পৃষ্ঠাসমূহ

তারিখ

বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

ওয়েস্টার্ন ছবির দুর্বৃত্তরা কি বাংলাদেশে হানা দিয়েছে?

হলিউডে এ যাবত যত ছায়াছবি তৈরি হয়েছে তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ‘ওয়েস্টার্ন‘ নামে শ্রেণীভুক্ত। এসব ছবির তাত্পর্য বুঝতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা দরকার। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন—এ কথাটা যে আদৌ সত্য ছিল না সেটা বর্তমানকালে স্বীকার করা হয়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন অতলান্তিক পার হয়ে ওপারে পৌঁছান তখন উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশেই মানুষ ছিল, তাদের সমাজ ছিল, সভ্যতা ছিল। প্রচুর সোনা-দানা ইত্যাদি নতুন মহাদেশ থেকে এনে কলম্বাস স্পেনের রাজকোষ সমৃদ্ধ করেছিলেন এবং তারপর থেকে স্পেন নতুন মহাদেশে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। সেজন্য সেসব দেশের আদিবাসীদের অসভ্য, বর্বর বলে দুর্নাম দেয়ার প্রয়োজন ছিল, নইলে খোদ স্পেনে ‘সভ্যতা বিস্তার ও খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের’ নামে সাম্রাজ্য বিস্তারের যৌক্তিকতা দেখানো কঠিন হতো। 

বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, সেখানেও বহু জাতি ও উপজাতির মানুষের বসতি ছিল। তাদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে ১০২ জন ব্রিটন ১৬২০ সালের ৬ নভেম্বর মে ফ্লাওয়ার নামক জাহাজে চড়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের প্লিম্যাথ থেকে উত্তর আমেরিকায় পাড়ি দেয়। তারা পূর্ব উপকূলে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তী কিছুকাল আরও বহু ইউরোপীয় উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে। আদিবাসী আমেরিকানরা

প্রিয় ডিজিটাল চোর...

জাপানের ওই অধ্যাপকের হয়ে আমরা একটু ব্যাপারটা কল্পনা করি।
তিনি বাংলা ভাষাপ্রেমিক।
বাংলা শিখেছেন কষ্ট করে। বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর অপার আগ্রহ।
লালন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
গরগর করে বাংলা বলতে পারেন, বাংলা পড়তে পারেন।
সেই বাংলা ও বাঙালিপ্রেমিক জাপানি অধ্যাপক পড়ান জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তাঁর কাছে আমন্ত্রণ এসে পৌঁছাল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সম্মেলন হবে—বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন। তিনি নিশ্চয়ই খুবই আনন্দিত হয়েছিলেন এই আমন্ত্রণ পেয়ে। তাঁর স্বপ্নের দেশ বাংলাদেশ। তাঁর স্বপ্নের মানুষেরা থাকে ওই দেশে। তারা তাঁর আগ্রহের ভাষা বাংলায় কথা বলে। এই সেই বাংলা, যে বাংলায় লালন জন্মেছিলেন। এই সেই বাংলা, যেই বাংলার পথে পথে এখনো লালনের মতো বাউলেরা একতারা হাতে গান গেয়ে বেড়ান। তিনি অবশ্যই বাংলাদেশে যাবেন।

রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রত্যাখ্যান করলেই সমস্যার সমাধান হবে ''ঘুষ-দুর্নীতিতে শীর্ষে পুলিশ''

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষকে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) যে জরিপ প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ গোসসা করতে পারেন; কিন্তু এটাই বাস্তব। জরিপের বিষয় ছিল ‘ডেইলি লাইফস অ্যান্ড করাপশন: পাবলিক অপিনিয়ন ইন সাউথ এশিয়া’।

 জরিপে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশিদের ৬৬ শতাংশ বলেছেন, সরকারি সেবা পেতে তাঁদের ঘুষ দিতে হয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এই হার যথাক্রমে ৫৪, ৫০, ৩২ ও ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশের সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বলেছেন, পুলিশকে তাঁদের ঘুষ দিতে হয়। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বিচার বিভাগ। ঘুষ প্রদানকারীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ নিয়েই শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এরপর আছে ভারত (৫৪ শতাংশ) ও পাকিস্তান (৫০ শতাংশ)। জরিপকারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ মনে করেন

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

ফেসবুকে এসেছে "টাইমলাইন"

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘টাইমলাইন’ নামের একটি নতুন ফিচার সংযুক্ত করেছে। ‘লাইক’ বাটনের পর এই টাইমলাইনকেই ফেসবুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আসবে।

টাইমলাইন মূলত একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিভিন্ন সময়ের গল্প বলবে। ছবি, স্ট্যাটাস ও অন্যান্য আপলোডিং টাইমলাইনে ফুটিয়ে তুলবে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্ব ও দর্শন। একজন মানুষের জীবনের বিভিন্ন সময়ে যে পরিবর্তন দৃশ্যমান—সেটাও টাইমলাইনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে। মোদ্দা কথা, টাইমলাইন একজন ব্যবহারকারীর বিভিন্ন সময়ের জীবনচিত্র অপরজনের কাছে তুলে ধরবে। তবে, ব্যবহারকারী তাঁর জীবনের যে ব্যাপারগুলো একটা সময় ফেসবুকে তুলেছিলেন, কিন্তু তা আর এখন দৃশ্যমান করতে চান না—সেগুলোও টাইমলাইন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

টাইমলাইনে কয়েকটি নতুন অ্যাপ্লিকেশনও সংযুক্ত করা হয়েছে। যেমন, ‘নেটফ্লিক্স’-এর মাধ্যমে আপনি সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সিনেমা দেখেছেন, সেগুলোর তালিকা তুলে ধরা যাবে। এ ছাড়া রানকিপারের মাধ্যমে রাখা যাবে জিপিএস তথ্য। ফেসবুক টাইমলাইন মোবাইলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যাবে। এটি সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনে সংযুক্ত হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই আইফোনের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে এটি চলে আসবে।

এ মুহূর্তে যদি আপনি আপনার প্রোফাইলে ফেসবুক টাইমলাইন চালু করতে চান, তাহলে সাইনআপ পেজে গিয়ে ‘গেট টাইমলাইন’ বাটনে ক্লিক করুন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনামূলক তথ্যও সেখানে পেয়ে যাবেন। ওয়েবসাইট

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১১

টেস্টেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব


আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে অলরাউন্ডারদের তালিকার শীর্ষস্থানটা দখল করেছিলেন আগেই। এবার টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের স্বীকৃতিটাও পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি আর সাত উইকেট নিয়েও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হার এড়াতে পারেননি সাকিব। কিন্তু দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার তিনি পেয়ে গেলেন হাতে-হাতেই। আজ বৃহস্পতিবার আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে সাকিবের।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১৪৪ রান ও পাকিস্তানের দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট দখল করেন সাকিব। এরই সুবাদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট অলরাউন্ডারদের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করলেন সাবেক এই অধিনায়ক। অবশ্য টেস্টে অলরাউন্ডারদের তালিকায় সাকিবের নাম ওপরের দিকেই ছিল। মিরপুর টেস্টের পারফরম্যান্স তাঁকে এগিয়ে দেয় আরও চার ধাপ অর্থাত্ শীর্ষস্থানে।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ২২ ডিসেম্বর, ২০১১

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১১

ডাউনলোড করে নিন Advanced System Care Pro 5 (Exclusive)

আসসালামু ওয়ালাইকুম। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব খুব কাজের একটা সফটওয়্যার যার নাম Advanced System Care 5 pro. এটি খুবই কাজের একটা সফটওয়্যার যা আপনার PC কে রাখবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আপনার PC-র গতিকে দেবে কয়েক গুন বাড়িয়ে। এই সফটওয়্যারটির সম্পর্কে বিস্তারিত বলার কিছুই নেই কারন আপনারা সবাই এই সফটওয়্যারটির ব্যপারে অবগত। তাহলে আর কথা নয়, এখনই ডাউনলোড করে নিন মিডিয়াফায়ার লিংক থেকে। সিরিয়াল কী দেয়া আছে। প্র ভার্সন অ্যাক্টিভ করার সময় ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে নেবেন। তা না হলে অনলাইন চেকআপে ধরা খেয়ে যাবেন। 



সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ভাল লাগলে কমেন্ট করবেন। 

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১১

ইরান ড্রোন বানাবে—আশঙ্কা মার্কিনদের


যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন একটি বিমান (ড্রোন) ইরানের কবজায় চলে যাওয়ার পর নানামুখী শঙ্কায় আছেন মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ইরানও ড্রোন তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, আটক করা ড্রোনটি থেকে সব তথ্য উদ্ধারের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এই খবরে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ড্রোন দখলে নিতে পারার ঘটনাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান। প্রযুক্তি বা গোয়েন্দাগিরির প্রতিযোগিতায় এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই পাল্টা টেক্কা দিতে চাইছে তারা। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতিবিষয়ক কমিটির আইনপ্রণেতা পারভিজ সরোরি বলেছেন, ড্রোনের সব তথ্য উদ্ধারের পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘আক্রমণের’ অভিযোগ এনে তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেবেন। সরোরি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইরানের এ ধরনের ড্রোন তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। তবে

সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১১

হাসি না পেলে জরিমানা কইরেন!! ১০০% গ্যারান্টি পর্ব- ২



আসসালামু ওয়ালাইকুম। প্রিয় ভাই ও বোনের সবাই কে জানাই আমার প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা। গত পোষ্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম মিরাক্কেলের সেরা বাংলাদেশী পারফর্মার আবু হেনা রনির সেরা ৫ টি পর্ব শেয়ার করেছিলাম।


আজ আপনাদের সাথে ২য় পর্ব শেয়ার করব। 


আপনারা অনেকে হয়ত মিরাক্কেলের নাম শুনেছেন কেউবা মিরাক্কেল নিয়মিত দেখেন। যারা নিয়মিত দেখেন তারা জানেন আবু হেনা রনির সাথে আরও একজন সেরা ভারতীয় পারফর্মার হল উত্তর ২৪ পরগনার অপূর্ব রায়। আজ তার সেরা ৫ টি পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কথা এখনও একটাই, না হেসে যাবেন কোথায়!! হাঁসি না পেলে বলবেন। ব্যর্থ হলে মেগা বাইট ফেরত। 










ক্যামন লাগল জানাবেন। ভিডিও ডাউনলোড থেকে শুরু করে আপলোড করে টিউন লিখতে অনেক কষ্ট হয়। চাওয়া শুধু একটাই কমেন্টস। কোন ব্লগারের জন্য অন্তত এতটুকু করতে কার্পণ্য করবেন না। 

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। 

অনিশ্চয়তা বাড়বে, বাস্তবায়ন হবে বিলম্বিত- ''পিপিপিতে পদ্মা সেতু!''

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে নতুন কথা বলেছেন। এত দিন জানা ছিল, এই সেতু নির্মাণে অর্থায়নের একটি বড় অংশ আসবে বিশ্বব্যাংক থেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখন বলছেন, সেতুটি নির্মাণ করা হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে। সে জন্য ১০-২০ বছরও যদি সময় লাগে, কোনো অসুবিধা নেই। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ঘোষণা: পদ্মা সেতু হবেই।

অবশ্যই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা দরকার এবং তা ১০-২০ বছর ধরে নয়, যত তাড়াতাড়ি পারা যায়। কেননা, এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার মধ্য দিয়ে সারা দেশের সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করবে; বিপুলসংখ্যক মানুষ অনেক বছর ধরে এই সেতুর প্রতীক্ষায় রয়েছে। কতগুলো বাস্তব কারণে সেতুটি নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের এই আশঙ্কা বাস্তবিক যে পদ্মা সেতুতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে। আর যে কারণে পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের আপত্তি উঠেছে, তা বাংলাদেশের

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

নতুন রূপে আসছে জিমেইল

নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসছে জিমেইল। এখন থেকে নতুনভাবে ব্যবহার করা যাবে জিমেইল। সম্প্রতি সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ঘোষণা দিয়েছে, জিমেইল ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট গুগল প্লাসে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ আরও বাড়াতে এই নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জিমেইলের অফিশিয়াল ব্লগে বলা হয়েছে, জিমেইল আর গুগল প্লাসের মধ্যে যোগসূত্র বাড়াতেই গুগল এই নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আসছে।
নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো যোগ হলে গুগল প্লাস ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের সার্কেলে তার জিমেইলের ফিল্টার, কনটাক্ট অ্যাড্রেস সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়ে যাবে। 
এ ছাড়া যখন কোনো ব্যবহারকারী জিমেইলে তার ই-মেইল খুলবে, তখন তার গুগল প্লাসের বন্ধুদের গুগল প্লাসে শেয়ার করা পোস্টগুলো জিমেইলে দেখতে পারবে। জিমেইলে হাতের ডান দিকে ওই পোস্টগুলো দেখা যাবে। আর সরাসরি জিমেইল থেকেও কাউকে তার গুগল প্লাসের সার্কেলে সরাসরি যোগ করা যাবে। এর জন্য আলাদাভাবে গুগল প্লাসে যেতে হবে না। ঠিক একইভাবে কেউ যদি গুগল প্লাস খোলে, তাহলে গুগল প্লাস দিয়েই তার জিমেইলে রাখা ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা দেখতে যেমন পাবে তেমনি আপডেটও করতে পারবে।

এ ছাড়া গুগল প্লাসে ছবি শেয়ার অপশনও যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে এক ক্লিকেই গুগল প্লাসে ছবি শেয়ার করা যাবে। আর এই ছবি গুগল প্লাস ফটোসে আপলোড করতে হবে। —টাইমস অব ইন্ডিয়া

১০ লাখ শেয়ার কিনবেন সালমান

বেক্সিমকো ও বেক্সিমকো ফার্মার অন্যতম উদ্যোক্তা-পরিচালক সালমান এফ রহমান কোম্পানি দুটির মোট ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ রোববার ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, সালমান এফ রহমান বেক্সিমকোর পাঁচ লাখ ও বেক্সিমকো ফার্মার পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ শেয়ার বিদ্যমান বাজারমূল্যে পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কিনতে চান।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর এসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে নিজ কোম্পানির ৩০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগতভাবে দুই শতাংশ শেয়ার কেনার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রথম শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন সালমান।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ১১ ডিসেম্বর, ২০১১

নির্ধারিত সময়েই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত

প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজারে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য সহায়ক ও সমাধানযোগ্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর স্বার্থে গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটি। বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান বলেন, বেঁধে দেওয়া দুই মাস সময়ের মধ্যেই স্বল্প পুঁজি ও মার্জিন ঋণ গ্রহণ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেই ধরনের বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে একটি গ্রহণযোগ্য সুপারিশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান ফায়েকুজ্জামান আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রণোদনার পূর্ণাঙ্গ

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১১

টক অব দ্য উইক : এরশাদের ভণ্ডামি

ভণ্ডামির ক্ষেত্রে এরশাদের জুড়ি নেই। 
৯ বছরের স্বৈরশাসনের সময় জনগণ তার একের পর এক ভণ্ডামি দেখেছে। বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা নিয়েই এরশাদ সাইকেল চালিয়ে অফিস করেছেন কয়েকদিন। একদিন জনসভায় হঠাত্ ঘোষণা করেন স্বপ্নে তিনি দেখেছেন তার সন্তান হবে। দেখা গেল এক সপ্তাহের মধ্যেই রওশন এরশাদের একটি ছেলে হয়েছে হাসপাতালে। অবশ্য এ রহস্যের কূলকিনারা এখনও হয়নি। তার নারী কাহিনী তো তখন ছিল মুখে মুখে। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান তাকে বিশ্ববেহায়া হিসেবে আখ্যায়িত করে বিখ্যাত একটি কার্টুনও এঁকেছিলেন।
ক্ষমতার পর দুর্নীতির জন্য এরশাদ জেল খেটেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সখ্য সেই ক্ষমতা নেয়ার সময় থেকেই। এখনও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ভাগিদার তিনি। কিন্তু হাওয়া দেখে মাঝেমাঝেই তিনি উল্টো সুরে কথা বলেন।
এরশাদের সঙ্গে ভারতেরও রয়েছে মধুর সম্পর্ক। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় এরশাদ ভারতের দেরাদুন থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন। দেরাদুন থেকে যারা ট্রেনিং নেয়,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ নিয়ে রিপোর্ট : পাত্তা দেননি ‘রুই-কাতলা’রা, উদ্দেশ্যেও গলদ

তত্ত্বাবধায়ক নামের অবৈধ সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত সংসদীয় উপকমিটি তার রিপোর্ট তৈরি করেছে। বহুদিন ধরে ঢাকঢোল পিটিয়ে আসার পর ৮ ডিসেম্বর উপকমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার রিপোর্টটি ২১ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া হবে। ওই কমিটি জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে রিপোর্টটি উপস্থাপন করবে। চোটপাট দেখিয়ে মিস্টার মেনন বলেছেন, তারা কোনো ‘চুনোপুঁটি’কে ধরেননি, যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে এবং সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে যাতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন না করা যায় সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে উপকমিটি। রিপোর্টে ১১টি পর্যবেক্ষণ এবং ১৩ সুপারিশ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১১

তবুও আবুল হোসেন!

কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিয়াছিল সে মরে নাই’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এত দিন যেসব দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও অনিয়মের অভিযোগ এসেছিল তার সবটা মিথ্যে নয়। 

সোমবার মন্ত্রিসভার দপ্তর পুনর্বিন্যাসে দেখা গেল, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন বিতাড়িত হলেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। যোগাযোগ প্রযুক্তি আছে, কিন্তু পদ্মা সেতু নেই। নতুন যোগাযোগমন্ত্রী হয়েছেন ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী হয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 
প্রথমেই যে প্রশ্নটি ওঠে তা হলো, একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং সেই অভিযোগ যখন দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তাধীন থাকে, তখন তাঁকে মন্ত্রী পদে রাখা কতটা সমীচীন? যে ব্যক্তির কারণে পদ্মা সেতুর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে গেল, দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হলো, সেই ব্যক্তিকে কেন মন্ত্রিসভায় রাখা হবে? এর মাধ্যমে অন্য মন্ত্রীরা কী বার্তা পাবেন? তাঁরাও মনে করবেন, দায়িত্ব পালনে যতই অযোগ্য ও অদক্ষ হোন না কেন, মন্ত্রিত্ব যাবে না। বড়জোর মন্ত্রণালয় বদল হবে।

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১১

হাসি না পেলে জরিমানা কইরেন!! ১০০% গ্যারান্টি

আসসালামু ওয়ালাইকুম। প্রিয় ভাই ও বোনের সবাই কে জানাই আমার প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা। আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি একটি নন টেকি টিউন নিয়ে। টেকনোলজী ভিত্তিক টিউন তো সব সময় হয়। তাই মাঝে মাঝে নন টেকি টিউন হলে ভালই লাগে।


আপনারা অনেকে হয়ত মিরাক্কেলের নাম শুনেছেন কেউবা মিরাক্কেল নিয়মিত দেখেন।  বর্তমানে মিরাক্কেলের সেরা দুই পারফর্মার আছেন। বাংলাদেশের নাটোর জেলার আবু হেনা রনি বর্তমানে সেরাদের তালিকায় আছে। তারই সেরা পাঁচটি পারফর্মেন্স আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। হাসতে হাসতে আপনাদের দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভাল লাগবেই। মন খারাপ, একবার শুনেই দেখুন। মন ভাল না হলে আমাকে জরিমানা কইরেন।


আপনাদের জন্য আজ কয়েকটি ভিডিও লিঙ্ক শেয়ার করলাম। এখানে মোট ৫টি ভিডিও আছে। একটা শুনলে সব গুলো শুনতে ইচ্ছে করবে।
ক্যামন লাগলো মন্তব্য করে জানাবেন। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কারবালার চেতনা

হিজরি সালের মর্যাদাপূর্ণ মহররম মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল ও ব্যাপক তাৎপর্যময় দিবস। প্রাচীনকাল থেকে যুগে যুগে আশুরা দিবসে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবহ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টির কাজ এই দিনেই সম্পন্ন করেন। হজরত আদম (আ.) খলিফা হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেন এবং তাঁর তওবা কবুল হয়। হজরত নূহ (আ.)-এর কিশতি মহাপ্লাবনের কবল থেকে রক্ষা পায়। হজরত দাউদ (আ.)-এর তওবা কবুল হয়। হজরত মূসা (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পান এবং তারা সদলবলে নীলনদে নিমজ্জিত হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) নমরুদের আগুন থেকে নাজাত লাভ করেন। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১

চন্দ্র অভিযান ও আপনাদের মতামত

আসসালামু ওয়ালাইকুম। আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি বিতর্কিত চন্দ্র অভিযান নিয়ে। আজ আপনাদের সাথে একটা ভিডিও শেয়ার করব। এতদিন বিভিন্ন ব্লগ ও ইন্টারনেট এ পড়েছি চন্দ্র অভিযান না কি ভুয়া। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সাথে মহাশূন্য গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার জন্যই নাকি এই প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছিল। মানুষ চাঁদে গেছে কি যায়নি সে ব্যাপারে আমি কোন পক্ষই নিতে পারছি না। কিন্তু এই ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখে খুবই বিস্মিত হলাম। মানুষ চাঁদে গেছে কি যায়নি সে ব্যাপারে আমি কোন বিতর্ক তুলতে চাই না কারণ এ ব্যাপারে অনেক বিতর্ক হয়েছে। ভিডিও টি দেখে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই আপনাদের কাছে আজ এই ভিডিও টি শেয়ার করলাম।

video

সবাই ভাল থাকবেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত প্রদান করবেন। আল্লাহ হাফেজ। 

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

এবার ‘গোয়েন্দা নথি’ নিয়ে আসছে উইকিলিকস

অর্থের অভাবে হালে খানিকটা চুপসে যাওয়া সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস আবার আলোড়ন তুলতে আসছে। সম্প্রতি নতুন প্রকল্প নিয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এবারে উইকিলিকসের থলে থেকে বেরোবে বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণ নথির তথ্য। এমনটিই জানিয়েছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা।
মূলত মার্কিন গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশ করে আলোচনায় আসে উইকিলিকস। ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ জানিয়েছেন, বিভিন্ন বেসরকারি গোয়েন্দা কোম্পানি দেশে দেশে মানুষের মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারে আড়ি পেতে যে বিপুল পরিমাণ তথ্য সম্ভার গড়ে তুলেছে, তা প্রকাশ করবে উইকিলিকস। ওই কোম্পানিগুলো এ ধরনের তথ্য বিক্রি করে থাকে বলেও জানান অ্যাসাঞ্জ। অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, বিশ্বজুড়ে গোয়েন্দা ঠিকাদারেরা এখন তাঁদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তথ্য বিক্রি করছেন।’
নতুন এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার তিনি ২৮৭টি তথ্য প্রকাশ করেন। চলতি সপ্তাহে বা আগামী বছর আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।
অ্যাসাঞ্জ দাবি করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এ গোপন শিল্পে বিপুল পরিমাণ তথ্য জমা হয়েছে। প্রতিবছর যার মূল্য শত কোটি ডলার।




সুত্রঃ প্রথম আলো, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১১

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১১

দীপু মনি সেদিন ওভাবে কেটে পড়েছিলেন কেন!

