পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

গনতন্ত্র আজ পুলিশের বুটের নিচে ......


দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জের : নির্যাতনকারী সেই পুলিশ ইন্সপেক্টর ক্লোজড

স্টাফ রিপোর্টার

হরতালে বুকের ওপর বুট দিয়ে আঘাতকারী ব্যাপক সমালোচিত সেই পুলিশ ইন্সপেক্টরকে অবশেষে ক্লোজ করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী জোটের ডাকা গত ২২ সেপ্টেম্বরের হরতালে রাজধানীর মতিঝিলে ইউসুফ আলী নামে এক ব্যক্তির বুকে বুট দিয়ে পৈশাচিকভাবে দলন করে মতিঝিল জোনের পেট্রোল ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজ। হরতাল চলাকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গেটে ইন্সপেক্টর হাজ্জাজ পিকেটার সন্দেহে ইউসুফ আলীকে আটক করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। শুধু কিল-ঘুসি ও লাঠিপেটা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, একপর্যায়ে ইউসুফ আলী পড়ে গেলে তার বুকের ওপর দাঁড়িয়ে বুট দিয়ে দলিত করে। পুলিশ কর্মকর্তার বুটের নিচে থাকা অসহায় ব্যক্তিটি তখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চিত্কার করলেও তার মন গলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরপরাধ এক ব্যক্তির ওপর পুলিশ ইন্সপেক্টরের এত দাম্ভিকতা ও পৈশাচিক নির্যাতনের দৃশ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি সহজভাবে নেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের আইজিকে এ ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করতে বলা হয়। সূত্রমতে, গত বুধবার রাতে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল পুলিশের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দেন। সে প্রতিবিদেনের প্রেক্ষিতেই হাজ্জাজকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায়, ওইদিন দিলকুশা এলাকা থেকে দুপুরে হরতালের সমর্থনে জামায়াতের একটি মিছিল বের হলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন মিছিলকারীরা বিভিন্ন ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ফটকে ইউসুফ আলীকে আটক করে পুলিশ। তাকে সেখানে ফেলে মারধর ও বুট দিয়ে চাপা দেয়া হয়। এ সময় ইউসুফ বলতে থাকেন, ‘ভাই, আমি মিছিল করি নাই।’ পুলিশ তার কথায় কান না দিয়ে ভ্যানে তোলার পর আবার মারধর করে। শুরু হয় পুলিশি অ্যাকশন। মতিঝিল এলাকার পেট্রোল ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজ ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। এরপর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আসে মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ কামাল হোসেনের কাছে। মোবাইল কোর্টের ওই ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠায়। এ ঘটনায় গত রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির ৩১তম বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে ওই ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চায়। কমিটির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গত হরতালের ওই ছবিটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ কেন এ ধরনের আচরণ করছে? এ বিষয়ে পুলিশের আইজিপির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। যদিও এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল হক হানিফ বলেছিলেন, ‘বুট দিয়ে বুকে আঘাত করার একটি মাত্র ঘটনাতেই সরকারের সব অর্জন ম্লান হয় না।’এ ব্যাপারে মিতিঝিল জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আবু হাজ্জাজের বিষয়ে তদন্ত চলছে, তাই তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে ক্লোজ করে (প্রত্যাহার) নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্লোজ অবস্থাতেই থাকবেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চললে ওই সময় তাকে ক্লোজ করার নিয়ম রয়েছে। তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্রঃ আমার দেশ, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন