পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১

অক্টোবর এ আসছে আই ফোন ৫

i phone 5
eÞjÖx£ßeYø xdiêwZw eÞxZÅwd AøwËel BËZwiËcø ZwËbk AwBËfwd, AwBeøwW Ggv AwBeËWk icø xbËt eÞjÖx£ß gwRwËk gøweK RdxeÞtZw ARêd KËkËQ„ eËYøk †YMZ iwËdk KwkËY Ì¢ßZwËbk dRkI awËK AøwËeËlk xbËK„ AøwËel ZwËbk AwBËfwËdk cwkwgwxpKZwt gwRwËk AwBËfwd-5 xdËt Awowk ÌNwnYw xbËtxQl„ oóeÞxZ gÉl AwËlwxPZ AwBËfwËdk eéi ovÆkY Qwrwk xbdqY PÔrwìæ KËkËQ xdiêwZw eÞxZÅwd Aøwel„ AwMwiy 4 A˃wgk AwdÖÅwxdKhwËg gwRwËk AwoËZ ewËk AwBËfwd-5„ AøwËel eËYøk xWoËeö DuewbdKwky Ggv UwPxÇd ÌjwMwdbwZw DBdËUËKk Duewbd eÞx¢ßtwt xKQ× oioøw ÌbLw xbËtxQl„ AwBËfwd-5 Gk Rdø UwP eøwËdl ÑZxk Kkwk oit ÌoLwËd gÖbgÖb AwKÚxZk xKQ× AoŠxZ ÌbLw Ìbtwt eÔgêxdcêwxkZ oiËt gwRwËk AwBËfwd-5 AwZôeÞKwm KkËZ ewËkxd AøwËel„ dZ×d 5 ovÆkËY MVdÐmly Ggv eÞjÖx£ßMZhwËg exkgZêd AwoËQ„ G AwBËfwËd gøgpwk Kkw pËtËQ WÖtwl ÌKwk eÞËook„ GËZ KŸþñËkk iwcøËi xgxhdí AøwxeöËKmd gøgpwk Kkw jwËg„ Gk ÌeQËdk xbK ÑZxk Kkw pËtËQ Kwgêd fwBgwk I AøwlÖxixdtwËik ovximÛËY„ 32 xRxg I 64 xRxg cwkYqiZwk xhdí iËWËlk AwBËfwËdk ebêwt awKËQ þemêKwZk gÖËlUeÞØf Möwo„ xgùUBd xRxeGo oiÙ¦ ÌfwdxU 3xR Ggv 4xR oiaêd KkËg„ gwrwËdw pËtËQ gøwUwxk gøwKAwe oqiZw„ GKUwdw 7 NåUwk exkgËZê gøwKAwe ewItw jwËg 14 NåUw„ AwBËfwËd DdíZ MÞwxf… oÖxgcw xbËZ GËZ jÖ£ß Kkw pËtËQ MÞwxf… xPeKwWê„ xWxRUwl KøwËikwËK owËa Ìdtwk þñwb AdÖhg KkËZ GËZ kËtËQ 8 ÌiMwxeË…l KøwËikw„ xgËmnšËbk iËZ, xdxbêÄ oiËt AøwËel AwBËfwd-5 gwRwËk pwxRk KkËZ oqi pËlI Zw pËg Pwxpbwk Z×ldwt AeÞZ×l„ ­xgxgxo Agl¹Ëd

গনতন্ত্র আজ পুলিশের বুটের নিচে ......


দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জের : নির্যাতনকারী সেই পুলিশ ইন্সপেক্টর ক্লোজড

স্টাফ রিপোর্টার

হরতালে বুকের ওপর বুট দিয়ে আঘাতকারী ব্যাপক সমালোচিত সেই পুলিশ ইন্সপেক্টরকে অবশেষে ক্লোজ করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী জোটের ডাকা গত ২২ সেপ্টেম্বরের হরতালে রাজধানীর মতিঝিলে ইউসুফ আলী নামে এক ব্যক্তির বুকে বুট দিয়ে পৈশাচিকভাবে দলন করে মতিঝিল জোনের পেট্রোল ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজ। হরতাল চলাকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গেটে ইন্সপেক্টর হাজ্জাজ পিকেটার সন্দেহে ইউসুফ আলীকে আটক করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। শুধু কিল-ঘুসি ও লাঠিপেটা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, একপর্যায়ে ইউসুফ আলী পড়ে গেলে তার বুকের ওপর দাঁড়িয়ে বুট দিয়ে দলিত করে। পুলিশ কর্মকর্তার বুটের নিচে থাকা অসহায় ব্যক্তিটি তখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চিত্কার করলেও তার মন গলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরপরাধ এক ব্যক্তির ওপর পুলিশ ইন্সপেক্টরের এত দাম্ভিকতা ও পৈশাচিক নির্যাতনের দৃশ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি সহজভাবে নেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের আইজিকে এ ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করতে বলা হয়। সূত্রমতে, গত বুধবার রাতে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল পুলিশের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মীর শহীদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দেন। সে প্রতিবিদেনের প্রেক্ষিতেই হাজ্জাজকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায়, ওইদিন দিলকুশা এলাকা থেকে দুপুরে হরতালের সমর্থনে জামায়াতের একটি মিছিল বের হলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন মিছিলকারীরা বিভিন্ন ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ফটকে ইউসুফ আলীকে আটক করে পুলিশ। তাকে সেখানে ফেলে মারধর ও বুট দিয়ে চাপা দেয়া হয়। এ সময় ইউসুফ বলতে থাকেন, ‘ভাই, আমি মিছিল করি নাই।’ পুলিশ তার কথায় কান না দিয়ে ভ্যানে তোলার পর আবার মারধর করে। শুরু হয় পুলিশি অ্যাকশন। মতিঝিল এলাকার পেট্রোল ইন্সপেক্টর আবু হাজ্জাজ ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হন। এরপর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আসে মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ কামাল হোসেনের কাছে। মোবাইল কোর্টের ওই ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠায়। এ ঘটনায় গত রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির ৩১তম বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে ওই ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চায়। কমিটির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, গত হরতালের ওই ছবিটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ কেন এ ধরনের আচরণ করছে? এ বিষয়ে পুলিশের আইজিপির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। যদিও এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল হক হানিফ বলেছিলেন, ‘বুট দিয়ে বুকে আঘাত করার একটি মাত্র ঘটনাতেই সরকারের সব অর্জন ম্লান হয় না।’এ ব্যাপারে মিতিঝিল জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আবু হাজ্জাজের বিষয়ে তদন্ত চলছে, তাই তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে ক্লোজ করে (প্রত্যাহার) নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্লোজ অবস্থাতেই থাকবেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চললে ওই সময় তাকে ক্লোজ করার নিয়ম রয়েছে। তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্রঃ আমার দেশ, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১ 

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১

রাজনীতি কোন পথে?? পর্ব- ২


eÞiwxYZ pËtËQ 21 AwMýU NUdwt kwRdyxZËKkw RxrZ dd
iÖfxZ pwdíwËdk Rgwdgëby eÞZøwpwËkk AwËgbd eÞoËŠ xiRêw fLkØl
xdRþñ eÞxZËgbK

†lmwd KwjêwlËt MZKwl ovgwb oËóilËd g£ßgø kwËLd xgGdxek hwkeÞw® ipwoxPg xiRêw fLkØl Bolwi AwliMyk : dtw xbMìæ
xgGdxek hwkeÞw® ipwoxPg xiRêw fLkØl Bolwi AwliMyk gËlËQd, iÖfxZ pwdíwdËK pZøwk ÉixK xbËt xiaøw Rgwdgëby xbËt ZwËkK kpiwdËK 21 AMwýU iwilwt RrwËdw pËtËQ„ Rgwdgëby eÞZøwpwËkk Rdø AwbwlËZ iÖfxZ pwdíwËdk AwËgbdB Zw eÞiwY KËk„ MZKwl GK ovgwb oËóilËd xZxd G Kaw gËld„ †lmwËd xgGdxe ÌPtwkewkoËdk KwjêwlËt G ovgwb oËóilËdk AwËtwRd Kkw pt„
xiRêw fLkØl gËld, iÖfxZ pwdíwËdk Rgwdgëby eÞZøwpwËkk AwËgbdB eÞiwY KËk ZwËkK kpiwdop kwRdyxZxgËbkw 21 AwMýU ÌMÞËdW pwilwk iwilwt RxrZ dd„ kwRdyxZxgbËbk RxrËt IB iwilwk oóeÔkK AxhËjwMe¢ oóeÔYê xiaøw„ okKwk kwRÐdxZK eÞxZxpvowt ZwËkK kpiwdËK RxrËtËQ„ Gk iwcøËi okKwk IB iwilwk eÞKÚZ ÌbwnyËbkI mdw£ß KkËZ AwMÞpy dt gËl þeÄ pËtËQ„
G oit bËlk þÿwty KxixUk oboø W. Awk G MxY, Gi ÌK AwËdwtwk, xiRêw Awgµwo, dRkØl Bolwi Lwd, W. Aw²Öl iCd Lwd, gøwxkýUwk kxfK×l Bolwi xitw, hwBo ÌPtwkiøwd Ag: Gtwk hwBo iwmêwl AwlZwf ÌpwËod ÌP#cÖky, owËbK ÌpwËod ÌLwKw, ÌiRk Ag: pwxfR Dx¥d AwpËib, ÌP#cÖky Kwiwl BgËd BDoÖf, Ìoxliw kpiwd, miËok ixgd ÌP#cÖky, jÖMô ipwoxPg Awiwd Dlöwp Awiwd, kØÉl Kgyk xkRhy, xmqwxgntK oóewbK LwtkØl Kxgk ÌLwKd, AwìæRêwxZKxgntK oóewbK dwxRi Dx¥d Awli, opZaø I MËgnYwxgntK oóewbK pwxggÖk kpiwd pwxgg DexþÿZ xQËld„
xiRêw fLkØl gËld, pwilwk iÔl ÌpwZwËbk Awrwl I xgËkwcy bËlk Iek kwRÐdxZK eÞxZxpvow PxkZwaê KkËZB iÖfxZ pwdíwËdk Iek ÌRwk Rgkbxþæ PwxlËt I eÞwYdwËmk ht ÌbxLËt ZwËkK kpiwdop kwRÐdxZK ÌdZwËbk dwi glwËdw pËtxQl„ ZwB Rgwdgëby eÞZøwpwk AwËgbËdk ek G iwilwt KwDËK AwUËK kwLwk Awk ÌKwËdw ÑdxZK AxcKwk okKwËkk ÌdB„
xZxd gËld, 2004 owËl G NUdwk ek ZuKwlyd eÞcwdiìèy ÌgMi LwËlbw xRtw ZuKwlyd xgËkwcy bËlk ÌdZw ÌmL pwxodwk owËa ÌbLw KkËZ ÌPËtxQËld„ xKìç ÌmL pwxodw ÌbLw KkËZ kwxR pdxd„ ÆUløw« ÌaËK Zbìæ xUi GËoxQl ZwËbk Zbìæ KwËR opËjwxMZw KËkxd AwItwiy lyM„ GidxK ÌmL pwxodwk MwxrxU ejêìæ Zbìæ KiêKZêwËbk ÌbLËZ Ìbtw ptxd„
xiRêw fLkØl gËld, G iwilwt Ìgm KËtKgwk Zbìæ xUi MVd Kkw pËtËQ„ Zbìæ eÞxZËgbdI ÑZxk Kkw pËtËQ AovLøgwk„ AgËmËn K›k AwItwiy lyMeìÿy GKRd owËgK eÖxlm KiêKZêw Aw²Öl Kwpwk AwKëbËK Zbìæ KxixUk eÞcwd KËk bÛØZ xgPwk UÛwBgÖødwËl iwilwxU þÿwdwìæk KËk Ggv iÖfxZ pwdíwËdk Iek xdiêi xdjêwZd PwxlËt ÌRwkeÔgêK xiaøw Rgwdgëby Awbwt KËk oóeÔkK PwRêxmËU ZwËkK kpiwdop xgGdxe ÌdZwËbk dwi RrwËdw pËtËQ„
xZxd okKwËkk DË¥Ëm gËld, GB iwilw eÞZøwpwk KkØd Adøawt Awgwk jLd oit AwoËg ZLd Gk xgkØ˦ Awikw AwBdwdÖM gøgþÿw MÞpY Kkg„
2004 owËl 21 AwMýU gŠgìcÖ GxhxdDËZ ÌmL pwxodwk oiwËgËm ÌMÞËdW pwilwk iwilwt G gQk ZwËkK kpiwd, RwiwtwËZ Bolwiyk ÌoË¢ßUwxk ÌRdwËkl Awly Awpowd Ìiwpwóib iÖRwxpb, xgGdxe ÌdZw lÖuf׌wiwd gwgk, pwxkQ ÌP#cÖkyop 30 RdËK Awowxi KËk oóeÔkK AxhËjwMe¢ Ìbt xoAwBxW„ iÖfxZ pwdíwËdk Rgwdgëbyk xhx£ËZ G AxhËjwMe¢ Ìbtw pt„ iÖfxZ pwdíwd MZ iŠlgwk 164 cwkwt Ìbtw IB Rgwdgëby eÞZøwpwËkk Rdø AwbwlËZ AwËgbd KËkËQd„



২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১১
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত, 

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

রাজনীতি কোন পথে??


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের

আদালত প্রতিবেদক | তারিখ: ২৮-০৯-২০১১, দৈনিক প্রথম আলো



২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি আবদুল হান্নান। আবেদনে এই জঙ্গিনেতা দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় এ ধরনের কোনো জবানবন্দি আদালতে দেননি। ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তাঁর সই আদায় করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের কাছে এই আবেদন করেন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান।আদালত সূত্র জানায়, এই আবেদনের বিষয়ে গতকাল কোনো আদেশ হয়নি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নান। তিনি এই মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দ্বিতীয় দফায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গত ৭ এপ্রিল। ২১ আগস্টের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর এই জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।মূলত এই জবানবন্দির ভিত্তিতে ২১ আগস্ট সংক্রান্ত দুটি মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির সাংসদ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ঢাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম ও হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফকে আসামি করা হয়েছে। এঁদেরসহ নতুন করে ৩০ জনকে আসামি করে গত ৩ জুলাই সিআইডি আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছে। এর আগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন মামলা দুটির মূল অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এতে মুফতি হান্নান ও বিএনপির উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।গতকাল এই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনবিষয়ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ১১ আসামির পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। এ ছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে চিকিৎসার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ২ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ও আকরাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন তাঁর আইনজীবী শেখ লুৎফর রহমান আদালতে দাখিল করেন। প্রথমে আবেদনে মুফতি হান্নানের সই ছিল না। তাঁরা বলেন, আইন ও পদ্ধতিগতভাবে এ আবেদন করা হয়নি। এ ধরনের আবেদন যিনি জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করবেন, তাঁকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হবে। অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর মুফতি হান্নানের সই নিয়ে তাঁর আইনজীবী আবার আদালতে আবেদনটি জমা দেন। তবে এ নিয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি।হাতে লেখা ১০ পৃষ্ঠার প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর এ পর্যন্ত হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছে। ব্যাপক নির্যাতনের পর তাঁর কাছ থেকে ২০০৭ সালে প্রথম দফা জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি। মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় মোট ২০৩ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় তাঁকে। সম্পূরক জবানবন্দি দিতে তিনি নিজে আদালতে কোনো আবেদন করেননি। 


আবেদনে মুফতি হান্নান বলেন, ৬ এপ্রিল সিলেটের একটি মামলায় তাঁকে সিলেট পাঠানো হয়। পরিদিন সিলেট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যায় সিআইডি। তিনি বলেন, ‘এরপর সিআইডি আমার হাতে একটি কাগজ দেয়, যেখানে আমার কথিত জবানবন্দিতে উল্লেখিত নাম যেমন, তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী, পিন্টু ও বাবরসহ অনেকের নাম রয়েছে। আমি উক্ত রেকর্ড ও প্রস্তুতকৃত জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করলে জেলখানার ভিতরে হত্যা করাসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়।...আমি তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী ও বাবরের সাথে হাওয়া ভবনে কোনো সময়ই দেখা করিনি। পিন্টু সাহেবের বাসায়ও কখনো যাইনি ও চিনি না। অন্যান্য আসামিদেরকেও আমি চিনি না।’

আসুন, সরকারের প্রশংসা করি



স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কথা চমৎকার। তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করলে অসুবিধা নেই, তবে সরকারের ৯০ শতাংশ সমালোচনা করলে ১০ শতাংশ প্রশংসা অন্তত করা উচিত। এ ধরনের উদারতা নিকট অতীতে কোনো মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদ দেখিয়েছেন বলে মনে হয় না। মন্ত্রী-উপদেষ্টারা চান শতভাগ আনুগত্য, অকুণ্ঠ প্রশংসা। তাঁরা প্রাণ খুলে নিজেদের সরকারের প্রশংসা করেন, অন্যদের থেকেও প্রাণখোলা প্রশংসা চান। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বক্তব্য তাই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি মাত্র ১০ শতাংশ প্রশংসা চেয়েছেন। আমার মতে, সরকারের এতটুকু প্রশংসা সব ক্ষেত্রে করা সম্ভব।


১০ শতাংশ মেপে দেখা সম্ভব নয়। নয় লাইন সমালোচনা করে এক লাইন প্রশংসা করলে তা অঙ্কের হিসেবে সহি হবে। কিন্তু তা অনেকের মনঃপূত হবে না। তার চেয়ে প্রতিটি নিন্দনীয় কাজের গভীরে কোনো প্রশংসনীয় দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা শ্রেয়তর। এই চেষ্টা করা সম্ভব, সব ‘কুকর্মে’র মধ্যেও প্রশংসা করার মতো কিছু বিষয় খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 


যেমন কিছুদিন আগে যুবলীগের নেতা ইব্রাহিম হত্যার মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মামলা যত দিন পুলিশের কাছে ছিল, আমরা মুগ্ধ হয়ে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য শুনতাম। তিনি মন্ত্রীর কথায় চলেন না, চাকরির ভয় করেন না, আল্লাহকে হাজের-নাজের রেখে কথা বলেন। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এমন নন-সেক্যুলার কথাবার্তা, দলীরকরণের যুগে এমন লৌহকঠিন ব্যক্তিত্ব সরকার সহ্য করে চলেছে, এটাও তো অনেক! আল্লাহ ওনাকে দিব্যদৃষ্টি দিয়েছেন, তিনি তদন্তের আগেই বুঝে ফেলেছিলেন ইব্রাহিমের মৃত্যু একটি দুর্ঘটনা মাত্র, পরে বুঝেছেন, হত্যাকাণ্ড হলেও সংসদ সদস্য নুরুন্নবী শাওন এর সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। তাঁর কথা শুনে অনেকে রাগ করেছেন। কিন্তু এটিও তো সত্যি, এমন দরবেশ পুলিশ কর্মকর্তা থাকলেই না ‘নির্দোষ’ ব্যক্তিরা রেহাই পেয়ে যাবেন! 


১০ শতাংশ প্রশংসার কথা আসলে এটি নয়। আসল প্রশংসা নিহিত এর তদন্তের মধ্যে। তদন্ত চলছে অনেক দিন, কিন্তু শাওন এখনো গ্রেপ্তার হননি। তিনি যদি কোনো দিন গ্রেপ্তার না হন, কিংবা এই মামলায় কেউ যদি শাস্তি না পায়, এমনকি যদি প্রেসিডেন্টের অপার কৃপায় মাফ পায়, তার পরও এর মধ্যে প্রশংসনীয় দিক আছে। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকার বিএনপিকে দায়ী করেনি, এমনকি জামায়াত বা জঙ্গিদেরও নয়। আমাদের মতো নিন্দুক মানুষের বোঝা উচিত, এটিও অনেক বড় উদারতা, সরকার অন্তত ১০ শতাংশ প্রশংসা পেতেই পারে এতে।


আমি জানি, এসব কথা বিএনপির লোকদের পছন্দ হবে না। তারা শতভাগ নিন্দায় বিশ্বাসী দল। নিজেদের আমলে অত্যাচার-অনাচার কম করেনি তারা। অথচ সরকার যখন একই কাজ করে নির্দয় নিন্দায় মেতে ওঠে তারা। দলীয়করণ তারা করেছে, দুর্নীতি-অনিয়ম-সন্ত্রাসের তাণ্ডব তারা চালিয়েছে, মানুষকে খাদ্যহীন-আলোহীন-আশাহীনও তারা করেছে। অথচ এসব কাজ এই সরকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তারা। বিএনপির বোঝা উচিত, দিনবদলের কথা বললেও সরকার আসলে তাদেরই অনুসরণ করছে। শুধু এ কারণে হলেও অন্তত ১০ শতাংশ প্রশংসা তাদেরও করা উচিত। 


কাজেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বক্তব্য সঠিক। অন্তত কিছু প্রশংসা সরকারের করা উচিত সবার। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সর্বত্র সরকারের প্রশংসার জয়গান কিছুটা হলেও ওঠা উচিত।





২. 


পাবনার ঘটনা নিয়ে বিরাট শোরগোল হলো দেশে। নিয়োগের বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অপদস্থ করল সরকারের কর্মকর্তাদের। অথচ কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞান থাকলে এটি ঘটার কথা নয়। তাঁরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতো সঠিক সময়ে পালিয়ে যেতে পারতেন। কিংবা অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে মিডিয়াকে বলতে পারতেন, কই, মারেনি তো কেউ! তা না করে সাংবাদিক ঢেকে কান্নাকাটি! কার সহ্য হয় এসব? 


একজন উপদেষ্টা নিজে পাবনা গিয়ে বললেন, এসব ঠিক হয়নি আর কান্নাকাটিও আসলে ঘটেনি। এরপর সাধারণ সৌজন্যবোধ থাকলে সরকারি কর্মকর্তারা বলতে পারতেন, কান্নার ছবিটি আসলে কান্নার না, কিংবা এটি মিডিয়ার কারসাজি! এটুকু বললেও হতো আসলে। দেড় যুগ আগে মালিবাগ হত্যাকাণ্ডের সময় আওয়ামী লীগের এমপির হাতে অস্ত্রের ছবি কারচুপি করে সাজানো, একজন সর্বজ্ঞানী কলামিস্ট এ রকম অভিমত দিয়েছিলেন। এই অসাধারণ আবিষ্কার বিফলে যায়নি। এত বছর পর বর্তমান সরকার সেই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে অনেককে অব্যাহতি দিয়েছে। পাবনার সরকারি কর্মকর্তারা মিডিয়ার ওপর একহাত নিয়ে আজ বা আগামীকাল শাসকদলের সোনার ছেলেদের রক্ষা করার এমন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারতেন। এই বুদ্ধি বা দেশপ্রেম তাঁদের নেই কেন? জেলহাজত থেকে সোনার ছেলেরা বের হয়ে এলে এ ধরনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো তাঁদের। সরকার এ জন্যই তাঁদের পাবনা থেকে বদলি করেছে, মানসিক ধকল কাটানোর জন্য কাউকে কাউকে ওএসডি করেছে! কিন্তু তাঁদের তো অন্তত চাকরিচ্যুত করা হয়নি! এ জন্য হলেও সরকার কিছু প্রশংসা পেতে পারে। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, এই কথাগুলো দেশের কেউ বুঝল না! 


শুধু পাবনা নয়, নিয়োগ-পরীক্ষা নিয়ে তুঘলকি কাণ্ডের অভিযোগ উঠছে সারা দেশে। অথচ এখানেও প্রশংসা করার কিছু বিষয় আছে। নিয়োগ যারা পাচ্ছে তারা আওয়ামী লীগের লোক হতে পারে, কিন্তু তারা তো বাংলাদেশেরই নাগরিক। শুধু যদি তাদের চাকরি হয়, তাহলেও তো দেশের বেকার সমস্যা খানিকটা দূর হয়। তাদের চাকরি পাইয়ে দিয়ে যদি কারও পকেট ভারী হয়, তাতেও লাভ আছে। এতে চাকরিপ্রাপ্ত আর চাকরিপ্রদাতা দুই পক্ষের আর্থিক সংস্থান হয়। দুর্নীতি না হলে লাভ হয় শুধু প্রথম পক্ষের। বেকার সমস্যায় জর্জরিত দেশে নিয়োগ-বাণিজ্যেই তো উত্তম! 


