পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

রাজনীতি কোন পথে??


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের

আদালত প্রতিবেদক | তারিখ: ২৮-০৯-২০১১, দৈনিক প্রথম আলো



২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি আবদুল হান্নান। আবেদনে এই জঙ্গিনেতা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় এ ধরনের কোনো জবানবন্দি আদালতে দেননি। ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তাঁর সই আদায় করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের কাছে এই আবেদন করেন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান।আদালত সূত্র জানায়, এই আবেদনের বিষয়ে গতকাল কোনো আদেশ হয়নি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নান। তিনি এই মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দ্বিতীয় দফায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গত ৭ এপ্রিল। ২১ আগস্টের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর এই জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।মূলত এই জবানবন্দির ভিত্তিতে ২১ আগস্ট সংক্রান্ত দুটি মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ঢাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম ও হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফকে আসামি করা হয়েছে। এঁদেরসহ নতুন করে ৩০ জনকে আসামি করে গত ৩ জুলাই সিআইডি আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে। এর আগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন মামলা দুটির মূল অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এতে মুফতি হান্নান ও বিএনপির উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।গতকাল এই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনবিষয়ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ১১ আসামির পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। এ ছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে চিকিৎসার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ২ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ও আকরাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন তাঁর আইনজীবী শেখ লুৎফর রহমান আদালতে দাখিল করেন। প্রথমে আবেদনে মুফতি হান্নানের সই ছিল না। তাঁরা বলেন, আইন ও পদ্ধতিগতভাবে এ আবেদন করা হয়নি। এ ধরনের আবেদন যিনি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করবেন, তাঁকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হবে। অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর মুফতি হান্নানের সই নিয়ে তাঁর আইনজীবী আবার আদালতে আবেদনটি জমা দেন। তবে এ নিয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি।হাতে লেখা ১০ পৃষ্ঠার প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর এ পর্যন্ত হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছে। ব্যাপক নির্যাতনের পর তাঁর কাছ থেকে ২০০৭ সালে প্রথম দফা জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি। মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় মোট ২০৩ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় তাঁকে। সম্পূরক জবানবন্দি দিতে তিনি নিজে আদালতে কোনো আবেদন করেননি। 


আবেদনে মুফতি হান্নান বলেন, ৬ এপ্রিল সিলেটের একটি মামলায় তাঁকে সিলেট পাঠানো হয়। পরিদিন সিলেট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যায় সিআইডি। তিনি বলেন, ‘এরপর সিআইডি আমার হাতে একটি কাগজ দেয়, যেখানে আমার কথিত জবানবন্দিতে উল্লেখিত নাম যেমন, তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী, পিন্টু ও বাবরসহ অনেকের নাম রয়েছে। আমি উক্ত রেকর্ড ও প্রস্তুতকৃত জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করলে জেলখানার ভিতরে হত্যা করাসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়।...আমি তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী ও বাবরের সাথে হাওয়া ভবনে কোনো সময়ই দেখা করিনি। পিন্টু সাহেবের বাসায়ও কখনো যাইনি ও চিনি না। অন্যান্য আসামিদেরকেও আমি চিনি না।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন