সমাধান নিয়ে HELP সেকশন থাকলেও এ সাইটে সবকিছু খুব সহজভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। ফেসবুকে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের অর্থ ও এর ব্যবহার, ফেসবুক বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর সাইটটিতে পাওয়া যাবে।

Reface.me কেবল ফেসবুকনির্ভর একটি ব্লগ হলো www.reface.me। ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেট, প্রোফাইল, ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ,ফটো-ভিডিও, গেমস, অ্যাপ্লিকেশন, ফেসবুকোলজি ইত্যাদি বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সাজানো হয়েছে ব্লগটিকে। এতে রয়েছে ফেসবুক ব্যবহারের গাইডলাইন এবং ফেসবুক সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস সুবিধাও।

Facebookcraze.com ফেসবুক নিয়ে আরেকটি সুন্দর ব্লগ হলো www.facebookcraze.com। ফেসবুকের মজার স্ট্যাটাস আপডেট, ফেসবুক বন্ধুদের ট্যাগ করার জন্য মজার মজার ফটো ইফেক্ট এবং বিভিন্ন ফেসবুক গেমসের রিভিউ নিয়ে সাজানো হয়েছে সাইটটিকে। প্রায় একই ধরনের আরেকটি ব্লগ www.facebookflow.com। এখানেও ফেসবুকের বিভিন্ন খবরা-খবর, বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন, গেমস ও পেজের রিভিউ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য মিলবে।

Allfacebook.com ফেসবুককে নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী একটি ওয়েবসাইট www.allfacebook.com। ফেসবুকের সর্বশেষ খবরাখবর, ফেসবুক পেজগুলোর মধ্যে কোনগুলোর অবস্থান সবার ওপরে, সপ্তাহের সেরা ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ও গেমসের তালিকা ইত্যাদি নিয়ে সাজানো হয়েছে ওয়েবসাইটটি।

Facemoods.com স্মাইলি, ইমোটিকনস, অ্যানিমেশন যারা ফেসবুক স্ট্যাটাস, চ্যাট বা ওয়ালে এসব যুক্ত করতে চান তাদের জন্য www.facemoods.com । সাইটটি থেকে স্মাইলি কিংবা ইমোটিকনস ব্যবহারের ছোট্ট সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে পিসি বা ল্যাপটপে ইনস্টল করলেই কাজ হবে।

Facebookvideodown.com ফেসবুক ভিডিও ডাউনলোড করার কাজ করে www.facebookvideodown.com সাইটটি। পিসিতে কোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার ছাড়াই সহজেই ডাউনলোডের কাজটি করা যায় সাইটটি থেকে।

Privacydefender.net ফেসবুকে প্রাইভেসি সেটিং সমাধান দিতেই আছে www.privacydefender.net সাইটটি। এ সাইটের একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সহজেই ফেসবুকের প্রাইভেসি সেট করা যায়।

Insidefacebook.com ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, প্রোগ্রামার এবং মার্কেটারসদের জন্য ওয়েবসাইটটির নাম Insidefacebook.com

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১১

অনলাইনে কাজের বড় জায়গা

নিজের বা প্রতিষ্ঠানে ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয়তার তালিকার শীর্ষে আনতে কে না চান? কোনো কিছু খোঁজার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনের দ্বারস্থ হই। এ ক্ষেত্রে কোনো কিছু খোঁজার ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনে আসা ফলাফলের তালিকার শুরুতে যে কটি ওয়েবসাইট আসে, সেগুলোতেই সাধারণত প্রবেশ করেন আগ্রহীরা। আর এ তালিকায় প্রথম ১০টি ফলাফলের মধ্যে কোনো ওয়েবসাইটকে আনার ক্ষেত্রে যে কাজটি করা হয়, তার নামই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)। এসইও এমন একধরনের পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা, যাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সার্চ ফলাফল ওয়েবসাইটটি অন্য সাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে প্রদর্শিত হতে পারে। 

সার্চ ইঞ্জিনের কথা:

এসইওর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়টি। সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে একধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্যকে তার নিজের ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুসারে ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একধরনের রোবট প্রোগ্রামের সাহায্যে নিরলসভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষণ করতে থাকে, যা ইন্ডেক্সিং নামে পরিচিত। সার্চ ইঞ্জিনগুলোর জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে গুগল। এ ছাড়া এ তালিকায় আছে ইয়াহু, মাইক্রোসফটের বিং ইত্যাদি। 

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন:

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এসইও খুবই পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষকরে, আউটসোর্সিংয়ে এসইওভিত্তিক নানা কাজ পাওয়া যায়, যেমন—কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক জোগাড় করা, অন পেজ অপটিমাইজেশন, কনটেন্ট লেখা, এসইও কনসালট্যান্সি ইত্যাদি। এসইও এমন এক বিশেষ ধরনের পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করেতোলে। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনবান্ধব করে, যাতে নির্দিষ্ট বিষয়ের অনুসন্ধান ওয়েবসাইটটি সবার শীর্ষে প্রদর্শিত হতে পারে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, তথ্য খোঁজার ফলাফলে প্রথম পৃষ্ঠায় ১০টি ওয়েবসাইটের মধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসা।প্রথম ১০-এ থাকার মানে ওয়েবসাইটে বেশিসংখ্যক ব্যবহারকারী যাওয়া। অপটিমাইজেশনের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। 
যাঁরা আউটসোর্সিংয়ের কাজে জড়িত, তাঁরা এসইও শব্দটার সঙ্গে বেশ পরিচিত। বিভিন্ন আউটসোর্সিং বাজারে (মার্কেটপ্লেস) এ ধরনের কাজ পাওয়া যায়। এসইও একটি বিশাল ক্ষেত্র, এর সঙ্গে অনেক ধরনের বিষয় জড়িত। এককথায়, সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনে যখন কেউ কিছু খোঁজেন, তখন যে ফলাফলগুলো সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকে, সেগুলোই বেশি দেখেন। আর সার্চ ইঞ্জিনগুলোও সবচেয়ে কার্যকর এবং যথাযথ ফলাফল দেখানোর চেষ্টা করে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো এমন কিছু পদ্ধতি, যা অনুসরণ করলে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে ওপরের দিকে থাকা যায়।
আলফা ডিজিটাল গ্রুপের পরিচালক ও বেসিসের ফ্রিল্যান্সার পুরস্কারপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অনলাইন বিপণনের ক্ষেত্রে এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সারা বিশ্বের যত ওয়েবসাইট রয়েছে, বলতে গেলে তত এসইওর কাজও রয়েছে। ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে আনার পাশাপাশি শীর্ষত্ব ধরে রাখাও এসইওর কাজ। এর যেকোনো একটি বিষয় শিখে ভালো কিছু করা সম্ভব।

যেভাবে হয় এসইও:

এসইওর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। এ ব্যবস্থাটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে প্রথমেই সাইটের জন্য এক বা একাধিক নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড বা শব্দগুচ্ছ বাছাই করতে হয়। কিওয়ার্ড বাছাই করার আগে সময় নিয়ে হয় গবেষণা। এমন একটি কিওয়ার্ড বাছাই করতে হয়, যাতে এর প্রতিদ্বন্দ্বী কম থাকে। সে ক্ষেত্রে কিওয়ার্ডের সঙ্গে আরও কয়েকটি শব্দ যদি যোগ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েবসাইটের সংখ্যা কমে আসবে। কিওয়ার্ড নিয়ে গবেষণা করা যায় গুগল অ্যাডওয়ার্ডের কিওয়ার্ড টুলের (https://adwords.google.co.uk/select/keywordtoolexternal) মাধ্যমে। এ ছাড়া রয়েছে সার্চ ইঞ্জিন-সহায়ক ইউনিভার্স রিসোর্স লোকেটর (ইউআরএল)। অপটিমাইজেশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সার্চ ইঞ্জিন-সহায়ক ইউআরএল। সহজ ইউআরএলেরক্ষেত্রে ইউজারের যেমন মনে থাকে,তেমনি সার্চ ইঞ্জিনও এটা পছন্দ করে। পেজ র‌্যাংকিং এসইওর সঙ্গে জড়িত আরেকটি বিষয়। পেজ র‌্যাংক বাড়ানোর জন্য মূল শক্তি ব্যাকলিংক। ব্যাকলিংকের জন্য অনেক সাইট আছে, সেগুলোতে নিয়মিত ব্যাকলিংক করতে হবে। বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত লেখা প্রকাশ, বিভিন্ন লেখায় মন্তব্য করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়েব ডিরেক্টরি রয়েছে, যেখানে বিনা মূল্যে নিজের সাইটের তথ্য ও লিংক দেওয়া যায়, অন্যের ব্লগে মন্তব্য করা ইত্যাদি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। রয়েছে ক্রাউলার ব্যবস্থা। এটি হচ্ছে একধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে এবং নতুন তথ্য তার ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করে রাখে। প্রোগ্রামকে প্রায় সময় ইন্ডেক্সার বা রোবট নামে ডাকা হয়। গুগলের ক্রাউলারটি ‘গুগলবট’ পরিচিত। গুগলবট নিরবচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেটে বিচরণ বেড়ায়, যখনই কোনো সাইটে তথ্য পায়, তা যোগ করে দেয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ লিংকবিন্যাস একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে দিলে ভালো হয়। বিভিন্ন সামাজিক সাইট ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে নিজের লেখা বা কমেন্টে সাইটের প্রচার করাও এসইওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রয়োজন হয় সোশ্যাল বুকমার্ক ব্যবহার করা, ওয়েব ডিরেক্টরিতে নিজের সাইটের বর্ণনা জমা দেওয়া, নিজেদের পরিচিত কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে লিংক আদান-প্রদান করা ইত্যাদি। 

করা যায় আয়:

এসইওর মাধ্যমে আয়ের নানা ধরনের উপায় রয়েছে। নিজের সাইটের জন্য এসইও করলে এর মাধ্যমে সাইটে অধিকসংখ্যক ভিজিটর আসবে, যাতে ওই সাইটটি থেকে যেকোনো ধরনের সার্ভিস বা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এ ছাড়া সাইটে বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করা সম্ভব। ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয়। নিজের সাইটের মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্সেরকোডযোগ করলে এটি ওয়েবসাইটের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখায়। সেই বিজ্ঞাপনে কোনো ভিজিটর ক্লিক করলে সাইটটির মালিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। পরে গুগল থেকে চেকের মাধ্যমে সেই অর্থ তার কাছে পাঠানো হয়। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও এসইওভিত্তিক নানা কাজ পাওয়া যায়। কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক জোগাড় করা, অনপেজ অপটিমাইজেশন, কন্টেন্ট লেখা, এসইও কনসালট্যান্ট ইত্যাদি। এসইও শেখার জন্য ইন্টারনেটে ইংরেজিতে অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে। বাংলায়ও অনেকেই বিভিন্ন ব্লগ ও ফোরামে এসইওর নানা বিষয় নিয়ে লিখছেন। 
এসইও বিষয়ে পারদর্শী বেসিসের ফ্রিল্যান্সার পুরস্কারপ্রাপ্ত আল আমিন চৌধুরী বলেন, এসইওর নানা ধরনের ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে যেকোনো একটি ক্ষেত্র শিখেই আয় করা সম্ভব। ই-কমার্স সাইটের পাশাপাশি যেসব সাইটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ পাওয়া যায়, সেসব সাইটেও এসইওর অনেক কাজ পাওয়া যায়।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ অক্টোবর, ২০১১ 

লৌহমানব গাদ্দাফি নিহত

৪২ বছর দেশ শাসনের পর গত ফেব্রুয়ারিতে টলে ওঠে লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির গদি। তবে পিছু না হটে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি যোদ্ধা, লড়তে লড়তে যুদ্ধক্ষেত্রেই মরতে চাই।’ প্রতিরোধরত অবস্থায়ই গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত হলেন লিবিয়ার লৌহমানব গাদ্দাফি। 
লিবিয়ার জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) জানিয়েছে, গাদ্দাফিকে তাঁর জন্মস্থান সিরত শহর থেকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। এরপর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে আটক অবস্থায় কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করে জানায়নি। 
গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সময়কার যে বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে গাদ্দাফির ছেলে মুতাসিমের মৃত্যুর ঘোষণায়। এনটিসি গতকাল একই সঙ্গে দাবি করেছে, গাদ্দাফির সঙ্গে ছেলে মুতাসিমও নিহত হয়েছেন। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর এনটিসির অন্তর্ভুক্ত ত্রিপোলি রেভল্যুশনারি কাউন্সিল (টিআরসি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিল, মুতাসিমকে সিরত থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনগাজিতে নেওয়া হয়েছে। ফলে সিরত শহরে গাদ্দাফি ও তাঁর ছেলের একই সঙ্গে মৃত্যুর সময়কার যে পরিস্থিতি এনটিসি বর্ণনা করছে, তা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। 
গত ২৩ আগস্ট লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির চূড়ান্ত পতনের পর গাদ্দাফির অনুগত যোদ্ধারা তাঁর জন্ম শহর সিরতসহ কয়েকটি শহরে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছিল। গতকাল গাদ্দাফির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সিরতেরও পতন হয়েছে বলে দাবি করেছে এনটিসি।
তবে গতকাল এনটিসির ঘোষণার আগেই বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গাদ্দাফির রক্তাক্ত ছবি ও ভিডিওচিত্র। কোনো এক এনটিসি যোদ্ধার মুঠোফোনে ধারণ করা ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, গাদ্দাফিকে জীবিত আটক করা হয়। এ সময় তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল ও ঘাড় রক্তে ভিজে যাচ্ছিল। তিনি হাঁটার চেষ্টা করছেন আর তাঁকে টানাহেঁচড়া ও বিদ্রূপ করছেন এনটিসি যোদ্ধারা। একপর্যায়ে তাঁকে টেনে তোলা হয় একটি গাড়ির সামনের বনেটের ওপর। সেখানে থেকেও তাঁকে আবার টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়। একজন গাদ্দাফির মাথা বরাবর বন্দুক তাক করে ধরেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে তখনই গুলি করেছেন কি না, তা ভিডিওতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। বিবিসি, আল আরাবিয়া ও আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন টেলিভিশন এই ভিডিওচিত্র প্রচার করে।

আল-জাজিরা টেলিভিশনের খবরে দেখা যায়, এক ব্যক্তি নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেছেন, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেউ একজন নাইন এমএম আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গাদ্দাফির পেটে গুলি করেছেন। 
গাদ্দাফি ঠিক কীভাবে নিহত হলেন, তা নিয়ে এনটিসি কমান্ডার ও যোদ্ধারাই দুই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন। একটি ভাষ্য, ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন গাদ্দাফি। এনটিসি বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদেল মজিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার খুব সকালের দিকে একটি গাড়িবহর নিয়ে গাদ্দাফি সিরত শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওই গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো।’
আবদেল মজিদ পরে বলেন, ‘গাদ্দাফি মারা গেছেন। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।’
সিরত শহরে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ন্যাটো। তারা বলেছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই বিমান হামলা চালানো হয়।
দ্বিতীয় ভাষ্য এমন—এনটিসি যোদ্ধাদের একটি অংশ বলছে, তারাই গাদ্দাফিকে খুঁজে বের করে। তিনি শহরের রাস্তার একটি কালভার্টের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে টেনে বের করা হয়। তখন গাদ্দাফি বারবার বলছিলেন, ‘গুলি কোরো না, গুলি কোরো না।’
এনটিসির প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিল গতকাল সন্ধ্যায় ত্রিপোলিতে এক সংবাদ সম্মেলনে গাদ্দাফির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জিবরিল বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, গাদ্দাফিসহ সব অশুভ শক্তি আমাদের প্রিয় দেশের মাটি থেকে বিদায় নিয়েছে। দেশবাসীকে এটা উপলব্ধি করা দরকার, নতুন লিবিয়া গড়ে তোলার সময় এসেছে।’
এর আগে এনটিসির মুখপাত্র আবদেল হাফিজ ঘোগা বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে জানাচ্ছি, বিপ্লবীদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে। গাদ্দাফির নিয়তি যা ছিল, তা-ই ঘটেছে।’
video

সিরত শহরের চিকিৎসক আবদু রউফ জানান, লড়াইয়ে গাদ্দাফি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু বকর ইউনুস নিহত হয়েছেন। তাঁর লাশ একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানেই লাশটি আবু বকর ইউনুসের বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনটিসি বাহিনীর ১১তম ব্রিগেডের কমান্ডার আবদুল হাকিম আল জলিল বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু বকর ইউনুসের লাশ আমি নিজে দেখেছি।’ এ ছাড়া গাদ্দাফি সরকারের সাবেক মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিমকেও আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরে তুমুল লড়াই চলছিল সিরত শহরে। গতকাল এনটিসি দাবি করেছে, ওই শহর এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে। গত আগস্টে ত্রিপোলি পতনের পর থেকে গাদ্দাফির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। এর পর থেকে এনটিসির মূল লক্ষ্য ছিল গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি সিরত।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জিবরিল বলেন, গাদ্দাফির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ছেলে সাইফ আল ইসলামের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে অসমর্থিত খবরে তিনি জানতে পেরেছেন। সিরত শহরের কাছে সাইফের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
পরে এনটিসির বিচারমন্ত্রী জানান, সাইফ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ত্রিপোলি থেকে বিবিসির সাংবাদিক ক্যারোলিন হাওলি জানান, ত্রিপোলিতে যানবাহনের হর্ন বাজিয়ে, আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস প্রকাশ করছে লোকজন। তারা একে অন্যকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
কিন্তু গাদ্দাফিপন্থী টেলিভিশন আল-লিবিয়ার ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, ‘গাদ্দাফিকে আটক বা হত্যার দাবি করে ন্যাটোর তাঁবেদাররা যে খবর দিচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। গাদ্দাফি সুস্থ আছেন।’
সিরত শহরের পুরো অংশ এনটিসি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে দাবি করে বাহিনীর কর্নেল ইউনুস আল আবদালি বলেন, ‘সিরত এখন স্বাধীন। কোথাও গাদ্দাফির বাহিনী নেই। এখন আমরা তাঁর যোদ্ধাদের খুঁজে ফিরছি।’
১৯৬৯ সালে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। ক্রমে সমাজতন্ত্র ও ইসলামি আদর্শের মিশেলে এক নিজস্ব রাজনৈতিক মতবাদ গড়ে তোলেন তিনি। টানা ৪২ বছর দেশ শাসন করেন গাদ্দাফি। চলতি বছরের প্রথম দিকে আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো লিবিয়ায়ও সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। কয়েক মাসের আন্দোলন ও সশস্ত্র যুদ্ধের পর অবশেষে গত ২৩ আগস্ট ত্রিপোলির পতন ঘটে। এরপর আত্মগোপনে চলে যান ৬৯ বছর বয়সী গাদ্দাফি। 
এর আগে গত ২৮ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে এবং গোয়েন্দাপ্রধানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ জানিয়েছে, গাদ্দাফির লাশ মিসরাতা শহরে নিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ছেলের লাশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ অক্টোবর, ২০১১ 