সমালোচকেরা হয়তো বলবেন, প্রশাসনে মেধাবীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে এতে, যোগ্যদের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে, তাদের সমান সুযোগের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এগুলো ঠিক, কিন্তু সে জন্যও শতভাগ সমালোচনার যুক্তি নেই। মেধাবীদের বুঝতে হবে, এ দেশে প্রকৃত মেধার পরিচয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগে যুক্ত থাকার মধ্যে। কিংবা তাদের খুশি করার মধ্যে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ঠিক উল্টো কাজ করার মধ্যে। বর্তমান সরকার যে আরও খোলাখুলি করে দিয়েছে বিষয়টি, এটি সরকারের স্বচ্ছতার প্রমাণ। আর স্বচ্ছতা মানেই সুশাসন, তাই না? 





৩. 


ছাত্রলীগ-যুবলীগের খুনোখুনি নিয়ে সবচেয়ে সমালোচনা হচ্ছে সরকারের। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বারবার তাঁর ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এতেও লাভ হয়নি। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, তাঁর ক্ষোভ আন্তরিক। আমাদের মনে আছে, তিনিই প্রথম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রকৃত ছাত্রদের নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছেন, তাঁদের বয়সসীমা নির্দিষ্ট করেছেন, তাঁদের হাতে কলম তুলে দিয়েছেন। তাঁর আন্তরিকতার সবচেয়ে বড় অপমান করেছেন ছাত্রলীগের একশ্রেণীর নেতা-কর্মীরা। সারা দেশে যেভাবে তাঁরা সন্ত্রাসে মেতে উঠছেন, যে নৃশংসতা দেখাচ্ছেন তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত করবে। 


একটু নিষ্ঠুরতা হয়ে যায়, তবু বলি, এর মধ্যেও কিছুটা প্রশংসার বিষয় রয়েছে। যেমন খুনের ঘটনার পর কিছু নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে, কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি অভিযুক্তদের চূড়ান্ত বহিষ্কার করতে না পারে, আদালত যদি তাঁদের জামিন দিয়ে দেয়, তাহলে সরকার কী করবে? হ্যাঁ, দেশে যদি আওয়ামী পুলিশ লীগ, প্রশাসন লীগ কিংবা বিচারক লীগ থাকত তাহলে আমরা পুরোপুরি দোষ সরকারকে দিতে পারতাম। এই দর্শনের কথাই সরকারি দলের যুগ্ম মহাসচিব বাকশালের আদর্শে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছিলেন। আমরা যদি তা না বুঝি তাহলে সরকারের কী দোষ!


আসল প্রশংসার কাজ করছে ছাত্রলীগ নিজে। একজন মন্ত্রী তাদের বুদ্ধি দিয়েছিলেন নিজেরা মারামরি না করে বিরোধী ছাত্রসংগঠনের ওপর চড়াও হতে। ছাত্রলীগ তার কথা শোনেনি। এরপর যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সেখানেও তারা নিজেরাই মারামারি করে অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। ছাত্রদল বা শিবির আক্রান্ত হয়েছে কালেভদ্রে। বিরোধী দলের প্রতি এই অপূর্ব সহনশীলতার নজির আছে আর দেশে?


চাইলে প্রশংসা করার মতো বিষয় সব কাজেই পাওয়া যাবে। সরকার বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তির আইন করেছে তো অসুবিধা কী? কোন দিন কোন আদালতে মন্ত্রী-আমলাদের শাস্তির ঘটনা ঘটেছে? মাঝখান দিয়ে শুধু শুধু আদালতে মামলার জট বেড়েছে, টাকাপয়সার অপচয় হয়েছে, ওয়ান-ইলেভেন বিশ্বাসীরা আশাবাদী হয়েছে। একবারে আইন করে দায়মুক্তি দিয়ে দিলে বরং এসব ঝামেলা বিদায় হয়। দায়মুক্তি আইনের প্রশংসা করা উচিত তাই। সরকার যে বিভিন্ন কৌশলে বিএনপিকে সংসদ থেকে বাইরে রেখেছে বলে কোনো কোনো নিন্দুক অভিযোগ করেন, তার মধ্যেও প্রশংসা করার বিষয় রয়েছে। বিরোধী দল সংসদে থাকলে সরকারি দলের কারও কারও মাথায় রক্ত চড়ে যায়, সংসদে গালাগালি-কটূক্তি তাই চরমে ওঠে। তার চেয়ে তারা সংসদে না থাকলেই ভালো। একপক্ষীয় কটূক্তি হয়, কিন্তু তা বহুক্ষণ স্থায়ী হয় না। সাংসদেরা প্রাণভরে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন অবদানের কথা বলতে পারেন। এসব ভালো কথা শুনে লোকের দুঃখ নিশ্চয়ই ঘোচে কিছুটা। এ জন্য সম্ভবত সরকার চাইছে, বিটিভির সংবাদ একটু প্রচারিত হোক বেসরকারি টিভিতে। জিনিসের দাম বাড়ুক, লোডশেডিং বাড়ুক, খুন-ছিনতাই চলুক। তাই বলে ভালো কথা শোনার আনন্দ থেকে কেন বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ! 


এমন জনদরদি সরকারের কিছু প্রশংসা করাই উচিত আমাদের। 





৪. 


সমস্যা হচ্ছে, এই সাধারণ বিষয়টি জ্ঞানী মানুষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন না। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশে অতি বরেণ্য একজন মানুষ। তিনি সবার অভিভাবকতুল্য, প্রখর প্রজ্ঞাবান। অথচ তিনিই কী ভয়ংকর কথা বলে বসলেন। তিনি কেমন করে বলেন দেশ এখন বাজিকরদের হাতে? কেমন করে লিখেন ভর্তিবাজি, নিয়োগবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি, মতলববাজি এত ধরনের বাজির রকমফের দেখে দেশের মানুষ দিশেহারা? 


তার কথা শুনে মনে হয়, দেশে যেন আগে হয়নি এসব! রাজাকার আর তার বন্ধুদের সরকারও এসব করেছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের লোকজন এসব করছে। চেতনার এতে যতই বারোটা বাজুক, চেতনাধারীরা তো লাভবান হচ্ছেন। ১০ শতাংশ প্রশংসা এখানেও তো সরকারের প্রাপ্য! 


কাজেই আসুন, সবাই মিলে সরকারের প্রশংসা করি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সরকারের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।


আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।






সুত্রঃ প্রথম আলো, ০৯-১০-২০১০ইং 

মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

Mobile এ নামাজের সময় জানার জন্য প্রয়োজনীয় একটি সফটওয়্যার



mobile এ নামাজের সময় জানার জন্য guidedways.com এর prayertimes একটি চমৎকার সফটওয়্যার। Java support যুক্ত যে কোন mobile এ এটি সুন্দরভাবে কাজ করে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এটি Nokia 3110c থেকে শুরু করে N সিরিজ আর Symphony র Java যুক্ত সেটগুলোতেও ব্যবহার করেছি। আর এ সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ ফ্রি!!!। (বর্তমানে এটি যে কোন mobile ডিভাইসেই কাজ করে)


এ সফটওয়্যারটি আলাদাভাবে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় দেখায়, যে কারনে এর মাধ্যমে সেহরির শেষ সময়ও জানতে পারা যায়।

আপনারাও এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। নিচের লিঙ্ক থেকে আপনার mobile এর জন্য নির্দিষ্ট version ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

http://www.guidedways.com/mobile/prayertimes/download.php

প্রথমে এটি PC তে download করে mobile এ copy করতে হবে, এরপর mobile থেকেই এটাকে install করে নিতে হবে। install হবার পরে প্রথমে আপনাকে মহাদেশ, দেশ এবং শহর নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

যারা Java Option যুক্ত New Brand Mobile যেমন Symphony, Sprint, Maximus ইত্যাদি ব্যবহার করেন, তারা prayertimes এর Nokia 3110C Version টি ডাউনলোড করবেন। সাধারনত Java Program এ দুটি ফাইল থাকে, একটি .jar ও অপরটি .jad এক্সটেন্সান যুক্ত। এক্ষেত্রে আপনাকে দুটি ফাইলই মোবাইল এ Copy করে তারপর install দিতে হবে।

আশা করি prayertimes সফটওয়্যারটি সবার কাজে লাগবে।

techtunes এ এটাই আমার প্রথম টিউন। ধৈর্যের সাথে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।


রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

যে সব কম্পিউটারের Mother Board এর সিডি নাই


Double Driver হচ্ছে একটি ফ্রী-ওয়্যার যার মাধ্যমে কম্পিউটারের ইনস্টল থাকা সমস্ত ড্রাইভারগুলির ব্যাকআপ নিয়ে রাখা যায়।নতুন পিসি নিলে তার সঙ্গে পাওয়া যায় ড্রায়ভার সিডি যেটি ইনস্টলেশনের পর কাজে লাগে।এছাড়া কম্পিউটার ব্যাবহার করার সময় অনেক ড্রাইভার ইনস্টল করতে হয়।কোন কারনে পিসিকে নতুন করে ইনস্টল করলে এই ড্রাইভারগুলিকেও আবার ইনস্টল করতে হয়। Double Driverএর মাধ্যমে এই সমস্ত ড্রাইভারগুলির ব্যাকআপ নিয়ে রাখা যাবে যা কম্পিউটার নতুন করে ইনস্টল করার পরে এগুলিকে আবার রিস্ট্রোর করা যাবে।
Double Driver রান করার পরে Scan ট্যাবে ক্লিক করলেই পিসিতে থাকা সমস্ত ড্রাইভারগুলিকে পাওয়া যাবে।এখানে ইচ্ছামত ড্রাইভার সিলেক্ট করে বা সমস্ত ড্রাইভারগুলিকে সিলেক্ট করে Backup ট্যাবে ক্লিক করে ড্রাইভারগুলির ব্যাকআপ নেওয়া যাবে।
ব্যাকআপ নেওয়া কমপ্লিট হলে Device Drivers নামের ফোল্ডারটি usb বা সিডিতে ভরে রাখা যাবে,কম্পিউটারে আবার ড্রাইভারগুলি রিস্ট্রোর করার দরকার হলে Device Drivers ফোল্ডারটির ভিতরে থাকা Double Driver আইকনটিতে ক্লিক করে রিস্ট্রোর করা যাবে।

সবাই ভাল থাকবেন। 

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

এক জনের গর্দানে আরেক জনের মাথা লাগান




টেকটিউন্সে এটি আমার প্রথম টিউন।  একটা খুবই ভালো সফটওয়্যার শেয়ার করব আপনাদের কাছে। সেটা হল Face off Max.  এটির সাহায্যে এক জনের গর্দানে আরেক জনের মাথা লাগিয়ে দিতে পারবেন খুবই সহজে। এবং সেটি কেউ বুঝতে পারবেনা। মানে একটা সুপারম্যানের ছবির ওপর আপনার মাথা লাগিয়ে দিতে পারেন।  Face off Max এর ভেতর আপনি অনেক ইমেজ পাবেন সেগুলো দিয়েও কাজ করতে পারেন বা আপনার কম্পিউটারের ইমেজ দিয়েও কাজ করতে পারেন।
সফটওয়্যারটি ওপেন করলে পাবেন-

এরপর বাঁদিকে লাল রং চিহ্নিত লেখা গুলো পড়ুন এবং  Next করুন। তারপর কম্পিউটার থেকে দুটো ছবি নিয়ে Next করুন। এবং এভাবে বাঁদিকে লেখা গুলো পড়তে পড়তে সমস্ত কাজ গুলিই করে ফেলুন। বাঁদিকের লেখা গুলো পড়তে বলছি কারন এগুলো পড়লে খুব সহজেই আপনি প্রোজেক্ট টি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করুন এখান থেকে
সকলকে আমার অশেষ ধন্যবাদ।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

নৌকা মার্কায় ভোট দেবো, দশ টাকায় চাল খাবো !!!


আমারা ১০ টাকায় চাল খাওয়াতে চাই নাই, বিশ্বাস করেন, সত্যি বলছি !!!
গাজী মোঃ ইয়াছিন

আসসালামু অয়ালাইকুম। আশা করি সকলে ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে Exclusive একটি ভিডিও নিয়ে হাজির হয়েছি।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছিলেন বিশ টাকা কেজি চাল খাব না, ধানের শীষে ভোট দেবো না, দশ টাকায় চাল খাবো, নৌকা মার্কায় ভোট দেবো।‘’

যদিও দলের অনেক সিনিয়র অনেক নেতা বিভিন্ন গন মাধ্যমের সামনে ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা অস্বীকার করেছেন।




আজ বাংলার মানুষ ৪০ টাকায় চাল খায়, আগুন লাগানো বেগুন খায়, ২০০ টাকা কেজি মরিচ খায়। শুধু কি তাই নিত্য প্রয়োজনীয় এমন কোন জিনিস নাই যার দাম বাড়ে নাই। শুধু দাম বেড়েই ক্ষান্ত হয় নাই, এমনি বেড়েছে, যা দিন দিন মধ্য বিত্তের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ দিকে আমাদের দায়িত্বশীল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘’ নিত্যপণ্যের দাম কমই বেড়েছে’’। তাহারা কি জনগনের সাথে মস্করা করেন- জাতির বিবেকের কাছে এটা আমার প্রশ্ন।


ভারত বাংলাদেশের কেমন বন্ধু !!! পর্ব-২


মন্তব্য প্রতিবেদন : ভারতের ভূমি আগ্রাসন

মাহমুদুর রহমান
(দ্বিতীয় কিস্তি)
ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ওপর আমার তিন কিস্তির লেখার প্রথম কিস্তিতে ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলকভাবে চালু সম্পর্কিত ভারতীয় প্রতারণার ঘটনা উল্লেখ করেছিলাম। দ্বিতীয় কিস্তি আরম্ভ করছি বেরুবাড়ী নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রতারণার কাহিনী বর্ণনা করে।
১৯৭৪ সালের ১৬ মে দিল্লিতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবিষয়ক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়, তার ১নং ধারার (Article 1) ১৪নং উপধারাটি ছিল বেরুবাড়ী সংক্রান্ত। উপধারাটি নিম্নরূপ:
"India will retain the southern half of South Berubari Union No. 12 and the adjacent enclaves, measuring an area of 2.64 Square miles approximately, and in exchange Bangladesh will retain Dahagram and Angorpota enclaves. India will lease in perpetuity of Bangladesh an area of 178 metres 85 metres near `Tin Bigha' to connect Dahagram with Panbari Mouza (P.S. Patgram) of Bangladesh.
(ভারত দক্ষিণ বেরুবাড়ী ইউনিয়ন নং ১২-এর দক্ষিণার্ধ এবং সংলগ্ন ছিটমহলসমূহ যার আয়তন প্রায় ২.৬৪ বর্গমাইল তার অধিকারে রাখবে এবং বিনিময়ে বাংলাদেশ দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল তার অধিকারে রাখবে। ভারত চিরস্থায়ী লিজের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে তিনবিঘার কাছে ১৭৮ মিটার ৮৫ মিটার জায়গা প্রদান করবে যাতে দহগ্রাম বাংলাদেশের পানবাড়ী মৌজার [থানা পাটগ্রাম] সঙ্গে সংযুক্ত হয়।)
চুক্তির ৫নং ধারায় (Article 5) চুক্তি কার্যকর ও বাস্তবায়নের নিম্নোক্ত পন্থা বর্ণিত হয়,
"This instrument shall be subject to ratification by the Governments of India and Bangladesh and instruments of ratification shall be exchanged as early as possible. The Agreement shall take effect from the date of the exchange of the Instruments of Ratification."
(এই দলিলটি ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনসাপেক্ষ এবং অনুমোদনের একটি দলিল উভয় পক্ষের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব বিনিময় করা হবে। অনুমোদন দলিল বিনিময়ের তারিখ থেকে
এই চুক্তি বলবত্ হবে।)
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি ‘সরল’ বিশ্বাসে শেখ মুজিবুর রহমান চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদে চুক্তি অনুমোদন করিয়ে নেন। এখানে উল্লেখ্য, শেখ মুজিবুর রহমানের সেই সংসদও বর্তমান সংসদের অনুরূপ প্রায় একদলীয় ছিল। সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪ পাঠকের জ্ঞাতার্থে এখানে আংশিক উদ্ধৃত করছি—
“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কতিপয় বিধানের অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন।
যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকর করিবার উদ্দেশ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কতিপয় বিধানের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-
১. সংক্ষিপ্ত শিরনামা ও প্রবর্তন।—(১) এই আইন সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ৩ ধারা ব্যতীত ইহা অবিলম্বে বলবত্ হইবে এবং ৪ ধারার অধীন বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত তারিখে ৩ ধারা বলবত্ হইবে।”
মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির ৫ নম্বর ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ ছিল যে, উভয় সরকারের অনুমোদনের দলিল বিনিময়ের পরই কেবল চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু, অভাবিতভাবে ভারতের কাছ থেকে সে রকম কোনো অনুমোদন দলিল কিংবা তিনবিঘা করিডোরের চিরস্থায়ী লিজ প্রাপ্তি ব্যতিরেকেই ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভারে নতজানু বাংলাদেশের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বেরুবাড়ী ছিটমহল ভারতকে হস্তান্তর করেন। অপরদিকে ভারত তাদের সংসদে বিষয়টি অনুমোদন না করে ঝুলিয়ে রাখে এবং আদালতে মামলার অজুহাতে তিনবিঘা করিডোর আমাদের না দিয়েই বেরুবাড়ী হস্তগত করে নেয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রাপ্য তিনবিঘা করিডোরের চিরস্থায়ী লিজ পায়নি।
ড. মনমোহন সিংয়ের সফরের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার অধিবাসীদের নিজ গৃহে পরবাসীর মতো গ্লানিকর জীবনযাপন করতে হয়েছে। বছরের পর বছর তারা ছিটমহল থেকে নিজ দেশে আসার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতির আশায় বসে থেকেছে। বিএসএফ ইচ্ছে হলে অনুমতি দিয়েছে, অধিকাংশ সময়ই দেয়নি। তারপর কয়েক দশকের অনেক দেন-দরবার শেষে দিনের বারো ঘণ্টা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেলেও রাতের বারো ঘণ্টা ছিটমহলবাসীকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছে। নিদারুণ অসুস্থতার সময়ও তারা জেলা হাসপাতালে চিকিত্সার সুযোগ পায়নি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সুবাদে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতায় বাংলাদেশী নাগরিকদের দীর্ঘ তিন যুগের বন্দিত্বের অবসান হয়েছে। তারা এখন থেকে চব্বিশ ঘণ্টাই মূল ভূখণ্ডে যাওয়া-আসা করতে পারবেন। তবে, কারাগারের দরজা খোলা হলেও আমরা চুক্তি অনুযায়ী করিডোরের চিরস্থায়ী লিজ পেয়েছি কিনা, সেটা এখনও দেশবাসীর অজানাই রয়ে গেছে। যে দরজাটি ভারত চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটি আবারও বন্ধ হবে কিনা তাও জানি না।
ছত্রিশ বছর ধরে চুক্তি প্রতিপালন না করার অপরাধে যেখানে ভারতের নিন্দা প্রাপ্য ছিল, সেখানে এ দেশের ভারতবান্ধব মিডিয়া, রাজনীতিবিদ এবং সুশীল (?) গোষ্ঠী সামান্য দরজা খোলা নিয়েই ড. মনমোহন সিং ও শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন! চব্বিশ ঘণ্টা ছিটমহলের দরজা খোলা রাখাকেই মহাজোট সরকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের বিরাট সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করে চলেছে। কিন্তু যে কোনো বিবেকসম্পন্ন নাগরিকই বুঝবেন ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী বিষয়টি কেবল দরজা খোলা অথবা বন্ধ সংক্রান্ত নয়, বেরুবাড়ী দেয়ার পরিবর্তে অতিশয় ক্ষুদ্র করিডোরটি বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ। ভারত আমাদের এতদিন ‘হাইকোর্ট’ দেখিয়ে একতরফাভাবে চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তরের পরিবর্তে সেখানে দরজা লাগিয়ে, পাহারা বসিয়ে ছিটমহলবাসীদের বন্দি জীবনযাপনে বাধ্য করেছে। এখন আবার ওদের প্রচার মাধ্যম মারফত শুনতে পাচ্ছি, ছিটমহলের চারদিকে নাকি কাঁটাতারের বেড়াও নির্মাণ করা হবে। প্রকৃতপক্ষে, মানসিক বন্দিত্ব থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার বাংলাদেশী নাগরিকদের মুক্তি দিতে ‘মহান’ প্রতিবেশী ভারত এখনও নারাজ।
এবার দেখা যাক ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ভারত ও বাংলাদেশের অন্যান্য ছিটমহলবাসীর দুঃখ-কষ্ট নিরসনে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। চুক্তির এক নম্বর ধারার ১২ নম্বর উপধারাটি নিম্নরূপ,
"The Indian enclaves in Bangladesh and the Bangladesh enclaves in India should be exchanged expeditiously, excepting the enclaves mentioned in paragraph 14 without claim to compensation for the additional area going to Bangladesh."
(১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ছিটমহল ব্যতীত বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত ভারতীয় সকল ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরের বাংলাদেশের ছিটমহলসমূহ দ্রুততার সঙ্গে বিনিময় করা হবে এবং বাংলাদেশের অতিরিক্ত ভূমি প্রাপ্তির বিনিময়ে কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদত্ত হবে না।)
উদ্ধৃত উপধারায় যে ১৪ অনুচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে সেটি দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সম্পর্কিত, যার আলোচনা এর মধ্যেই করেছি।
মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং (Swaran Singh) ১৯৭৪ সালের ২২ জুলাই লোকসভায় নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেন—
"The whole of Berubari will remain with India while the Bangladesh enclaves of Dahagram and Angarpota will remain with that country. All other enclaves of the two countries will be exchanged. We will also lease to Bangladesh an area to connect the enclaves of Dahagram and Angarpota with Bangladesh while ensuring that our nationals retain the facility of passage across this area.
As demarcation takes place, territories in the adverse possession of one or the other country will come to light. These will be exchanged; and we have agreed that the people in areas which are transferred will be given the right of staying on where they are as national of the State to which the areas are transferred."
(সম্পূর্ণ বেরুবাড়ী ভারতের অধিকারে থাকবে এবং বাংলাদেশের দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল তাদের অংশ হবে। অন্য সকল ছিটমহল দুই দেশের মধ্যে বিনিময় করা হবে। আমাদের নাগরিকদের যাতায়াতের অধিকার সংরক্ষিত রেখে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযোগের জন্য একটি জায়গা লিজ দেয়া হবে। সীমান্ত চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়াকালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিকূল অবস্থায় পতিত ভূখণ্ড ক্রমান্বয়ে নজরে আসবে। এই জায়গাগুলো বিনিময় করা হবে এবং আমরা সম্মত হয়েছি যে, জনগণ যার যার জায়গায় অবস্থান করেই ছিটমহল বিনিময় পরবর্তী রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার অধিকার ভোগ করবে।)
একই বছরের ২৬ জুলাই ভারতীয় রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তরকালে তত্কালীন স্টেট মিনিস্টার সুরেন্দ্র পাল সিং (Surendra Pal Singh) রাজ্যসভার সদস্যদের অবহিত করেন যে, ১৯৫৮ সালে সম্পাদিত ভারত ও পাকিস্তানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরু ও ফিরোজ খান নূন (নেহরু-নূন চুক্তি) এর মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তির আলোকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি রাজ্যসভাকে আরও জানান যে, ছিটমহল বিনিময় সমাপ্ত হলে ভারত এবং বাংলাদেশ যথাক্রমে ৭ ও ৭.২১ বর্গমাইল ভূমিপ্রাপ্ত হবে। (The area thus be retained by India is estimated at approximately 7.0 square miles and the area retained by Bangladesh at 7.21 square miles.)
ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের পর আমরা দেখতে পাচ্ছি, ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি আগের মতোই হিমাগারে রেখে কেবল তথাকথিত অপদখলীয় জমি হস্তান্তর হচ্ছে। এর ফলে একতরফাভাবে ভারত লাভবান হচ্ছে। এর মধ্যেই আসাম আমাদের ভূখণ্ড থেকে ১২৩৯ একর জমি পেয়েছে যার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি মাত্র ৩৫৭ একর জমি। একইভাবে মেঘালয় রাজ্যকে ২৪০ একর জমি ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে আমরা মাত্র ৪১ একর পেয়েছি। আসাম এবং মেঘালয় থেকে আমাদের যত্সামান্য জমি প্রাপ্তি নিয়েও সংশয় রয়েছে। ওই দুই রাজ্যে বিজেপি’র নেতৃত্বে অন্যান্য বিরোধীদল স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে বাংলাদেশকে জমি প্রদানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। তিনবিঘা করিডোর নিয়ে ভারত আমাদের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছিল, অপদখলীয় জমির বিনিময় নিয়েও একই প্রকার প্রতারণার আশঙ্কা অবস্থাদৃষ্টে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে কোনো দৃঢ় ও পরিষ্কার অবস্থান দেশবাসী দেখতে পায়নি। বৃহত্তর সিলেটের সীমান্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ তাদের সাধ্যমত বিক্ষোভ-সমাবেশ করলেও রাজধানীতে তার কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতিতে অভ্যস্ত শাসকশ্রেণী বাংলাদেশের অসহায় নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ভারতকে সন্তুষ্ট রেখেই তাদের রাজনীতি করতে অধিকতর আগ্রহী বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। অপদখলীয় জমি বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে প্রভূত লাভবান হচ্ছেন। আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের সুগভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনাকে এখন ওইসব রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানেরও প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়েছে। সম্ভবত, আগামী মাস থেকেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সেসব ডিগ্রি আহরণ অভিযান শুরু হবে।
নরওয়ের নোবেল কমিটি শেখ হাসিনার মর্যাদা না বুঝলেও ভারত কিন্তু যথাযথ প্রতিদান দিতে কসুর করছে না। অপদখলীয় জমি বিনিময়ের ব্যাপারে শেখ হাসিনা সরকার অতিউত্সাহী হলেও ছিটমহলবাসীদের দীর্ঘ ৬৪ বছরের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কোনো মাথাব্যথা নেই। আর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রের ছিটমহলের অসহায়, দরিদ্র মানুষগুলো এখন অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। তারা অনশন করছেন, নিষ্প্রদীপ মহড়া করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের উদাসীন শাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণের যথাসম্ভব চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের কাছ থেকে বার বার প্রতারিত হওয়া সত্ত্বেও তারই কন্যা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেবেন না বলে ধনুর্ভঙ্গ পণ করেছেন। তিনি এবং তার সুপার উপদেষ্টারা ভারত প্রেমে এতটাই বেহুঁশ যে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির কোনো রকম স্বার্থ তারা বিবেচনাতেই আনছেন না। দুই ‘সুপার’ উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও ড. মসিউর রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি তো প্রেমের পরীক্ষায় আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত মজনুকেও হার মানিয়েছেন। এমন দিওয়ানা শ্রেণীর হাতে রাষ্ট্র কিংবা জনগণের স্বার্থ কোনোটিই নিরাপদ নয়। ভারত শুধু যে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করে বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে তাই নয়, আমাদের দেশের চারদিক ঘিরে কাঁটাতার নির্মাণের সময়ও তারা আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যকার ১৫০ মিটার এলাকায় কোনো স্থায়ী স্থাপনা (Structure) নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও ভারত সেটি মানছে না। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো : বিরোধপূর্ণ মুহুরি নদী এলাকায় বাংলাদেশ সরকার ভারতকে মাঝ নদী বরাবর ‘জিরো’ পয়েন্টে বেড়া নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান একতরফা অবস্থা এতটাই দৃষ্টিকটু ঠেকছে যে, সরকারপন্থী মিডিয়া পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশের ইসলামীপন্থীদের আওয়ামী বলয়ে আকৃষ্ট করার মিশনে নিয়োজিত ‘দৈনিক ইনকিলাব’ পত্রিকায় ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রকাশিত ‘লিড স্টোরি’র শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের জমি চলে যাচ্ছে ভারতের অংশে।’ সংবাদটির ‘ইন্ট্রো’ পাঠকদের জ্ঞাতার্থে উদ্ধৃত করছি, ‘সীমান্ত নদী ভাঙনে বাংলাদেশের জমি ভারতের অংশে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নদীমুখে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে দ্রুততর করা হচ্ছে ভাঙন প্রক্রিয়া। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির অপব্যাখ্যা দিয়ে ভারত এসব জমির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। আর এসব জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা, দেয়া হচ্ছে কাঁটাতারের বেড়া।’ ২০০৮ সালের নির্বাচনে অর্থ প্রদানসহ নানা কিসিমের ভারতীয় সহায়তার ঋণ চুকাতে উদগ্রীব সরকারের বিগত তিন বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষিত থেকেছে। কাজেই এদের আমলে সম্পাদিত কোনো চুক্তিই এ দেশের দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দক্ষিণ তালপট্টিতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয় অবতারণা করে ড. মনমোহন সিংয়ের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের প্রেক্ষিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর রচিত মন্তব্য প্রতিবেদনের দ্বিতীয় কিস্তি শেষ করব। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ তালপট্টি নামে যে ভূখণ্ডটি ক্রমেই জেগে উঠছে, সেটি র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী বাংলাদেশের অংশ হলেও সামরিক শক্তির জোরে ভারত সেই ভূখণ্ডকে অপদখলে রেখেছে। র্যাডক্লিফ রোয়েদাদে ‘থলওয়েগ ডকট্রিন’ (Thalweg Doctrine) এর মিড-চ্যানেল ফ্লো (mid channel flow)’র নীতিমালার ভিত্তিতে নদী দ্বারা বিভক্ত সীমানায় ভূমির ওপর সার্বভৌমত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। হাড়িয়াভাঙ্গা (Hariabhanga) নদীতে সেই নীতি প্রয়োগ করলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দক্ষিণ তালপট্টি নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ভূখণ্ড। মরহুম জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ দক্ষিণ তালপট্টির ওপর তার সার্বভৌমত্ব দাবি করে। কিন্তু ক্ষমতাশালী ভারতীয় নৌবাহিনী আমাদের কোনো নৌযানকেই ওই এলাকায় যেতে দিচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দক্ষিণ তালপট্টিকে ‘নিউ মুর দ্বীপ’ (ঘব িগড়ড়ত্ব ওংষধহফ) এবং পূর্বাশা নামে অভিহিত করে ভূখণ্ডটিকে তাদের বলে দাবি করছে। ১৯৮১ সালে ভারত সেখানে তাদের পতাকা ওড়ায় এবং একটি অস্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্পও প্রতিষ্ঠা করে।
একবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global warming) প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ তালপট্টি সম্পূর্ণভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির নিচে চলে গেলেও এই অগভীর স্থানে ২৫ থেকে ৩০ বর্গ মাইল বিশিষ্ট ভূমি জেগে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণের সময় তত্কালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের নগ্ন পক্ষপাতিত্বের কারণে সিরিল র্যাডক্লিফ (Cyril Radcliff) সেই সময়কার ব্রিটিশশাসিত ভারত উপমহাদেশের যে সীমানা বিভাজন করেন, তাতে পাকিস্তান পরিষ্কারভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ সেই র্যাডক্লিফের অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী দক্ষিণ তালপট্টি আয়তনে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বাংলাদেশের অংশ হলেও বিপুলাকায় ভারত আজ সেটি মানতে সম্মত নয়। ১৯৪৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর ভারতের আগ্রাসী তত্পরতার কখনই অবসান ঘটেনি। একই চিত্র আমরা বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দেখতে পাচ্ছি। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশেও আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্ প্রতিবেশী ভারত বন্ধুসুলভ সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে তাদের আধিপত্যবাদী চেহারাটাকেই স্বাধীনতাত্তোর চল্লিশ বছর ধরে দেখিয়ে এসেছে।
নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার বিনিময়ে ভারতকে পুরো দেশটি ইজারা দেয়ার যে বন্দোবস্ত বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে, তাকে পরাজিত করেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা’র প্রমাণ দিতে হবে। জনগণকে উপলব্ধি করতে হবে অতিমাত্রায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফেরিওয়ালারাই বর্তমান সময়ের স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যেও বৃহত্ ভারতে বাংলাদেশের লীন হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে। পাকিস্তানপন্থী রাজাকারদের ১৯৭১-এ পরাজিত করার বিরোচিত ইতিহাস থেকেই বর্তমানের ভারতপন্থী রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি সমাপ্ত করছি।

ইমেইল— admahmudrahman@gmail.com

সুত্রঃ দৈনিক আমারদেশ, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ভারত বাংলাদেশের কেমন বন্ধু !!! পর্ব- ১


মন্তব্য প্রতিবেদন : তিস্তা আমাদের অধিকার করিডোর ওদের আবদার

মাহমুদুর রহমান
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ নিনাদে ঢাকঢোল পেটানো সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের আগেরদিন ‘দেশপ্রেমিক হলে দেশের স্বার্থ দেখুন’ শিরোনামে যে মন্তব্য প্রতিবেদনটি লিখেছিলাম, সেখানে মূলত ট্রানজিটের মোড়কে করিডোর, পানি আগ্রাসন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং সীমান্ত হত্যা, এই চারটি প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছিল। সেই লেখায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পর্কে যে আগাম মন্তব্যটি করেছিলাম, সেটি উদ্ধৃত করেই ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অমীমাংসিত ইস্যু বিষয়ক তিন কিস্তির মন্তব্য প্রতিবেদন শুরু করছি।
আমি লিখেছিলাম, “এদিকে দু’দিন আগে বলা হলো, তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি নাকি ড. মনমোহনের সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের এজেন্ডা থেকেই বাদ দেয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে শোনা গেল, আলোচনা থেকে তিস্তাচুক্তি বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন একজন অতিমাত্রায় ভারতপন্থী উপদেষ্টা। সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী অবশ্য তিস্তা পানিচুক্তি এজেন্ডায় ফেরত এসেছে। তবে সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কী পরিমাণ পানি পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আর এক অনিশ্চয়তা। ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় লেখা হয়েছে, গজলডোবা পয়েন্টে পানি ৫২:৪৮ হারে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগাভাগি হবে। অপরদিকে বিবিসি রেডিওতে পশ্চিমবঙ্গের ওই এলাকার সাংসদ বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি মাত্র ২৫ শতাংশ পানি পাবে। উল্লেখ্য, গজলডোবা পয়েন্টের আগেই অন্তত ডজনখানেক স্থান থেকে ভারত তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে চলেছে। অথচ এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার নিশ্চুপ, জনগণ অন্ধকারে। তিস্তা নিয়ে প্রতিদিন যেভাবে নাটকের স্ক্রিপ্টের পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত কোনো রকম ভরসা পাচ্ছি না।”
আমার আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়েছে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে চুক্তি না হওয়ার জন্য আমি এদেশের একজন নাগরিক হিসেবে যতটা হতাশ হয়েছি, তার চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন হয়েছি এই চুক্তি না হওয়ার পেছনের কারণটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মারফত জানতে পেরে। বাংলাদেশ এবং ভারতের ক্ষমতাসীন মহল তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির নামে প্রকৃতপক্ষে এদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণে সেই প্রতারণার বিষয়টি এখন ফাঁস হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনগণের তিস্তার পানির ন্যায্য অধিকারের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করলেও একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তার স্বচ্ছতার অবশ্যই
প্রশংসা করতে হবে। আমাদের দুই ‘সুপার’ উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলে বাংলাদেশ ৪৮ শতাংশ পানি পাচ্ছে বলে প্রচারণা চালালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণে জানা গেল আমরা গজলডোবা পয়েন্টে মাত্র ৩৩ শতাংশ পানি পেতে যাচ্ছিলাম।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, তার সম্মতিতে যে খসড়া চুক্তি প্রাথমিকভাবে প্রণীত হয়েছিল সেখানে বাংলাদেশের অংশ আরও অনেক কম অর্থাত্ ২৫ শতাংশ স্থির হয়েছিল। সম্ভবত সে কারণেই পশ্চিমবঙ্গের ওই এলাকার সাংসদ বিবিসি রেডিওতে প্রদত্ত সাক্ষাত্কারে তেত্রিশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশের কথাই জানিয়েছিলেন। খসড়া এবং চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যকার ফারাকের কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষমুহূর্তে বেঁকে বসেছেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তিস্তার পানির আধাআধি হিস্যা দাবি করে এসেছে। পানি নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা ভারত অবশ্য আমাদের সঙ্গে নতুন করছে না। ১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করেছিল বাংলাদেশের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রতারণা করেই।
১৯৭৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ভারত সফর শেষে স্বাক্ষরিত যুক্ত বিবৃতির সূত্র ধরে ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে, এই ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর (Test run) ভারতীয় প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতিতে রূপান্তরিত শেখ মুজিবুর রহমান। দুই দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল Feeder canal-এর এই অস্থায়ী Test run সম্পন্ন হলে উভয় দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভাগাভাগি করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার পরই কেবল ফারাক্কা বাঁধ স্থায়ীভাবে চালু করা হবে।
বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ফারাক্কা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেই বিবৃতির নিচের উদ্ধৃতাংশেও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা Test run একটি সাময়িক কার্যক্রম হওয়ারই কথা ছিল—
"It is to be hoped that this question will now be resolved at the next meeting and a firm and final solution found in a spirit of understanding and friendship safeguarding the legitimate rights and interests of both the countries. A significant step forward had been taken with the conclusion in April 1975 of a short term arrangement providing for the operation of the Feeder canal of the Farakka Barrage during the lean season last year, pending further discussions regarding the allocation of the lean season flows of the Ganga in terms of the Joint Declaration of the Prime Ministers of India and Bangladesh of May 16, 1974."
(আশা করা যাচ্ছে যে, সমঝোতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনায় এই সমস্যার এমন একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানে উপনীত হওয়া সম্ভব হবে যাতে করে উভয় দেশের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে ফারাক্কা বাঁধের সংযোগ খাল চালুর একটি স্বল্পকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গত বছরের শুষ্ক মৌসুমের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তবে ১৯৭৪ সালের ১৬ মে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতির আলোকে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিবণ্টন সম্পর্কিত আলোচনা এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।)
কিন্তু ভারত তার কথা রাখেনি। পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ৪১ দিনের জন্য বাঁধ চালু করার ছদ্মাবরণে তারা সেই যে ফারাক্কা বাঁধ থেকে গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার শুরু করেছিল, তার অবসান আর কোনোদিন হয়নি। ফলে গত ৩৬ বছরে আমাদের এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা ক্ষীণকায়া স্রোতস্বিনীতে পরিণত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকাও আজ মরুকরণ প্রক্রিয়ায় পতিত। ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান আর মাত্র সামান্য ক’টা দিন জীবিত ছিলেন। কাজেই আমাদের জানার উপায় নেই যে, তিনি ভারতীয় প্রতারণা সম্পর্কে আগাম জানতেন কিনা। দুর্ভাগ্যবশত তার কন্যার ক্ষেত্রে সেই benefit of doubt দেয়া যাচ্ছে না। বরঞ্চ, অবস্থাদৃষ্টে দেশবাসীর কাছে আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দুই সুপার উপদেষ্টাসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিস্তাচুক্তি নিয়ে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এখন আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির দরকষাকষিতে অধিকতর সতর্ক হতে হবে। গজলডোবা পয়েন্টের পানি শতকরা হারে ভাগাভাগির পরিবর্তে গ্যারান্টি ক্লজসহ পানির পরিমাণ (হাজার কিউসেক) নিশ্চিত করা গেলেই কেবল বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। যেনতেন একটি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য বরং অমঙ্গলই ডেকে আনবে। ঝানু কূটনীতিকরা বলে থাকেন, "No treaty is better than a bad treaty" (চুক্তি না থাকা খারাপ চুক্তির চাইতে ভালো)। তিস্তা নদীতে মোট পানিপ্রবাহের পরিমাণের অঙ্ক নির্ধারণেও বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক পানি বিশেষজ্ঞদের অবিলম্বে সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যক, যেন সেখানেও বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশের ভারতবন্ধুরা মিলে আমাদের কোনো শুভঙ্করের ফাঁকিতে ফেলতে না পারে।
সেই পাকিস্তান আমল থেকেই ভারত আমাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত পানি আগ্রাসন চালালেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির সব প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কেবল আশ্বাসবাণীই শুনে এসেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাতিলের দাবির প্রেক্ষিতে ড. মনমোহন সিং তার পূর্বসূরিদের চর্বিত চর্বণ পুনরাবৃত্তি করে ঢাকায় বলেছেন, “ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” বছরের পর বছর ধরে এই অভিন্ন বাক্য শুনতে শুনতে বাংলাদেশের জনগণ ক্লান্ত হয়ে পড়লেও আশ্চর্যজনকভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীদের একই কথা বলাতে যেন কোনো ক্লান্তি নেই।
শেখ হাসিনা এবারের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে অবিকল একই মন্তব্য করেছিলেন। অথচ ভারত বরাক নদীতে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি মরণ বাঁধ নির্মাণ থেকে সরে আসার কোনো প্রতিশ্রুতি আজ পর্যন্ত দেয়নি। ১৯৫১ সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে পাকিস্তান সরকারের উদ্বেগের জবাবে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুও এই কথাই বলেছিলেন। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হয়নি, বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ষাট বছর পর এমন দাবি ‘র’ (raw)-এর বেতনভুক বাংলাদেশী এজেন্টরাই কেবল করতে পারেন।
যা হোক, শেষ কথা হলো মহাজোট সরকার তিস্তার পানি নিয়ে আমাদের আশার এক প্রকাণ্ড বেলুন ফুলিয়ে তুললেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে ভারত চূড়ান্ত মুহূর্তে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে। ড. মনমোহন সিং বাড়ি বয়ে এসে শেখ হাসিনাকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে দেশের কোনো কল্যাণ সাধন হতে পারে না। এখন বাংলাদেশের জন্য অধিকতর আশঙ্কার বিষয় হলো, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই গণবিরোধী, ভারতপন্থীরা আমাদের স্বাধীনতা হরণের নতুন কৌশল প্রণয়নে কোমর বেঁধে লেগে গেছে।
এই গোষ্ঠী টেলিভিশন ‘টক শো’ এবং পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে তিস্তার পানির সঙ্গে করিডোর বিনিময়ের একটি পটভূমি তৈরির অপচেষ্টায় জনগণের মগজ ধোলাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশেই যে এরা মাঠে নেমেছেন, তার প্রমাণ বিতর্কিত ‘সুপার উপদেষ্টা’ ড. গওহর রিজভীর আরটিভিতে ৮ তারিখের লাইভ ইন্টারভিউতেই মিলেছে। শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর তিস্তার পানি এবং করিডোর, এই দুই বিষয়কে এক না করার পরামর্শের জবাব এড়িয়ে ড. গওহর রিজভী দ্বিপাক্ষিক লেনদেনের বায়বীয় গল্প বলে সরকারের অস্বচ্ছ, রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকেই পুনর্বার স্পষ্ট করেছেন। একটি চিহ্নিত কট্টর ভারত ও সরকারপন্থী পত্রিকায় ৯ সেপ্টেম্বর ‘আধাঘণ্টায় পাল্টে যায় পরিস্থিতি’ শিরোনামের লিড নিউজে লেখা হয়েছে, “আধাঘণ্টায় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সব পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ঘুরে দাঁড়ায়। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির সঙ্গে বাদ পড়ে যায় ট্রানজিটের সম্মতিপত্র সইও।”
মার্কিন ও ভারতপন্থী সুশীল (?) পত্রিকা দি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ওই ৯ তারিখেই তাদের সহযোগী বাংলা পত্রিকা প্রথম আলোতে লিখেছেন, “দুই দেশের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের কাছে ভারতের চাওয়ার প্রধান বিষয়—নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ট্রানজিট সুবিধা। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আগেই দেয়া হয়েছে। ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার ব্যাপারেও বাংলাদেশ নীতিগত সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান বিষয়—অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা এবং বাণিজ্য-বৈষম্য কমানো। দ্বিতীয়ত, ভারত কেন ট্রানজিট চাইছে? উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য। আমরা কেন পানি চাইছি? আমাদের উন্নয়নের জন্য।” কী চমত্কারভাবেই না আমাদের ন্যায্য অধিকারকে ভারতের আধিপত্যবাদী আবদারের সঙ্গে উন্নয়নের নামে তুলনীয় করে দেখানো হয়েছে! মাহফুজ আনাম এবং তার স্বগোত্রীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে করিডোর দেয়ার পক্ষে ওকালতি করে চলেছেন। সেদিন মাছরাঙা টেলিভিশনে এক সাক্ষাত্কারে ট্রানজিটের মোড়কে করিডোরের পক্ষে তার নীতিগত অবস্থানের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে তিনি অবশ্য সততার পরিচয় দিয়েছেন।
আসল কথা হলো, প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে ষোলো কোটি মানুষের অধিকারকে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিবেশীর আবদারের কাছে বিসর্জন দিলেও দেশে কোনো কার্যকর প্রতিবাদের ঝড় না ওঠে। একথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ভারতপন্থীদের লক্ষণীয় প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ বিকিয়ে ভারতের সন্তুষ্টি অর্জনই যাদের মোক্ষ, সেই গোষ্ঠী গত দুই দশক ধরে করিডোরের বিনিময়ে ঐশ্বর্য প্রাপ্তির এক অবাস্তব স্বপ্ন ফেরি করে বেড়িয়েছেন। ড. মনমোহনের সফর বাংলাদেশের মোহাবিষ্ট জনগণকে অবশেষে এক জোরদার ঝাঁকুনি দিয়ে কঠিন বাস্তবে নামিয়ে এনেছে। সেই বিবেচনায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নিষম্ফল সফর আমার বিবেচনায় একেবারে বৃথা হয়নি। রাস্তাঘাটের আলাপচারিতায় আমার কাছে অন্তত মনে হচ্ছে, একাত্তরের মহান মুক্তিসংগ্রামের সেই স্বাধীনতার স্ফুলিঙ্গ দীর্ঘকাল বাদে গণমানসে আবার যেন দেখতে পাচ্ছি। কবি ফরহাদ মজহারের প্রত্যাশামত এদেশের জনগণের হুঁশ বোধহয় ফিরতে শুর করেছে। ১৯৭১ সালে পিন্ডি যদি আমাদের ‘দাবায়ে’ রাখতে না পেরে থাকে, ইন্শাআল্লাহ্ ২০১১-তে দিল্লিও পারবে না।
বাংলাদেশের জনগণের উপলব্ধি করা কর্তব্য যে, আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে ভারতকে করিডোর দেয়ার প্রস্তাবে আমরা স্বপ্নে প্রাপ্ত কোনো ‘প্রাচুর্যের’ বিনিময়েই সম্মত হতে পারি না। আধিপত্যবাদী প্রতিবেশীকে একবার করিডোর দেয়া হলে এদেশে অশান্তি ও যুদ্ধবিগ্রহ অবশ্যম্ভাবী। ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্যের প্রতিটিতেই সেই ১৯৪৭ সাল থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংস আন্দোলন চলছে। সেসব সশস্ত্র সংগঠনকে দমনের জন্য বিপুলসংখ্যায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছয় দশক ধরে কেবল সেখানে অবস্থানই করছে না, আকাশ ও স্থলপথে তাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য নিয়মিত প্রয়োজনীয় সামরিক রসদও প্রেরণ করা হচ্ছে। ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং সাত রাজ্যের মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ার কারণে স্থলপথে রসদসমূহ জলপাইগুড়ির চিকেন নেক ঘুরে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে একদিকে ভারত সরকারের যেমন ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে, অপরদিকে বিরোধীপক্ষের সামরিক আক্রমণে চিকেন নেক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও সার্বক্ষণিকভাবে থেকে যাচ্ছে।
সুতরাং মুখে উন্নয়নের কথা প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সামরিক স্বার্থেই বাংলাদেশের বুক চিরে ভারতের করিডোর আবশ্যক। চীনের সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ষোলো কোটি মানবসন্তানের এক দরিদ্র ও শান্তিপ্রিয় জনগোষ্ঠী। এশিয়ার দুই বৃহত্ শক্তির দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িত হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। বাংলাদেশের বর্তমান শাসকশ্রেণী ভারতকে করিডোর দিয়ে সেই দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টায় রত হয়েছে। তাছাড়া ভারতে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় জঙ্গিবাদ এক বিপজ্জনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এই উপমহাদেশের তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশই সামগ্রিকভাবে জঙ্গিবাদমুক্ত রয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশ সফর করছিলেন, সেই সময় দিল্লি হাইকোর্টে সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছে। করিডোর প্রদান করে আমরা এদেশে জঙ্গিবাদ আমদানির ঝুঁকি নিতে পারি না। বর্তমান সরকারের দেশের স্বার্থবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে হলে দেশপ্রেমিক জনতার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তাছাড়া অর্থনৈতিক বিবেচনাতেও করিডোর প্রদান দেশের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এ বিষয়টি বুঝতে পেরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টারা এখন দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ লাভের বদলে পরোক্ষ আয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখানো ফতোয়াবাজরা ভোল পাল্টে সরকারকে সম্প্রতি ধীরে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। অবশেষে শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্য এসব মরশুমী বুদ্ধিজীবীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ড. গওহর রিজভী নতুন থিওরি কপচাচ্ছেন, শুল্ক তেমন একটা পাওয়া না গেলেও ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারদের সেবায় বাংলাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ খুললে সেখান থেকেই আমাদের প্রচুর আয়-রোজগার হবে! এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, একটি ‘ট্রানজিট রাষ্ট্র’ হওয়ার জন্যই নাকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। একই অর্থমন্ত্রী এমন দাবিও করেছেন যে, ২০১০ সালেই তারা ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে দিয়েছেন।
অপরদিকে ড. গওহর রিজভী এবং ড. মসিউর রহমান মনে করেন, ১৯৭২ এবং ১৯৭৪ সালে প্রণীত বাণিজ্য চুক্তি ও মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতেই নাকি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে গেছেন। আমার বিবেচনায় এসব বক্তব্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য কেবল অবমাননাকরই নয়, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলকও। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অপসংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় মাদক আগ্রাসনেরও শিকারে পরিণত হয়েছে। করিডোর দেয়া হলে তরুণদের মধ্যে ভারতীয় মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক অপরাধপ্রবণতাও এদেশে বৃদ্ধি পেতে বাধ্য। মরণব্যাধি ‘এইডসে’র মহামারীতে ভারত বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এ ধরনের ব্যাধি বিভিন্ন দেশে ভারী যানবাহন চালকদের মাধ্যমেই সচরাচর সংক্রমিত হয়ে থাকে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সর্বদিক থেকে একটি বিপজ্জনক রাষ্ট্রে পরিণত করতে উদ্যত হয়েছে। আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ করতে হলে এদের প্রতিহত না করে উপায় নেই।
আসুন সমস্বরে বলি, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ভারতকে দিতেই হবে, কারণ এটা আমাদের অধিকার। এবং সেই পানির বিনিময়ে করিডোর প্রদানের অপকৌশল আমরা কিছুতেই বাস্তবায়ন হতে দেবো না। ড. মনমোহন সিং তার এই সফরে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা হরণের অর্ধেকটা Framework Agreement স্বাক্ষর করতে শেখ হাসিনা সরকারকে বাধ্য করার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন। এরপর করিডোর নিতে পারলেই বাংলাদেশকে আক্ষরিক অর্থেই একটি vassal state (পোষ্য রাষ্ট্র)-এ রূপান্তর করা যাবে। এ বিষয়ে দ্বিতীয় কিস্তিতে বিশদভাবে লেখার ইচ্ছে রইল। করিডোর প্রদানের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেই এ সপ্তাহের মন্তব্য প্রতিবেদন সমাপ্ত করছি।


admahmudrahman@gmail.com




সুত্রঃ দৈনিক আমারদেশ, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১১

শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে আরবী পড়ার জন্য একটি সফটওয়্যার……..

এই সফটওয়্যারটি আপনাদের উচ্চারন সহ আরবী বলে দিবে,বই দেখে যদি ভুল পড়েও থাকেন সফটওয়্যারটি দিয়ে শুদ্ধ করে নিতে পারবেন।

এখান থেকে ডাউনলোড করুন

ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে জানুন


ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে হলে…..


ছবি তুলতে এখন আর ফিল্ম শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তা মাথায় না রাখলেও চলে। হাতের ছোট-খাট আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আপনি এখন অনায়াসেই তুলে ফেলতে পারেন হাজার খানেক ছবি। বিভিন্ন আঙ্গিকের, বিভিন্ন মাত্রার। সহজে বহন উপযোগী ও ফিল্মের ঝামেলা না থাকার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল ক্যামেরা এ দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খুব দ্রুতই ফিল্ম ক্যামেরা হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। এ ধরনের ক্যামেরাও এখন আর দুষ্প্রাপ্য ও দামি কোনো বিষয় নয়। বাংলাদেশের মানুষের ইলেকট্রনিক পণ্যাদি ক্রয়ের তালিকায় শীর্ষ স্থানটিই এই মুহূর্তে দখল করে আছে ডিজিটাল ক্যামেরা। কিন্তু এই ক্যামেরা কেনার সময় কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের বেশি মনোযোগী হতে হবে—সে বিষয়ে রয়েছে এক ধরনের অজ্ঞতা। আসুন, আমরা দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিই, ডিজিটাল ক্যামেরা ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমাদের কোন বিষয়গুলো নজরে রাখা উচিত বা কোন বিষয়গুলো দেখে, পরখ করে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনা উচিত।
মেগাপিক্সেল:
আমাদের সবার একটা সাধারণ ধারণা রয়েছে, একটি ডিজিটাল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি হবে, ছবির মানও তত ভালো হবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মেগাপিক্সেল কেবল ছবির আকার নির্ধারণ করে। ‘পিকচার এলিমেন্ট’ শব্দদ্বয় থেকেই ‘মেগাপিক্সেল’-এর উত্পত্তি (pixel)। প্রতিটি ডিজিটাল ক্যামেরার প্রায় ৮০ লাখ পিক্সেল থাকে। একটি ৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ৪ গুণ ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ছবি তোলা যাবে। ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে তোলা যাবে ১১ গুণ ১৭ ইঞ্চি আকারের ছবি। ১০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় ফুটে উঠবে ১৩ গুণ ১৯ ইঞ্চি আকারের ছবি।
সেনসর
ক্যামেরার ভেতরের একটি ছোট্ট চিপ বিদ্যমান। এই চিপ ছবি রেকর্ডে সহায়তা করে। একে বলা হয় ইমেজ সেনসর। এই ইমেজ সেনসরের ওপরই আপনার তোলা ছবির মান নির্ভর করছে। এই সেনসর ২৫ এমএম২ থেকে ২০০০ এমএম২ মানের হয়ে থাকে। বড় মানের ইমেজ সেনসর সাধারণত এসএলআর ক্যামেরায় থাকে। ইমেজ সেনসরের আকার যত বড় হবে, ছবির মান তত ভালো হবে। ডিজিটাল ক্যামেরার দুনিয়ায় সাধারণত দুই ধরনের ইমেজ সেনসর দেখা যায়। একটি সিসিডি ও আপরটি সিএমওএস। সিএমওএস সেনসর সাধারণত কম ব্যাটারি খরচ করায়। এর গতিও সিসিডির চেয়ে অনেক বেশি।
জুম
ক্যামেরাগুলোর সাধারণ দুই ধরনের জুম থাকে। একটি অপটিক্যাল ও অপরটি ডিজিটাল। এই দুই ধরনের জুমের মধ্যে অপটিক্যাল জুম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লেনসের ফোকাল লেংথ পরিবর্তন করে সাবজেক্টকে অনেক কাছে নিয়ে আসে। এতে ছবির মান অটুট থাকে।
ডিজিটাল জুম সাধারণত সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত। তবে আমাদের দেশে এখনো ডিজিটাল জুমসংবলিত ক্যামেরা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই রয়েছে।
আইএসও
আইএসও আলোর ব্যাপারে সেনসরের স্পর্শকাতরতা (sensitivity) নির্দেশ করে। উচ্চমাত্রার আইএসও তৈরি করে উচ্চমাত্রার স্পর্শকাতরতা। উচ্চমাত্রার আইএসও দিয়ে আপনি স্ফটিকস্বচ্ছ ছবি তুলতে পারবেন। কিছু ডিজিটাল ক্যামেরা এই আইএসও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে নেয়। অনেক ক্যামেরায় ইচ্ছামাফিক আইএসও নির্ণয়ের অপশন থাকে ।

তথ্যসুত্রে: prothom-alo.com

রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ফায়ার ফক্সের অ্যাড অন্স



ফায়ারফেক্সর ১০ অ্যাড-অন্স

মাউসবিহীন ব্রাউজিং

শুধু কিবোর্ড ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সুবিধা দেবে এই অ্যাড-অন্সটি। ওয়েবপেইজের বিভিন্ন লিংক, বাটন ইত্যাদির পাশে কিছু ইউনিক নম্বর উল্লেখ করা থাকে। কোনো বাটনে ক্লিক করতে বা কোনো লিংকে যেতে কিবোর্ড দিয়ে ওই নম্বর টাইপ করে এন্টার প্রেস করলেই হবে। https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/mouseless-browsing থেকে অ্যাড-অন্সটি ডাউনলোড করা যাবে।

মেইল নোটিফায়ার

ই-মেইলের ইনবক্স দেখার জন্য লগইন করতে হয়। ইয়াহু ব্যবহারকারীরা https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/yahoo-mail-notifier এবং জিমেইল ব্যবহারকারীরা https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/gmail-notifier থেকে মেইল নোটিফায়ার ডাউনলোড করে নিলে মেইল আসার সঙ্গে সঙ্গেই এটা সংকেত দিয়ে তা জানিয়ে দেবে।

এভিয়ারি
অনেক সময় ওয়েবসাইটের 'স্ক্রিনশট' সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। এভিয়ারি অ্যাড-অন্সের মাধ্যমে পূর্ণ ওয়েবসাইট স্ক্রিনশট নেওয়ার পাশাপাশি পেইজের নির্দিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/aviary-screen-capture-quick-la থেকে এটা ডাউনলোড করা যাবে।

পাসওয়ার্ড মেকার

এই অ্যাড-অন্সটি পাসওয়ার্ড তৈরিতে সাহায্য করে। বিভিন্ন সাইট বা মেইলের জন্য ব্যবহারকারীরা হয়তো নির্দিষ্ট কিছু পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকে, যা নিরাপদ নয়। ভালো কিছু পাসওয়ার্ডের ধারণা পাওয়া যাবে এই অ্যাড-অন্সের মাধ্যমে। https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/passwordmaker থেকে এটা ডাউনলোড করা যাবে।
মজ ব্যাকআপ
ফায়ারফক্স আপডেট করলে বা রি-ইনস্টল করলে অনেক সময় বুকমার্ক মুছে যায়। সে ক্ষেত্রে নতুন করে আবার সব ওয়েবসাইটের ঠিকানা বুকমার্ক, কুকিজ, পাসওয়ার্ড ও হিস্ট্রিসহ অন্যান্য সেটিংস সেভ করে নিতে হবে ম্যানুয়ালি। তবে এসব ঝামেলা থেকে বাঁচতে আগে থেকে মজিলা ফায়ারফক্সের ব্যাক-আপ নিয়ে রাখতে পারেন। মজ ব্যাক-আপ নামক অ্যাড-অন্সে এ সুবিধা রয়েছে। http://mozbackup.jasnapaka.com থেকে এটা ডাউনলোড করা যাবে।

ইমেজ জুম

Ctrl++ চেপে ব্রাউজারের লেখা বা ছবি বড় করে দেখা যায়। ইমেজ জুম নামক একটি অ্যাড-অন্স ইনস্টল করে নিলে ওয়েবপেইজের নির্দিষ্ট একটি ছবি বড় করে দেখা সম্ভব। https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/image-zoom থেকে এই অ্যাড-অন্সটি ডাউনলোড করা যাবে।

ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোডার
ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে ভিডিও দেখার সুবিধা থাকলেও এ থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। ইজি ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোডার অ্যাড-অন্সটির মাধ্যমে ভিডিও ডাউনলোড করার সুযোগ রয়েছে। https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/easy-youtube-video-downl-10137/ থেকে এটা ডাউনলোড করা যাবে।

বাংলা বানান পরীক্ষক

বাংলা ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ছে বাংলায় ই-মেইল, পোস্ট, নিবন্ধ, ব্লগিং এবং মন্তব্যও। তবে ওয়েবে বাংলা বানান পরীক্ষক না থাকায় আমাদের বেশ বিপাকে পড়তে হয়। ফায়ারফঙ্ েএকটি অ্যাড-অন্স যুক্ত করে বাংলা বানান পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/13660 থেকে প্রথমে ফায়ারফক্সে অ্যাড-অন্সটি ইনস্টল করতে হবে। এবার ওয়েবে বাংলা লেখার সময় মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে Language থেকে Bangla/Bangladesh নির্বাচন করতে হবে। এবার যেকোনো ইনপুট বক্সে বাংলা লিখলে ভুল বানানের নিচে লাল আন্ডারলাইন প্রদর্শন করবে। বানানটি সংশোধন করতে শব্দটির ওপর মাউসের ডান বাটন ক্লিক করলে মেন্যুতে কিছু সাজেশন দেবে। এখান থেকে সঠিক বানান নির্বাচন করা যাবে।

মজিলায় ওয়াপ সাইট
ওয়াপ সাইটগুলো মূলত তৈরি করা হয় মোবাইল ডিভাইসগুলোর জন্য। কম্পিউটারের ব্রাউজার দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ওয়াপ সাইট দেখা যায় না। ফায়ারফক্সে অ্যাড-অন্স যুক্ত করে কম্পিউটারেই ওয়াপ সাইট দেখা যায়। এ জন্য https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/wmlbrowser থেকে অ্যাড-অন্সটি ফায়ারফক্সে যুক্ত করে ফায়ারফঙ্ রিস্টার্ট করলেই ওয়াপ সাইটটি ভিজিট করা যাবে।

ক্রিকেট স্কোর দেখা

বেশ কিছু ওয়েবসাইট এখন সরাসরি ক্রিকেট স্কোর দেখার সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে যারা এসব ওয়েবসাইটে না গিয়ে সরাসরি ব্রাউজার থেকেই ক্রিকেট স্কোর দেখতে চায়, তাদের জন্যও অবশ্য ফায়ারফক্সে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/scorewatch থেকে 'স্কোর ওয়াচ' নামক অ্যাড-অন্সটি ইনস্টল করে নিতে হবে। এরপর ফায়ারফক্স রিস্টার্ট করলে স্ট্যাটাস বারের ডান দিকে একটি স্কোর আইকন আসবে। স্কোর ওয়াচ মেন্যু থেকে চলতি সব খেলার স্কোর দেখতে পারবেন। যে খেলাটির স্কোর দেখতে চান, তার ওপর ক্লিক করুন, তাহলে সেই খেলার সম্পূর্ণ স্কোর দেখা যাবে। Performance থেকে Wicket Alert নির্বাচন করলে উইকেট পড়লেও আপনাকে বলে দেবে। স্কোর সোর্স পরিবর্তন করতে পারেন স্কোর ওয়াচ মেন্যুর Source- এর ড্রপডাউন মেন্যু থেকে। কোনো চলতি খেলার সম্পূর্ণ স্কোর দেখতে স্কোর ওয়াচ মেন্যুর ওই খেলার ডানের Full scorecard বাটনে ক্লিক করুন।

সুত্রঃ টেকটিউনস 

নোকিয়ার s60v5 Hack করার উপায়


নোকিয়ার S60v3 এবং s60v5 Hack করার সবচেয়ে সহজ উপায়!!!!!!

টিউন করেছেন : 


।। আপনার সেটটি হ্যাক করলে আপনি শুধু পাইরেট এপ্লিকেশনই নয় বরং আপনি আনসাইন এপ্লিকেশন সহ ইন্সটল করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি অনেক কিছু করতে পারবেন। মানে এককথায় যা আপনার মন চায়।
কিন্তু Nokia স্বাধীনতা অপছন্দ করে। তারা আপনার নিজের মোবাইল ব্যবহার করার স্বাধীনতাকে কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রন) করে। আর যদি আমার কথা মিথ্যা হয় তাহলে কেনই বা তারা তাদের ফ্রেমওয়ার ভার্সনগুলিকে আনহ্যাকেবল করে রিলিজ দেয়? যেটি আপনার নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহারের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রন করে।
আপনি যদি নোকিয়া ব্রান্ডের কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনি হয়ত জানেন যে তাদের সেটে সফট্ওয়ার বা থিম ঢুকানোর আগে সেগুলোকে সাইন করে ঢুকাতে হয়। আর এই ঝামলা থেকে একমাত্র বাচার উপায় আপনার সেলফোনটি হ্যাক করা। আপনি আপনার সেটটিকে হ্যাক করলে কোন রকম সাইন করার ঝামলা ছাড়াই মোবাইলে গেম, সফট্ওয়ার ঢুকাতে পারবেন। এই কাজটি করার জন্য খুব সুন্দর একটি ফ্রি সফট্ওয়ার পাওয়া যায় কিন্তু এটি আপনার IMEI নম্বর দিয়ে সাইন করে ইন্সটল করতে হয়।  তাই এই সহজ কাজটি করার জন্য নিচের স্ক্রিনসটসহ নিয়মগুলি ফলো করেন তাহলেই আপনার Nokia-এর S60v3 এবং s60v5 এর সেটগুলিকে হ্যাক করতে পারবেন।
***************************************************

Hackable  (যে যে সেটগুলি হ্যাক করা সম্ভব) এবং Unhackable (যে যে সেটগুলি হ্যাক করা সম্ভব নয়) সেই সেটগুলির তালিকাঃ

নিচের সেটগুলিকে হ্যাক করা যাবে তবে অবশ্যই আপনার ফ্রেমওয়ার ভার্সনটিকে নিচের লিস্টের মধ্যে যাচাই করে নিনঃ  আপনার সেটের ফ্রেমওয়ার ভার্সন যাচাই করার জন্য মোবাইলের কিপেডে *#০০০০# চাপুন।
N78 (firmware -এর version 12.046 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N78 (শুধুমাত্র firmware -এর version 13.052 -টিকে হ্যাক করা যাবে না)
N81-1 (firmware -এর version 11.0.045 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N81-3 (firmware -এর version 11.0.045 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে )
N81 (China) (firmware version 20.1.016 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N81 8Gb (firmware  version 20.0.056 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N81 8Gb (শুধুমাত্র firmware version 21.0.008 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
N82 (version 20.0.062 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N82 (শুধুমাত্র version 30.0.019 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
N82 (China) (version 20.1.062 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N82 (China) (শুধুমাত্র version 30.1.019 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
N95 (version 30.0.015 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
N95 (শুধুমাত্র version 31.0.014 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
E51 (version 220.34.37 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E51 (শুধুমাত্র version 300.34.56 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
E51-2 (without camera) ( version 201.34.38 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E65 (version 3.0633.69.00 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E65 (শুধুমাত্র version 4.0633.74.00 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
E66 (version 102.07.81 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E71 (version 100.07.76 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E71 (version 102.07.81 এই ভার্সনটির সমন্ধে আমি নিশ্চিত নই)
E71 (শুধুমাত্র version 110.07.127 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
E90 Communicator (version 210.34.75 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
E90 Communicator (শুধুমাত্র version 300.34.84 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
5320 XpressMusic (version 3.08 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
5320 XpressMusic (শুধুমাত্র version 3.26 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
6110 Navigator ( version 5.11 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
6110 Navigator (শুধুমাত্র version 6.01 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
6120 Classic (version 5.11 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
6120 Classic (শুধুমাত্র version 6.01 টিকে হ্যাক করা যাবে না)
6121 Classic ( version 5.11 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
6121 Classic (শুধুমাত্র version 6.01টিকে হ্যাক করা যাবে না)
6210 Navigator (version 3.08 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
6210 Navigator (শুধুমাত্র version 3.25 এর আগের ভার্সনগুলিকে হ্যাক করা যাবে না)
6220 Classic (version 3.06 পর্যন্ত হ্যাক করা যাবে)
6220 Classic (শুধুমাত্র version 3.23টিকে হ্যাক করা যাবে না)
Samsung G810 (এইটার সমন্ধে আমার সঠিক জানা নেই)
Nokia 5230 (কেনার সময় যেই ভার্সন থাকে শুধুমাত্র সেই ভার্সনটিকে হ্যাক করা যাবে)
Nokia 5800 {কেনার সময় যেই ভার্সন থাকে শুধুমাত্র সেই ভার্সনটিকে হ্যাক করা যাবে (আমার জানামতে)। তবুও চেস্টা করে দেখতে পারেন}

নিচের Nokia এবং কিছু Samsung ফোনগুলিতে বর্তমানের যেই ভার্সনই থাকুক এগুলি হ্যাক করা যাবে । ( কিন্তু এগুলি পরিবর্তন হতে পারে, তাই যদি আপনি আপনার সেটের ফ্রেমওয়ার ভার্সন পরিবর্তন করতে চান তাহলে অবশ্যই আগে ইন্টারনেট থেকে সার্চ করে নেবেন।):

N71 (Japan) (latest firmware version: 3.0630.7.06.1)
N71 (China) (latest firmware: 4.0642.1.05)
N73 (latest firmware: 4.0812.4.3.1)
N73 (China) (latest firmware: 10.0.0)
N73-1 (latest firmware: 4.0839)
N73-5 (latest firmware is 4.0814.4.1.1)
N76 (latest fimware is 31.0.014)
N77 (latest firmware is 3.0827.22.0.1)
N80 (latest firmware is 5.0725.0.1)
N91 (latest firmware is 2.20.008)
N91 8Gb (latest firmware is 3.10.023)
N93 (China) (latest firmware is 20.1.058)
N93-1 (latest firmware is 10.0.025 or 20.1.058)
N93i (China) (latest firmware is 30.1.013)
N93i-1 (latest firmware is 30.0.013)
N95-3 (latest firmware is 20.2.011)
N95 8Gb (latest firmware is 30.0.018)
E50 (latest firmware is 7.36.0.0)
E60 (latest firmware is 3.0633.09.04)
E61 (latest firmware is 3.0)
E61i (latest firmware is 3.0633.69.00)
E62 (latest firmware versions are 3.0633.09.13 and 3.0633.31.19)
E70 (latest firmware is 2.0618.07.10)
3250 (latest firmware is ?)
5500 Sport (latest firmware is 4.60)
5700 XpressMusic (latest firmware is 5.11)
6110 Navigator (China) (latest firmware is 5.12 ?)
6290 (latest firmware is 3.03)
Samsung i550, i550w, i560 (latest firmware is xxHH1)
বিদ্রঃ উপরের লিস্টগুলির মধ্যে যদি কারো কারো সেটের মডেল নম্বর না থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার সেটটি হ্যাক করা যাবে না।
আর মডেলগুলি আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে দিয়েছি এবং আমারও কিছু কিছু অভিজ্ঞতা যোগ করেছি তাই যদি কোন ভূল হয় তাহলে ক্ষমা করবেন। আর হ্যা প্রতিদিন নতুন নতুন সেট বের হচ্ছে আর এগুলির মধ্যেও ক্ছিু কিছু সেট হ্যাক করা যায়। আমি এগুলি ব্যবহার করিনি তাই বলতে পারব না। তবে আপনার চেক করে দেখতে পারেন যদি এই নিয়মে আপনার সেটটি হ্যাক হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার সেটটি হ্যাকেবল আর যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার সেটটি হ্যাকেবল নয়।
যদি কেউ ফ্রেমওয়ার ভার্সন পরিবর্তন করতে চান তাহলে "Nokia Software Updater" দিয়ে এটি করতে পারেন।

আসুন তাহলে দেখা যাক কিভাবে এটি করতে হয়ঃ

Nokia 5230 Hack
Screenshot 1
http://cer.opda.cn/en/. - এ যান এবং Register করে Login করুন।
Nokia 5230 Hack
Screenshot 2
login করার পর  “Apply cer” এ ক্লিক করুন। উপরের “Screenshot 2″ দেখুন.
Nokia 5230 Hack
Screenshot 3
এখন যে ফরমটি দেখাবে সেটিকে পূরণ করুন  “Screenshot 3″ এর মত করে.  আপনার মোবাইলে *#06# চেপে আপনার IMEI নম্বরটি বের করুন এবং যথাস্থানে এটিকে লিখুন।  এই  application form - টি submit করার পর আপনাক ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।
Nokia 5230 Hack
Screenshot 4
পরেরদিন আপনি লগিন করার পর  “Signing Softs” -এ ক্লিক করুন যা উপরের স্কিনশটে দেখানো হয়েছে। পাতাটির নিচে চলে যান যেখানে আপনি আপনার ফাইটি সাইন করার জন্য upload অপশনটি পাবেন।
Nokia 5230 Hack
Screenshot 5
এখান থেকে আপনি unsigned Helloox 2.03 -টি Download করে নিন এবং আপনার পিসিতে সেভ করুন। তারপর ডাউনলোড করা সফট্ওয়ারটি Browse করে Remark লিখুন এবং “Submit and Upload” বাটনে ক্লিক করুন।
এবং সর্বশেষে ‍ঃ
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং signed Helloox 2.03 -টি ডাউনলোড করুন। তারপর এটিকে আপনার সেটটিতে ইন্সটল করুন. ইন্সটল করার পর Menu>Installed Apps>Helloox -এ যান এবং run করুন। এখন এটি আপনার মোবাইলকে অটোমেটিক হ্যাক করবে।

সুত্রঃ টেকটিউনস