একজন যোগাযোগমন্ত্রী এবং পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ

এই লেখাটির বিষয় ভারাক্রান্ত মনের এক বঙ্গসন্তানের দীর্ঘশ্বাস এবং পদ্মাপাড়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার অপমৃত্যুতে কাতর এক নাগরিকের দীর্ঘ হতাশা। এক সপ্তাহ ধরে পত্রপত্রিকাসহ গণমাধ্যমে যে খবরটি খুব উচ্চ স্বরে প্রকাশিত হচ্ছে, তা হলো—বিশ্বব্যাংক, পদ্মা সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রীর দুর্নীতি। এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন যে বিশ্বব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠান যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া পদ্মা সেতুর বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলবে সরকারের মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। সরকার এ বিষয়ে কোনো জোরালো প্রতিবাদ তো জানায়নি, এমনকি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি প্রদানে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে মন্ত্রীকে সংবাদকর্মীরা পদত্যাগ করবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি হেসে হেসে চমৎকার উত্তর দিয়েছেন, ‘আমার অপসারণ আমার হাতে নেই।’


মাননীয় মন্ত্রী, আপনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, আপনি সত্যি ধন্যবাদের যোগ্য। আপনি অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে সত্য কথা বলেছেন। আপনাকে আমরা ধন্যবাদ দিতে চাই এ জন্য যে আপনি সত্যি আপনার দলের প্রতি এবং দলের প্রধানের প্রতি অসীম আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। আপনার এই বক্তব্য থেকে এও স্পষ্ট যে দল বা সরকার চাইলে আপনি পদত্যাগ করবেন। দল বা সরকার চাইছে না, তাই...। দলের প্রতি আপনার অসীম এই আনুগত্যের কারণে ভবিষ্যতে আপনার আরেকবার মন্ত্রী হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা যে রয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ নেই। এর আগেও আমরা আপনাকে দেখেছি, দামি একটা গাড়িতে চড়ে সারা দেশের ছিন্নভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাত নেড়ে টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনের মতো হাসি ছড়িয়ে ‘রোদ হলে ঈদের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে’ বাণী দিয়েছেন টিভিতে। যেখানে ঈদের আগে ট্রেনের টিকিটের জন্য কমলাপুর স্টেশনে মানুষ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হচ্ছে, বাস-লঞ্চযাত্রীরা বেশি পয়সা দিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছে; প্রতিদিন টিভি চ্যানেলগুলো এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেখাচ্ছে। আর আপনি আকস্মিক কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে চমৎকার সাফারি পরে বললেন, ‘দেখলেন, কোনো অভিযোগ নেই।’ কাজেই মাননীয় মন্ত্রী, আপনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। সে সময়ে আপনার এই অসাধারণ নির্বিকারত্ব দেখে লজ্জায়-ক্ষোভে-অভিমানে আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আর কীই-বা করতে পারতাম।
মাননীয় মন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারণ, আপনিই এ দেশের ইতিহাসে প্রথম মন্ত্রী, যিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে দুর্নীতি করেননি—এ মর্মে সনদ চেয়েছেন। দুদক অবশ্য আপনার ডাকে সাড়া না দিয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তোলা আপনার দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে এবং প্রমাণ পেলে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে জনগণের সেবক বলা হলেও বাস্তবে সরকার হচ্ছে শাসক। আমরা বুঝি না, সেই সরকারের কানে কত তুলা দেওয়া থাকলে তার ঘুম ভাঙাতে কতটুকু চিৎকার করতে হবে? কিছুতেই জনগণ তার দাবি-অনুযোগ-অনুরোধ সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারে না। কাগজে-কলমে সরকার তা শোনার জন্য কান পেতে থাকলেও সেই কানে আছে ভারী মোটা তুলা। সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর দেশের প্রায় সব সড়কের অবস্থা বেহাল দেখে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠলে (এমনকি মহান সংসদেও) তখনো সরকারের ঘুম ভাঙেনি। সেদিন আপনি পদত্যাগ করলে আপনার দল ও সরকারের সম্মান তো বটেই, পদ্মা সেতুও রক্ষা পেত। অথচ আপনার বা আপনাদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে আজ পদ্মা সেতুর ভাগ্যও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আপনারা রাজনীতিবিদ এবং জনদরদি মানুষ; তার ওপর মন্ত্রী। আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (অথবা তাঁর কাছের) স্নেহসিক্ত। মহান সংসদে যখন আপনার পদত্যাগের দাবি ওঠে, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের ছায়া দেন। মাননীয় মন্ত্রী, আপনার নিশ্চয়ই অনেক ভালো গুণ এবং যোগ্যতা আছে (না হলে আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী হলেন কীভাবে?), সেগুলো নির্ধারিত স্থানে প্রয়োগ করলেই ভালো হয়। জনগণের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ বাড়িয়ে সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট করে কানে তুলা দিয়ে আপনি যে নিজেকে ক্রমাগত ‘মিস্টার ক্লিন’ প্রমাণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এর ফলে ক্ষতি হচ্ছে কার—তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? এ দেশের এবং দেশের জনগণের। একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আপনার কি তা করা উচিত?
এই তো দু-তিন দিন আগে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করার অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করলেন (কিছুদিন আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও পদত্যাগ করলেন)। এসব ঘটনা কি আপনার বা আপনার সরকারের চোখে পড়ে না। গত তিন বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনও তো কম নয় (বিরোধী দল যত নিন্দাই করুক)। কিন্তু এসব অর্জন আজ যায় যায় অবস্থা। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং তার সরকারের সুনাম ও স্বচ্ছতার স্বার্থে আপনাকে পদত্যাগপত্র দিতে বললে এই রাষ্ট্র বা আপনার কি খুব ক্ষতি হয়ে যাবে?
ধরে নিলাম, রাষ্ট্রের কোথাও ছোটখাটো কিছু একটা হলেই এ দেশের সুশীল সমাজ (বিশ্বব্যাংক সুশীল সমাজের পদভুক্ত কি না, তা প্রমাণের জন্য তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন) গলাবাজি করে মিডিয়া ও মানুষের মাথা খারাপ করে তোলে এবং সে ধরনের লঘু পাপের জন্য তারা গুরুদণ্ড দিয়ে আপনাকে বিদায় করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যদি তা-ও হয় এবং আপনার এ পদত্যাগের কারণে পদ্মা সেতুর সম্ভাবনার স্বপ্ন আমরা ষোলো কোটি মানুষ দেখতে পারি, তাহলেও কি এটুকু ত্যাগ আপনি করতে পারেন না?
সৌরভ সিকদার: লেখক, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
jeweel1965@gmail.com

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ অক্টোবর, ২০১১

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১

অর্থমন্ত্রী না জানলে জানবে কে?

সমস্যাটি পুঁজিবাজার নিয়ে। জানুয়ারিতে যে ধসের শুরু, তা কোনোভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। এখন অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে, তা আমি জানি না।’ বোঝা গেল তিনি অসহায়, তা না হলে এমন কথা কি অর্থমন্ত্রী বলতে পারেন! ব্যাপারটি অনেকটা আত্মসমর্পণের মতো। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে যাঁরা সব খুইয়ে বসেছেন, তাঁদের কাছে এ আত্মসমর্পণের কোনো অর্থ আছে কি? আর এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, পুঁজিবাজার সমস্যার সমাধান যদি অর্থমন্ত্রী না জানেন, তবে জানবে কে?
অর্থমন্ত্রীই যখন পুঁজিবাজারের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তখন সে বাজারের আর কী ভবিষ্যত্ থাকতে পারে! আজ বুধবার সূচক আরও কমেছে, কমেছে শেয়ারের লেনদেনও। অর্থমন্ত্রীর ‘সমাধান জানি না’ ঘোষণার কারণেই বাজারের এই পতন কি না, কে জানে! পুঁজিবাজারে ধস শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থমন্ত্রী যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাতে এই বোধোদয়ও তাঁর হয়েছে যে পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়। ‘পুঁজিবাজার নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। আমি কোনো কথা বললেই নাকি বাজার ধ্বংস হয়ে যায়।’ কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করতে না চেয়েও অর্থমন্ত্রী এই যে মন্তব্য করলেন (সমাধান জানি না) তা তো আতকে ওঠার মতো।
অর্থমন্ত্রীর এই ‘সত্’ স্বীকারোক্তির পর বিষয়টি অনেকটা এমন দাঁড়াল যে পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর আর কোনো দায় রইল না। এমন পুঁজিবাজারের দায় আসলে কে-ইবা নিতে চায়! বাজার পরিস্থিতি যখন ভালো ছিল তখন চাঙা পুঁজিবাজারের ‘দায়’ নিতে অবশ্য সরকার বা সরকারের লোকজনের অভাব পড়েনি। এখন কেউ আর এ নিয়ে কথা বলেন না, বলতে চান না। অর্থমন্ত্রীও সেই পথ ধরলেন। পুঁজিবাজারে যাঁরা সংকট সৃষ্টি করেছেন, তাঁদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংকট সামাল দেওয়ার জন্য—এমন অভিযোগ করেছিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সাংবাদিকদের কাছে এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, ‘আমরা কাউকে দায়িত্ব দেইনি। তাঁরা নিজেরই দায়িত্ব নিয়েছেন।’ অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয় কাউকে দায়িত্ব না দিলেও যদি কেউ পুঁজিবাজারের দায়িত্ব নিয়ে নিতে পারেন, তবে এ মন্ত্রণালয়ের অস্তিত্বটাই কী অনেকটা প্রশ্নের মুখে পড়ল না!

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৯ অক্টোবর, ২০১১ 

সবচেয়ে পাতলা স্মার্ট ফোন আনলো মটোরোলা

বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা স্মার্ট ফোন আনলো মটোরোলা। ‘ড্রয়েড রেজর’ নামের এ ফোনটির বিষয়ে মটোরোলা বলছে, এটি ‘অসম্ভব পাতলা’ যাতে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিল কোর, গরিলা গ্লাস স্ক্রিন এবং ন্যানোপ্রযুক্তির স্প্লার্স গার্ড যা ভিতরের ইলেকট্রিক বোর্ডকে রক্ষা করে।


এ ফোনটি মাত্রই ৭.১ মিলিমিটার পুরু। ৪.৩ ইঞ্চি স্ক্রিন সাইজের এ ফোনটি সুপার অ্যামোলিড ডিসপ্লের।

মটোরোলা মবিলিটি প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় ঝা জানিয়েছেন, এ ফোনটি স্যামসাংয়ের তৈরি গ্যালাক্সি ফোনগুলোর মতোই এবং কনট্রাস্ট এবং কালারের দিক থেকে অ্যাপলের আইফোন ৪ এস এর চেয়েও উন্নত। ১.২ গিগাহার্জ প্রসেসর বিশিষ্ট এ মোবাইল ফোনে নেটফ্লিক্স থেকে এইচডি মুভি ডাউনলোড করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড জিঞ্জারব্রেড অপারেটিং সিস্টেমচালিত মটোরোলা রেজরে রয়েছে ওয়েবটপ ইন্টারফেস। উন্নত ব্যাটারি সুবিধার এ ডিভাইসটি বেশি শব্দ বা কম শব্দের স্থানগুলোতে ¯^য়ংক্রিয় ভাইব্রেশন মোডে চলে যায়। ফলে অনাকাক্সিখত ঘটনা এড়ানো যায়।

এ ফোনটির বিশেষ ফিচার হচ্ছে মটোকাস্ট’ যা সরাসরি কম্পিউটার থেকে সিনক্রোনাইজ করার সুবিধা দেয়।

ভেরিজনের সঙ্গে ২ বছরের চুক্তিতে এ ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ৩০০ ডলার।

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১১

অনলাইনে আয়ের সহজতম পথ সাইট টক!! পর্ব -১

গাজী মোঃ ইয়াছিন

প্রথমেই বলি Unaico Holding Ltd. একটি Multi Level Marketing কোম্পানী। পৃথিবীতে যত MLM কোম্পানী আছে তাদের চেয়ে Unaico Holding Ltd. এর বিজনেস প্লাটফর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে পৃথিবীতে ৩ টি ব্যবসায় পদ্ধতি চালু আছে। এগুলো হলঃ
1)      Direct Selling
2)      Online Community and
3)      Traditional Marketing.
এ ৩টি পদ্ধতির সমন্বয়ে Unaico একটি নতুন বিজনেস প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। আর সাইট টক ইউনাইকোর Online community ঠিক ফেসবুকের মত। ফেসবুকের আয়ের পদ্ধতি আর সাইট টকের আয়ের পদ্ধতি একই রকম। ফেসবুক একবার লগইন করলে তাদের আয় হ্য় ৮৫ ইউ এস ডলার,  আর লগিনের বিনিময়ে আমরা পাই বিনোদন। সাইট টক সপ্তাহে ১ বার লগইন করলে প্রতি আই ডি মেচিং বোনাস ১০ সেন্ট দিবে।


কেন টাকা দিবেঃ

সাইট টক তাদের Online Community কে শক্তিশালী করার জন্য এর ইউজারদের একটি সুযোগ দিয়েছে। আর যেহেতু তারা একটি MLM কোম্পানী, সেহেতু ব্যবসা করতে হলে ইউজার দের টাকা দিতেই হবে। ফেসবুকের চেয়ে শক্তিশালী অনলাইন Community গড়তে হলে এর কোন বিকল্প নেই।   

ইউজার হিসেবে আপনার করনীয়ঃ

একজন ফ্রী ইউজার হিসেবে শুরু করতে পারেন। এ জন্য যে কারো রেফারেন্সে একটি আই ডি তৈরি করতে হবে। তারপর আপনার রেফারেন্সে ডান ও বাম পাশে যত আই ডি মেচিং করতে পারবেন ততই ইনকাম হবে। ধরুন আপনার বাম পাশে ৫০০ আই ডি আছে, আবার ডান পাশে আছে ৬০০ আই ডি। তাহলে আপনার মেচিং হবে ৫০০ আই ডি। কারন যে পাশ ছোট থাকবে, সে পাশকে হিসাবে ধরা হবে।  তাহলে কোম্পানী আপনাকে দিবে মেচিং এর ১০% অর্থাৎ ৫০০*১০%= ৫০ ইউরো প্রতি সপ্তাহে। তাহলে মাসে ৫০*৪=২০০ ইউরো যা বাংলাদেশি টাকায় ২০,০০০ টাকার বেশি।

ফেক না কি রিয়েল আই ডিঃ 

ফেক নাকি রিয়াল আই ডি এই নিয়ে আমাদের মহা সমস্যা। সত্যি বলতে ভুয়া জিনিস চিরকালই ভুয়া। তবে ফেক আই ডি থেকে আপনি যে সুবিধা পাবেন তা সাময়িক। তবে জন প্রতি ২০০/৩০০ ফেক আই ডি হলে সমস্যা নাই। তাই বলে হাজার হাজার বানালে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যতটা সম্ভব রিয়েল আই ডি তৈরি করাই ভাল।  তবে আশার কথা, সাইট টক বাংলাদেশে ব্লক করা আই ডি গুলো খুলে দিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে কি অনুমোদিতঃ

বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ইউনাইকোর অনুমোদন প্রায় চূড়ান্ত। আগামী মাসের যে কোন সপ্তাহে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করবে ইউনাইকো।  


আজ এতটুকুই, আগামী পর্বে আরও বিস্তারিত তথ্য নিয়ে হাজির হব আশা করছি।  

সবার সু স্বাস্থ্য কামনা করে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ। 

আওয়ামী লীগ, তুমি কার?


সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, তাঁরা এখনো বিরোধী দলে আছেন। দেশে যেকোনো অঘটন ও সমস্যার দায় বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের ওপর চাপালেই যেন তাঁদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।


সরকারের কোনো ব্যর্থতা, দুর্বলতার কথা বললেই মন্ত্রীরা বিগত বিএনপি সরকারের উদাহরণ টানেন। ভাবখানা এমন যে, ‘ওরা দশটা মেরেছে, আমরা তো মাত্র পাঁচের চৌকাঠই পার হইনি, এখনই আমাদের সমালোচনা করা কেন?’ সন্ত্রাস ও দুর্নীতি এমনই ভয়ংকর সংক্রামক যে তা মুহূর্তেই মহামারিতে রূপ নিতে পারে।


সরকারের প্রথম বছরে মন্ত্রীরা বিরাট বিরাট প্রকল্পের তালিকা তৈরি করলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়া হয়ে যাবে বলে দেশবাসীকে খোয়াব দেখালেন। দ্বিতীয় বছরে এসে বললেন, বিএনপি-জামায়াত দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। দেশের জন্য কিছু করতে গেলেই ওরা ষড়যন্ত্র করে। সরকারের জনপ্রিয়তা যত কমতে থাকে, ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব তত ডালপালা মেলতে থাকে। মন্ত্রীরা যখন বলেন, আমরা সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছি, সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় তো দিতে হবে। জনগণ তাতে আপত্তি করেনি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে যখন বললেন, ‘তিন বছরে আমি কিছু দিতে পারব না’, জনগণ কিন্তু তা হূষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের হা-ভাতে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুকে সেই সময় দেননি। তাঁরা দেশে ফিরেই ‘যুদ্ধ শেষের প্রাপ্য’ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন। খুনোখুনিতে মাতলেন। মহসীন হলে সাত খুন তার একটি উদাহরণ মাত্র।


এবারও শেখ হাসিনা যতই দিনবদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান না কেন; ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মী-ক্যাডাররা দখলবাজি-টেন্ডারবাজিতে নিয়োজিত হলো। শেখ হাসিনা যাঁদের ‘নবীন ও নিষ্পাপ’ নেতা হিসেবে প্রার্থী করেছিলেন, নির্বাচনে জিতেই তাঁরা একেকজন মোগল সম্রাট হয়ে বসেন। বিএনপির আমলে বিএনপির সাংসদেরা যে ধরনের মাস্তানি, দখলবাজি করতেন; আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগের সাংসদেরাও তা-ই করছেন। তখন জাতীয়তাবাদী জনসেবকেরা রাজমুকুট পরতেন। এখন বঙ্গবন্ধুর সাচ্চা সেনারা সোনার নৌকা উপহার নিচ্ছেন।


সরকারের মেয়াদ ইতিমধ্যে প্রায় ৩৩ মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু বড় কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণেও তাদের চেষ্টা নেই। রুটিন-কাজ করছে মাত্র। আমরা কথা বলছি তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম পাঁচ অগ্রাধিকারে ছিল: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, দারিদ্র্য ঘুচাও ও বৈষম্য রুখো, এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এখন পাঠকই বিচার করুন, সরকার কোন কোন ক্ষেত্রে তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করতে পেরেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে পারেনি। সরকার এক শ ভাগ সফল হবে সেই দাবি কেউ করে না। কিন্তু মানুষ দেখতে চায় সরকার যা বলছে, তা করতে আন্তরিক কি না?


প্রথম দুই বছর সরকার কিছু কিছু ভালো কাজ করলেও তৃতীয় বছরের শেষ দিকে এসে সবকিছু ওলট-পালট করে ফেলছে। মনে হচ্ছে, সরকার যেখানে হাত দেয়, সেখানেই জট বাঁধে। ফলে মন্ত্রীরা আত্মরক্ষার জন্য বিরোধী দলকে গালমন্দ করতেই বেশি সময় ব্যয় করছেন। এর অর্থ এই নয়, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশটা ভালো চালিয়েছিল। বরং তুলনা করলে এখনো অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আগের সরকারের দুর্নীতি-সন্ত্রাসের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। কিন্তু মন্দ সূচক কমানোই সুশাসনের লক্ষণ নয়।


বিএনপি ২০০১-২০০৬ সালে দেশ ভালো চালাতে পারেনি, জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বলেই মানুষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ভালো কিছু পাবে—এই আশা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা সেই পুরোনো ভাঙা রেকর্ডই বাজিয়ে চলেছেন—বিএনপির আমলে এটা হয়নি-ওটা হয়নি। আমরা করব, করছি। এই করছি, করবর সরকার চাই না। আমরা এমন একটি সরকার চাই, যারা মুখে নয়, কাজ করে দেখাবে। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করবে।


আওয়ামী লীগের নেতাদের বড় অভিযোগ, বিএনপি মৌলবাদী জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করেছে, ২০০১ সালে ১০ টাকা কেজি রেখে এলেও বিএনপি সরকার ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আজ্ঞাবহ করেছিল। এসব অভিযোগ জনগণের জানা এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তার ফয়সালাও হয়ে গেছে। এখন ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে লাভ কী?


আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের আগেই উন্নয়নের একটি রূপকথা উত্থাপন করেছিল—যার নাম দেওয়া হয়েছিল দিনবদল। কিন্তু ক্ষমতার আড়াই-পৌনে তিন বছর পর মন্ত্রী, দল, নেতা-কর্মী, ক্যাডারদের ‘দিনবদল’ হলেও সাধারণ মানুষের দিনবদল হয়নি।


প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের উন্নয়নে ও মানুষের কল্যাণে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই কাজের ফল তো এখনো দৃশ্যমান নয়। মহাজোট সরকার মোটা দাগে যেসব প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছিল, তার কটি পূরণ হয়েছে, কটি হয়নি, কেন হয়নি—এখন তার হিসাব দেওয়ার সময় এসেছে। আর হিসাব না দিলে জনগণ ভোটের সময় তা কড়ায় গন্ডায় আদায় করে নেবে।


আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। দায়িত্ব নিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছিলেন, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, যোগাযোগমন্ত্রীই পদ্মা সেতুর প্রধান বাধা। বিশ্বব্যাংক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই মন্ত্রী থাকতে তারা পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করবে না। বিশ্বব্যাংক না করলে এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতা সংস্থাও পিছিয়ে যাবে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ—বিতর্কিত ও অভিযুক্ত মন্ত্রীকে বহাল রাখা, নাকি কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন?


সরকারের আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা। কিন্তু বাজার-পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর পেছনে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের যেমন কারসাজি আছে, তেমনি আছে সরকারের খবরদারির অভাব। বাণিজ্যমন্ত্রী কথা বললেই পণ্যের দাম বাড়ে। তিনি ব্যবসায়ীদের ইমানের পরীক্ষা নেন, আর সাধারণ মানুষের পকেট কাটা যায়।


আওয়ামী লীগের আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো বলবেন, বিএনপি-জামায়াতের আমলে গোটা দেশে জঙ্গিদের উৎপাত ছিল, বোমাবাজি ছিল। এখন সেই অবস্থা নেই। কিন্তু এখনো তো মানুষ খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে, অপহূত হচ্ছে, ক্রসফায়ারে মারা যাচ্ছে। এসব কি আইনশৃঙ্খলার উন্নতির লক্ষণ?


এই সরকারের আমলে যে বিষয়টি জনগণকে মহা বিপাকে ফেলেছে, সেটি হলো শেয়ারবাজার। পুঁজিপাট্টা হারিয়ে হাজার হাজার খুদে বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন। দুজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন বলেও পত্রিকায় খবর এসেছে। কিন্তু সরকার এর প্রতিকারে কিছুই করেনি। বরং তদন্ত কমিটি যাঁদের প্রতি সন্দেহের তীর ছুড়েছিল, তাঁদের এসইসিতে জামাই আদরে বসানো হয়েছে। সরকার কি মনে করে আগামী নির্বাচনে এই লাখো লাখো খুদে বিনিয়োগকারীর দীর্ঘশ্বাসের প্রতিফলন পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। এখন শেয়ারবাজার মানেই মস্ত বড় আতঙ্ক। এক দিন দাম বাড়লে এক সপ্তাহ ধরে কমতে থাকে।


সরকার খুব জোরের সঙ্গে বলেছিল, ভারতের সঙ্গে সব বিরোধের নিষ্পত্তি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে দিল্লিতে গিয়ে যৌথ বিবৃতিতে সই করলেন, দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধানের রূপরেখাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই রূপরেখা অনুযায়ী কাজ হয়নি। বিশেষ করে, যে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে এত শোরগোল, এত আলোচনা—সেই চুক্তিটিও ঝুলে আছে।


গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী নীলফামারীর জনসভায় বলেছেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে। আমাদের প্রশ্ন—কবে হবে? এখন শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পানি বণ্টনের সঙ্গে জ্বালানি খাতের উন্নয়নও যুক্ত করতে চায়। প্রশ্ন হলো, নতুন প্রেক্ষাপটে আলোচনা করতে গেলে তিস্তার সমস্যাটি আরও বেশি অনিশ্চিত হবে কি না?


এ রকম আরও অনেক খাত ও প্রকল্প আছে, যা ক্ষমতায় আসার পর সরকার বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কবে বাস্তবায়িত হবে, কেউ জানে না।


গতকালের পত্রিকায় দেখলাম, দাতাদের সঙ্গে নির্ধারিত উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। কারণ জানানো হয়নি। এর অর্থ কি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আমাদের নানারকম ঝামেলা চলছে? না হলে নির্ধারিত বৈঠক পেছাবে কেন?

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যে মহানাটক মঞ্চস্থ করল, তার রেশ এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুজন প্রার্থী ছিলেন—সেলিনা হায়াত আইভী ও শামীম ওসমান। দুজনই খ্যাতিমান, তবে দুই কারণে।


মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন দলের পক্ষ থেকে জানানো হলো, দল কাউকে সমর্থন করছে না। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের তিন সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ওসমানের সভায় গিয়ে সমর্থন জানিয়ে আসেন।

এদিকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। যাঁরা একজন প্রতিনিধির পক্ষে বক্তৃতা দিয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবেই করেছেন। শুক্রবার দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও একই বাণী দিয়েছেন।

আমাদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের এই স্ববিরোধী ভূমিকা কেন? তারা যা বলে, কাজ করে তার বিপরীত। অথবা আওয়ামী লীগের ভেতরে এমন কোনো শক্তি আছে, যারা দলের সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সবকিছু দেখে একটি প্রশ্নই মনে জাগে—আওয়ামী লীগ, তুমি কার?

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৫ অক্টোবর, ২০১১ 


শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১১

অর্থ ফেরতের দাবি ইউনির্ভার্সাল আমানতকারী পরিষদের

শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০১১

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছে ইউনির্ভার্সাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (ইউসিএল) আমানতকারী পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির অডিটরিয়ামে ইউনিভার্সাল আমানতকারী পরিষদ এ দাবি জানায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহবায়ক আ ফ ম নুরুল আলম মজুমদার, যুগ্ন আহবায়ক মাও. কাফিল উদ্দিন সরকার, সদস্য সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন, আমানতকারি শওকত হোসেন, সামস নুর, মো. কবির হোসেন, মো. জয়নাল আবেদিন, আবুল কাসেম, মোস্থাফিজ উল্লাহ, জাফরিন জামান সূচি প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ইউসিএলের এম ডি জহিরুল কাইয়ুম আমানতকারীদের ৪৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৭৫৫ আমানতকারির জমাকৃত অর্থ ফেরৎসহ সঙ্গবদ্ধ চক্রটির বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সুত্রঃ মানবজমিন 


BDwmG‡ji 43 †KvwU UvKv AvZ¥mv‡Zi Awf‡hvM



KvMR cÖwZ‡e`K : BDwbfvm©vj †Kv-Acv‡iwUf †mvmvBwU wjwg‡U‡Wi (BDwmGj) AvgvbZKvix‡`i 43†KvwU UvKv AvZ¥mv‡Zi Awf‡hvM D‡V‡Q| BDwmG‡ji GgwW Rwniæj KvBq~g (Rwni)mn K‡qKRb Amvay Kg©KZ©vi GKwU msNe× Pµ cÖwZôv‡bi cÖvq 1 nvRvi 755 Rb AvgvbZKvix Zv‡`i RgvK…Z AvZ¥mvr K‡i‡Qb e‡j Awf‡hvM cvIqv †M‡Q| GB A_© †dirmn m½e× PµwUi Dchy³ wePv‡i miKv‡ii mn‡hvwMZvi `vwe Rvwb‡q‡Qb fz³‡fvMx AvgvbZKvixiv|
MZKvj e„n¯úwZevi XvKv wi‡cvU©vm© BDwbwU BDwbfvm©vj †Kv-Acv‡iwUf †mvmvBwU wjwg‡U‡Wi AvgvbZKvix‡`i msMVb BDwbfvm©vj AvgvbZKvix cwil` Av‡qvwRZ msev` m‡¤§j‡b G `vwe Rvbv‡bv nq| msev` m‡¤§j‡b Dcw¯’Z wQ‡jb BDwbfvm©vj AvgvbZKvix cwil‡`i AvnŸvqK Av d g byiæj Avjg gRyg`vi, hyM¥-AvnevqK gvI. Kvwdj DwÏb miKvi, m`m¨ mwPe †gvt wMqvm DwÏb, AvgvbZKvix kIKZ †nv‡mb, mvgm byi, †gvt Kwei †nv‡mb, †gvt Rqbvj Av‡ew`b, Aveyj Kv‡mg, †gv¯ÍvwdR Djøvn, Rvdwib Rvgvb m~wP cÖgyL|
msev` m‡¤§j‡b fz³‡fvMxiv Rvbvb, BDwmG‡ji GgwW Rwniæj KvBqyg AvgvbZKvix‡`i m‡½ cÖZviYv K‡i AvgvbZK…Z 43 †KvwU UvKvi †Kv¤úvwbi GKvD‡›Ui gva¨‡g wiwmf bv K‡i wb‡Ri e¨w³MZ GKvD‡›Ui gva¨‡g wiwm‡fi gva¨‡g AvZ¥mvr K‡i| PµwU me©‡gvU 43 †KvwU UvKv Ab¨Î mwi‡q MZ 2010 mv‡j 4 wW‡m¤^i cÖwZôv‡b Zvjv Szwj‡q w`‡q cvwj‡q hvq| cÖwZôv‡b 1755 Rb AvgvbZKvix Zv‡`i Avgvb‡Zi UvKv †diZ I jf¨vsk cvIqvi Rb¨ Awd‡m R‡ov n‡Z _v‡K| eZ©gv‡b AvgvbZvKixiv GLb c‡_ e‡m †M‡Q| 

সুত্রঃ ভোরের কাগজ



video






বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

গুগল আনছে প্রোগ্রামিংয়ের নতুন ভাষা 'ডার্ট'

‘ডার্ট’ নামের একটি প্রোগ্রামিং ভাষা আনছে গুগল। জাভার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে ডার্ট। গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডার্ট নামের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামারদের কাজে লাগবে এবং জাভায় যে ঘাটতি রয়েছে সেটি ডার্ট পূরণ করতে সক্ষম হবে।

ডার্ট-এর প্রোগ্রামার এবং প্রকল্প পরিচালক লার্স বাক ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত গোটু কনফারেন্সে ডার্টের বিস্তারিত জানিয়েছেন।

বাক জানিয়েছেন, ‘আমরা যদি সময়ের সঙ্গে ওয়েবকে আরো উন্নত করতে চাই, আমাদের নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে, যার মধ্যে নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজও রয়েছে।’

গুগল কর্তৃপক্ষ ডার্ট ল্যাঙ্গুয়েজ সাইট নামে একটি ওয়েবপেজও খুলেছে; যাতে ওপেন সোর্স টুলভিত্তিক ডার্ট প্রোগ্রাম লেখা, কোড স্যাম্পল, টিউটোরিয়াল, সফটওয়্যার লাইব্রেরিসহ ফোরাম রাখা হয়েছে।

বাক আরো জানিয়েছেন, ডার্ট জাভার বিকল্প হলেও জাভাকে একেবারেই বাদ দেয়া যাচ্ছে না। এখনো জাভাই ওয়েবের প্রাণ এবং এটি এখনো অনেকদিন টিকে থাকবে।

পদ্মার ঢেউ রে, মোর শূন্য হূদয়পদ্ম নিয়ে যা...

আমার হূদয় আজ শূন্য। আমাদের হূদয় আজ শূন্য। আমাদের সকলই আজ শূন্য। আমাদের হূদয়পদ্ম শুকাইয়া গিয়াছে। আমাদের হূদয়পদ্মের পাপড়ি ঝরিয়া পড়িয়াছে। আমাদের হূদয়পদ্মের রেণুগুলি আজ পচিয়া দুর্গন্ধ ছড়াইতেছে। পদ্মার ঢেউ, তুমি আমাদের এই শূন্য, রিক্ত হূদয়খানি লইয়া যাও। আমরা হূদয়হীন হইয়া থাকি, তাই আমাদের সয়। কিন্তু এই অপমান কীরূপে সই?
আমরা কীরূপে মুখ দেখাইতেছি? জগৎ আমাদিগকে লইয়া হাসাহাসি করিতেছে। জগৎসভায় আমাদিগকে লইয়া বিচার বসিতেছে। 

আমরা টাকা ধার লইতে গিয়াছিলাম। আমরা খাতক। আমরা অধমর্ণ। আমরা ঋণপ্রত্যাশী। তাই আমরা গিয়াছিলাম বিশ্বমহাজনের দ্বারে। তাহারা আমাদিগকে ঋণ দেয় নাই। মুখের ওপরে দরজা বন্ধ করিয়া দিয়াছে। শাসাইয়া দিয়াছে। বলিয়াছে, যা, যা! ঋণ চাইতে এসেছিস কোন মুখে? যা, আগে ঘর সামলা। টাকা নিয়ে তো উড়িয়ে দিবি। ওই টাকা ওড়ানো স্বভাবটা আগে শোধরা গে যা। তারপর টাকা চাইতে আসিস। এই, তোদের লজ্জা করে না ধার করে বাবুয়ানা করতে? ঋণ করে তোরা ঘি খাস, তা খা গে যা। কর্জের টাকায় তোরা কী করে দুর্নীতি করিস? ওই টাকাটা তো তোদের শোধ করতে হবে, নাকি? তোদের প্রত্যেকটা মানুষের ঘাড়ে সমান মাপে বসবে ঋণের বোঝা। সেই টাকাটা তোরা নয়-ছয় করিস কী করে? সকলের ওপরে চাপে যে ঋণের বোঝা, কয়েকজন মিলে সেই টাকাটা হাপিস করে ফেলে, তোরা কিছু বলিস না কেন? যা, আগে নিজের হাতটা সাফসুতরো কর। তারপরে আসিস।

হে পদ্মা, হে প্রতাপশালিনী, প্রমত্তা, অতিবিখ্যাত পদ্মা, তোমাকে উপলক্ষ করে এত নিন্দামন্দ আমাদের শুনতে হলো! এত গালমন্দও আমাদের কপালে ছিল!

পদ্মা, হে পর্বতদুহিতা, চিরপ্রমত্তা, তুমি জানো, এই দেশ নদীমাতৃক, নদীই মাতা এই দেশের। তুমি, তোমার মতো নদীসমূহ আমাদের এই বদ্বীপটিকে তিলে তিলে গড়িয়া তুলিয়াছে। পাহাড় হইতে নামিয়া আসা ঢল বহিয়া আনিয়াছে পলি, তাহাই জমিয়া জমিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে এই বদ্বীপ। এই দেশ। জন্মই যদি দিলে হে পদ্মা, আমাদিগকে এত অপমান দিলে কেন?

তোমার বুকে আমরা গড়িয়া তুলিতে চাহিয়াছি একখানা সেতু। এই কি আমাদের অপরাধ? আমরা সেতু গড়িব না? আমাদের কপাল এই যে, আমাদের কতগুলি মন্ত্রণালয় আছে, সেতু বানানোর দায়িত্ব তাই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় লাভ করিবেই। এখন সেই মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে, সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে যদি দাতাদের আপত্তি থাকে, তাহার দায়িত্ব এই দেশের নদীতীরস্থ ১৬ কোটি মানুষকেই বহন করিতে হয়! অথচ এই দেশের ১৫ কোটি ৯৯ লাখ মানুষেরই রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সহিত কোনো সম্বন্ধ নাই। একটা সেতু কে নির্মাণ করে, কত টাকায় করে, কত টাকা অপচয় হয়, কত টাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়, কত টাকা কাহার উদরে যায়, সে সম্পর্কে দেশের ৯৯.৯ ভাগ মানুষেরই কোনো জ্ঞান নাই, সম্পৃক্ততা নাই। কিন্তু নিন্দার কালি তাহাদের সকলের মুখেই লাগে।

আমাদের বুকে এই নিন্দা খুব গভীর আঘাত হানিয়াছে। আমাদের হূদয়ে এই অপমান বড় তীব্র হইয়া বাজিয়াছে। আমাদের এক প্রতিনিধি থলি হস্তে গিয়াছিলেন ঋণ আনিতে। ঋণ পান নাই, অপমান পাইয়াছেন, উপদেশ পাইয়াছেন। তাঁহার না-জানি কীরূপ লাগিয়াছে। আমাদের গ্রামদেশে প্রবাদ আছে, ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা তাড়া। তাঁহার অবস্থা হইয়াছে তাহার অপেক্ষা খারাপ। তিনি বলিতেও পারিতেছেন না, ‘লাগবে না তোমার কর্জের টাকা। ভারি তো ধার দিচ্ছ। সুদে-আসলে শোধ দিতে হবে! নেব না! নিজের আয়েই সেতু বানিয়ে ফেলব।’ আবার বলিতেও পারিতেছেন না, ‘আচ্ছা, দেশে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব। সব দুর্নীতিবাজকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করব।’ তিনি এটা বলিতেও পারিবেন না, কারণ, তাঁহার দলে, তাঁহার সরকারে, তাঁহার দেশে কোনো দুর্নীতিবাজ নাই! কখনো ছিল না! শুধু অভিযোগ করিলে চলিবে না, প্রমাণ আনিতে হইবে।

ইহাকেই বুঝি বলে ত্রিশঙ্কু অবস্থা। একেবারে শূন্যে ঝুলিয়া থাকা।

আজ এই নদীমাতৃক দেশটির বড় অপমান হইয়াছে। তাহার মুখে চুনকালি পড়িয়াছে। 
কিন্তু যাহাদের কারণে আমাদের এই অবমাননা, এই দুঃখদুর্দশা, তাহাদের কোনো বিকার নাই, ভ্রুক্ষেপ নাই। তাহারা কেমন সুখে নিদ্রা যাইতেছে। তাহারা কত কথা কহিতেছে। তাহারা কেমন সদুপদেশ দিতেছে! 
হে পদ্মা! তুমি এই মাটি গড়িয়াছ। তুমি এই দেশ গড়িয়াছ। তোমার সন্তানদের এই দুঃখদুর্দশা-অপমান-লাঞ্ছনা দেখিয়া তোমার হূদয় বিদীর্ণ হয় না? তোমার কান্না পায় না? তুমি কীরূপে অশ্রু সংবরণ করিবে?

তোমার সন্তানদের মাথা হেঁট হইয়া গিয়াছে। কিন্তু যাহাদের কারণে আজ সন্তানদের এই সম্মিলিত অবমাননা, তাহাদের মুখে দেখো আকর্ণবিস্তৃত হাসি। টাকা তাহাদের হইয়া কথা কহিতেছে। তাহারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। দেশের অপমান তাহাদের বুকে বাজে না। তাহাদের নিজেদের অপমান তো তাহারা কিছুতেই বোধ করিতে পারে না। তাহারা যে বোধবুদ্ধির ঊর্ধ্বে! তা না হইলে তাহারা তাহারা কেন?

আর কত অপমান আমাদের কপালে লেখা আছে, হে পদ্মা! সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোর কাছেই শুধাই, বল, আমাদের লজ্জা-অপমানের কি কোনোই কূলকিনারা নাই? নদীর এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে, কিন্তু আমাদের কেন দুই কূলই ভাঙে? আমাদের সবকিছু কেন ভাঙিয়া পড়িতেছে? আমরা কী পাপ করিয়াছি?

পদ্মা রে! আমরা আর সহিতে পারিতেছি না। নিজের অবমাননা, নিজের অপমান সহ্য হয়। দেশের অপমান যে সইতে পারি না। মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমাদের যে নয়নজলে ভাসিতে হয়। আজ আমাদের নয়নজলে ভাসিতেই হইবে। অনেক কান্না কাঁদিয়াও যে আমরা এই অপমানের জ্বালা ভুলিতে পারিতেছি না। আমাদের ধনসম্পদ কখনোই ছিল না। ছিল কিছুটা মানসম্মানবোধ। আজ তাহাও গেল। সব হারাইয়া আমরা নিঃস্ব, রিক্ত, আমরা আজ শূন্যহূদয়।

পদ্মার ঢেউ রে, তুই আছড়াইয়া পড়। আমাদের শূন্যহূদয় তুই লইয়া যা। আমাদিগকে মারিয়াই বাঁচাইয়া তোল।


আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১১ অক্টোবর, ২০১১ 

আইপ্যাডের জন্য গেমিং অ্যাপ্লিকেশন আনল ফেসবুক


অবশেষে আইপ্যাডের জন্য বহু-আকাঙ্ক্ষিত অ্যাপ্লিকেশনটি অবমুক্ত করেছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক।এই অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে ফেসবুকের অনলাইন সেবার মোবাইল সংস্করণে সোশ্যাল গেমিংয়ের সুবিধা তৈরি হলো।ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম প্রচলিত রয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমটি হলো ফার্মভিল। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সাধারণত তাঁদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এই গেমটি খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আইপ্যাডের জন্য তৈরি নতুন এই গেমিং অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে আইফোন, আইপ্যাডসহ বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেও ফার্মভিল ধরনের গেমগুলো খেলায় সুবিধা পাওয়া যাবে।এই অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে অ্যালার্ট অপশন। যার মাধ্যমে অনলাইন হওয়া কোনো বন্ধু বা অন্য কেউ যদি গেমগুলো খেলা শুরু করে তাহলে মোবাইলে অ্যালার্ট আসা শুরু হবে।এই অ্যাপ্লিকেশনে বিভিন্ন গেম বুকমার্ক করে রাখারও অপশন থাকছে। ওয়েবসাইট।

মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১১

পদ্মা সেতু হচ্ছে না!



বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু আপাতত হচ্ছে না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার ঋণসহায়তা স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।

দুর্নীতির তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থ ছাড় কিংবা দরপত্র-প্রক্রিয়া অনুমোদন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কবে নাগাদ দুর্নীতির তদন্ত শেষ হবে এবং অর্থ ছাড় করে দরপত্র-প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে, তা খোলাসা করেনি সংস্থাটি। 





এতে প্রকল্পটি আদৌ বর্তমান সরকারের আমলে হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করে তা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার প্রথমে বলেছিল, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হবে। এরপর বলা হয়, ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মূল সেতু, নদীশাসন, টোল প্লাজা ও সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ পদ্মা প্রকল্পের ছয়টি দরপত্র কার্যক্রম শেষ হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন-সহযোগীরা এসব দরপত্রের অনুমোদন দিচ্ছে না।
যদিও প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, গাড়ি ক্রয়সহ নানা কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয়ে গেছে এক হাজার ২১ কোটি টাকা।
গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর জন্য তাদের প্রতিশ্রুত ঋণসহায়তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, এ নিয়ে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরিচালক এলেন গোল্ডস্টেইন বলেছেন, ‘জালিয়াতি ও দুর্নীতি বিষয়ে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে আগাব না।’ বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল বিশ্বব্যাংকের এই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানায়, তারা ১২০ কোটি ডলারের এই ঋণসহায়তা স্থগিত করেছে।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গত রোববার রাতে কথা বলেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরও প্রধানমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চান। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এতে সায় না দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়ে গেছে। সেখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ নেই।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক ঋণ স্থগিত রাখার কারণে অন্য উন্নয়ন-সহযোগীদের ঋণসহায়তাও আটকে গেছে। পদ্মা সেতুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানি ঋণদান সংস্থা জাইকা ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ঋণসহায়তা দেওয়ার চুক্তি করেছিল। বিশ্বব্যাংক ছিল উন্নয়ন-সহযোগীদের সমন্বয়কারী।
ঋণসহায়তা স্থগিত হওয়ার কারণে সরকার চারদিকে সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় গতকাল পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার কিছুটা চাপ সরানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন বিশ্বব্যাংকের কাছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে দুই পক্ষ এক হয়ে তদন্ত করার প্রস্তাব করে চিঠি দিয়েছে।
জানতে চাইলে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো দরপত্র অনুমোদন করিনি। তাই দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না।’ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ কী—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই কাজ শুরু করার মতো প্রস্তুতি আমাদের আছে। এখন বিশ্বব্যাংক কবে অনুমোদন দেবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’
গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী গত শনিবার দেশে ফেরেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই সফরেই বিশ্বব্যাংক অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন, পদ্মা প্রকল্পের তদারকি পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে বিশ্বব্যাংক। কানাডা পুলিশ ও বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট এই বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে। তদারকি পরামর্শক হিসেবে কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয় গত জুলাই মাসে।
সূত্র আরও জানায়, শুধু তদারকি পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র নয়, নদীশাসন দরপত্রের প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়েও দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে মূল সেতুর প্রাক-যোগ্যতা যাচাই দরপত্রে দুর্নীতি হয়েছে—এমন অভিযোগ করে বিশ্বব্যাংকে নালিশ দেয় চীনা কোম্পানি সিআরসিপি-ভেঞ্চার এন্টারপ্রাইজ (যৌথ) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এটিও তদন্ত করছে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণসহায়তা থেকে ব্যয় হবে।
অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, নির্মাণ-প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংক আপাতত কোনো অর্থ দেবে না। সেতুর জন্য সংস্থাটির প্রতিশ্রুত ঋণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন স্থগিত প্রসঙ্গে প্রথমে সাংবাদিকদের কিছু বলতে চাননি অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি আজকেও কোনো কথা বলব না, বরং একটি সম্মেলন ডেকে লিখিত বিবৃতি দেব।’ তিনি অবশ্য বলেন, পদ্মা সেতুর দরপত্র-প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি। শুধু দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করেছে, এতে দুর্নীতি হতে পারে। সেই ভিত্তিতে বলা যায়, সেতু নির্মাণ-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটি আপাতত বন্ধ আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা তাদের (বিশ্বব্যাংক) কাছে সব কাগজপত্র দাখিল করেছি। পরামর্শকদের প্রাক-যোগ্যতা যাচাই, তাদের নিয়োগ এবং নদীশাসন—এ তিনটি বিষয়েই প্রশ্ন তুলেছে তারা। একটি অভিযোগ করেছে কানাডায়, আরেকটি আমাদের কাছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিবেচ্য হলো, জটিলতাগুলো কীভাবে নিরসন করা যায়।’
তাহলে কি পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজটি স্থগিত হয়ে গেল—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তো আগেই বলেছি। সাময়িকভাবে এটা বন্ধ (টেম্পোরারিলি স্টপড) থাকবে।’ 
বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের বিষয়ে সরকার তদন্ত করবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তদন্ত করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।’
বিশ্বব্যাংকের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ সরকারের একজন মন্ত্রীর মালিকানাধীন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কি না—এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’ 
পিডি বাতিল: পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সেতু বিভাগে এসেছে। 
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর রফিকুল ইসলামকে দুই বছরের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পের পিডি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের মার্চ মাসে।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে পিডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়েছিল। বাতিলও করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির অনুমতিতেই।’ কেন বাতিল হয়েছে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।
সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম যোগাযোগমন্ত্রীর খুব আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সেতু বিভাগের সচিব সম্প্রতি মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু মন্ত্রী এই বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তার পরও প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে সেখান থেকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। গত রোববার সেই অনুমোদন পাওয়া যায়।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১১ অক্টোবর, ২০১১ 


সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১১

চলার অনুমতি পেলো উড়ুক্কু গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারোস্পেস কোম্পানি টেরাগুফিয়া সম্প্রতি তাদের উড়ুক্কু গাড়ির জন্য ‘রোড পারমিট’ জোগাড় করে ফেলেছে। টেরাগুফিয়ার উড়ুক্কু গাড়ি ‘ট্রানজিশন’ আগামী বছরই তৈরির প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। তবে, আগেভাগেই রাস্তায় চলার অনুমতি জোগাড় করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর হাফিংটন পোস্ট-এর।





সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) টেরাগুফিয়ার ট্রানজিশন-এর জন্য হাইওয়ে এবং স্থানীয় এয়ারপোর্ট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

জানা গেছে, রাস্তায় চলার অনুমতি পাওয়ার ফলে উড়ুক্কু গাড়ি ট্রানজিশন এখন যেকোনো রাস্তায় চলতে পারবে এবং প্রয়োজন হলে উড়ে গিয়ে যেকোনো স্থানীয় এয়ারপোর্টে ল্যান্ডও করতে পারবে।

জানা গেছে, ট্রানজিশন নামের এই উড়ুক্কু গাড়িটি তৈরির জন্য কয়েক রকমের নকশা নিয়ে কাজ করছেন টেরাগুফিয়া-এর প্রকৌশলীরা।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ট্রানজিশন গাড়িটি ২ জনকে নিয়ে আকাশপথ এবং হাইওয়েতে চলতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে উড়ুক্কু গাড়িটি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তায় নেমেছিলো।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১১

"‘গণক’ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি চলে না"-- কী বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী?


পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পর্কে কোনো সুসংবাদ দিতে পারেননি; বরং মঙ্গলবার নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজেই দেশবাসীর কাছে একরাশ হতাশা ছড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি গণক নই। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কবে হবে, সেই দিনক্ষণ বলতে পারব না।’


কেবল তিস্তার পানিচুক্তি নয়, পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সব বিষয়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করল, কী করতে পারল না, তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই জনগণের আছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাছেই তো জানতে চাইবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা যেসব প্রশ্ন করেছেন, তা জনগণেরই মনের কথা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাতে উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন না, কিংবা ‘আমি গণক নই’ বলে এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে হালকা করে দেখাও সমীচীন নয়।

মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের অনেক আগে থেকে সরকারের দায়িত্বশীল মহল তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে আশার কথা শুনিয়ে আসছিল। এমনকি গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব যখন বললেন, মমতার আপত্তির কারণে তিস্তার পানিচুক্তি হচ্ছে না, তখনো আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছিলেন, ‘চুক্তি হবেই।’ কারণ যা-ই হোক, সেই চুক্তি যখন হয়নি, দেশবাসীকে তার কারণ ব্যাখ্যা করা কিংবা চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে অবহিত করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরই দায়িত্ব। দেশবাসী চুক্তির দিনক্ষণই জানতে চাইছে, গত ৪০ বছরে কোন সরকার কী করেছে, কী করেনি—সেই গল্প শুনতে চাইছে না। ভারত সরকার যেখানে সে দেশের বিরোধী দল, গণমাধ্যম, এমনকি বাংলাদেশের গণমাধ্যমকেও তাদের অবস্থান খোলাখুলি ব্যাখ্যা করেছে—বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তার প্রয়োজন বোধ করেননি। মনমোহনের সফরের পরও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী একাধিকবার বলেছেন, শিগগিরই চুক্তি হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে চুক্তি হবে।’ আর এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বলেন, দিনক্ষণ বলতে পারছি না, তখন মানুষ কী বুঝবে? এই সমন্বয়হীনতা সুস্থ পররাষ্ট্রনীতির লক্ষণ নয়।

কারণ যা-ই হোক, স্বীকার করতে হবে, সরকার মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটা করতে পারেনি। কে কতবার আলোচনা করেছিলেন, কিংবা এর পেছনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কতটা দায়ী, সেসব দেশবাসীকে আশ্বস্ত করবে না। কবে নাগাদ তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে, সেটাই তারা জানতে চাইবে। এ ব্যাপারে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা জানানো সরকারের দায়িত্ব।

ট্রানজিটের বিষয়েও নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য বেশ বিভ্রান্তিকর। প্রথমে বলা হয়েছিল, ট্রানজিট-সুবিধার বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এখন বলা হচ্ছে, পরীক্ষামূলক ট্রানজিট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশ যে সামান্য মাশুল পাচ্ছে, তাতে লাভ দূরের কথা, ক্ষতিই পোষাবে না বলে গবেষকদের অভিমত। এ বিষয়েও আমরা সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য চাই।




সুত্রঃ প্রথম আলো, ০৭, অক্টোবর, ২০১১ (সম্পাদকীয়)