আমীন কাদীর
ডা. দীপু মনি অনেক কিছুই হতে পারতেন। যেহেতু মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়েছেন, ডাক্তার শব্দটি নামের সঙ্গে জুড়ে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই দক্ষ একজন চিকিত্সক হতে পারতেন। মেডিকেলের যে কোনো ডিসিপ্লিনে বড় ডিগ্রি নিয়ে তিনি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারতেন।

ডা. দীপু মনি চাঁদপুরের এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সম্ভাবনাময় সন্তান। ছোটবেলাতেই রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনায় হাতেখড়ি। তার বাবা বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য কর্মী। আওয়ামী লীগ এই পরিবারের রক্তে। রাজনীতি শিরায়-শোণিতে। দীপু মনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে ছায়াসঙ্গী করে বড় হয়েছেন। মিছিল-বিক্ষোভ লড়াই-সংগ্রাম করেছেন ত্যাগী আওয়ামী লী

টেলিযোগাযোগ খাতে দুর্নীতি-অরাজকতা চরমে : মধুখানেওয়ালাদের পাকড়াও করতে হবে

আওয়ামী লীগ সরকারের বদৌলতে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খোদ ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতার কারণে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়। প্রতিদিন লোপাট হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। দৈনিক আমার দেশ-এর এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা গেছে, খাতটিতে এখন দুর্নীতিবাজ চক্রের রাজত্ব চলছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা তো বটেই, এই চক্রে এমন আরও অনেকেই জড়িত রয়েছেন—নাম ধরে যাদের সম্পর্কে বলাটা বিপজ্জনক। তারা সবাই মিলে টেলিযোগাযোগ খাতকে ‘মধুর চাক’ বানিয়ে ফেলেছেন। সরকার কিংবা ট্যাক্সদাতা জনগণ তাই বলে ওই চাকের মধু খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। সবটুকু মধু শুধু চক্রের লোকজনই চুষে চুষে খাচ্ছে। এরা কাজকারবারও চালাচ্ছে ডিজিটাল পন্থায় আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে। যেমন দেশে বসেই বিদেশি কোম্পানি সেজে চুটিয়ে ভিওআইপির ব্যবসা করছে তারা। তাদের মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আসছে প্রায় ৪৫ শতাংশ কল। দেশ থেকেও কল যাচ্ছে একইভাবে। ফলে দুর্নীতিবাজদের পকেট স্ফীত হলেও দেশ ও সরকার হারাচ্ছে

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১১

ফ্রান্সে মুক্তি পেল সু চিকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘দ্য লেডি’

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেমে ব্যক্তিগত জীবনে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত স্বামী মাইকেল অ্যারিসের শেষ দিনগুলোতে তাঁর কাছে থাকতে পারেননি তিনি। দিনের পর দিন তাঁর মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে দুই ছেলে। 

সু চির জীবনের এসব ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই ঘণ্টার চলচ্চিত্র দ্য লেডি। গতকাল বুধবার খ্যাতিমান পরিচালক লুক বেসন পরিচালিত ছবিটি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে মুক্তি পেয়েছে। 

সু চির জীবন কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেমস বন্ড সিরিজ খ্যাত মালয়েশীয় তারকা মিশেল ইয়ো। ছবিতে রাজনৈতিক জীবনের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ওপরই মূলত আলোকপাত করা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে গণতন্ত্রের পথে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামে নেমে কী বঞ্চনা ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাঁকে। 

সু চির স্বামী মাইকেল অ্যারিস ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে মারা যান। মিয়ানমারের ত ৎ কালীন সামরিক জান্তা অনুমতি না দেওয়ায় স্ত্রীর কাছে যেতে পারেননি তিনি। এদিকে সু চি স্বামীর কাছে যাননি দেশে ফেরার পথ বন্ধ হওয়ার ভয়ে। এ ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ-অনুভূতি প্রশ্রয় দেননি। দেশের হাজার হাজার গণতন্ত্রকামী মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকারকেই বড় করে দেখেছেন। তাঁর এই ত্যাগের মহিমাই তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রে। 

এ ব্যাপারে পরিচালক লুক বেসন বলেন, ‘সু চিকে এই মূল্য দিতে হয়েছে। তাঁর ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে হাজার হাজার মানুষ নির্দ্বিধায় জীবন দিয়েছে।’

মিশেল ইয়ো বলেন, ‘স্বামী ও নিজের (সু চির) ভালোবাসা মিলে সু চির ভেতর প্রচণ্ড এক শক্তি তৈরি করেছিল।’ 

পরিচালক বেসনকে সু চি বলেছেন, ছবিটি দেখার জন্য এখনো তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। যখন তিনি ছবিটি দেখার জন্য যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করবেন, তখনই কেবল ছবিটি দেখবেন।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ০১ ডিসেম্বর, ২০১১

অফিসে সাপ ছেড়ে প্রতিবাদ!

সাপ রাখার জন্য জমির আবেদন করেছিলেন হাক্কুল। অনেক চেষ্টা-তদবির করেও সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস থেকে কোনো সাড়া পাননি। এতে ভারি মেজাজ চটেছে তাঁর। ওই সরকারি কর অফিসে ছেড়ে দিয়েছেন কয়েক ডজন সাপ।

গত মঙ্গলবার ভারতের উত্তর প্রদেশের হরিয়ানায় এ ঘটনা ঘটে। হরিয়ানা শহর থেকে ভূমি রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান সুভাষ মনি ত্রিপাঠী জানান, সাপুড়ে হাক্কুল এক টুকরো জমি চেয়ে তাঁদের অফিসে আবেদন করেছিলেন। তবে সাপ রাখার জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো বিধান নেই।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘হাক্কুল আমাদের কাছ থেকে কোনো লিখিত চিঠির অপেক্ষা না করে ভীতি সৃষ্টির জন্য মঙ্গলবার গোটা অফিসে সাপ ছেড়ে দেন। এ সময় সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দে কর্মীদের কেউ কেউ তড়িঘড়ি চেয়ার-টেবিলের ওপরে উঠে পড়েন। তাঁরা সাপগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিত্কার করতে থাকেন। এ সময় অফিস ভবনের বাইরে লোকজনের ভিড় জমে যায়। ওই ঘটনায় অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি।’

পরে হাক্কুল সাংবাদিকদের জানান, ‘দুই বছর আগে সাপ রাখার জন্য আমাকে এক টুকরো জমি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।’ তিনি বলেন, ‘আমি সাপ সংরক্ষণ করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। দীর্ঘ সময় আমি ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছি। জমি না পেয়ে অফিসে সাপ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার কোনো বিকল্প ছিল না।’ ওয়েবসাইট

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

সব মন্ত্রীই উত্তম!

শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা মুখে স্বীকার না করলেও মেনে নিলেন তাঁর মন্ত্রিসভা ঠিকমতো চলছিল না। তিনি নিশ্চয়ই মন্ত্রিসভার শোভা বাড়ানোর জন্য দুজন মন্ত্রী নেননি। তাঁদের নিশ্চয়ই সেই কাজে লাগাবেন, আগের মন্ত্রীদের দিয়ে যা হচ্ছিল না। সোমবার রাতে টেলিভিশনে এই খবর প্রচারের সময় এটিএন বাংলার প্রতিবেদক বললেন, প্রায় তিন বছরের মাথায় এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে চাঞ্চল্য থাকলেও চমক নেই। কিছুদিনের মধ্যে দেশবাসী সেই চমক দেখবেন। গত তিন বছর কাজে না হলেও সরকার কথায় অনেক চমক দেখিয়েছে। আমরা নতুন চমকের অপেক্ষায় আছি। 

প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের পক্ষে সাফাই গাইলেন, তাতে মনে হবে, তাঁর কোনো মন্ত্রীই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হননি। সাংবাদিকেরা, বুদ্ধিজীবীরা খামোকা সমালোচনা করছেন। গতকাল ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘একটি মহল ভুল অবস্থান থেকে সরকারের সব উদ্যোগেরই সমালোচনা করে। নাম না বললেও বুঝতে অসুবিধা হয় না প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সমালোচকদেরই ইঙ্গিত করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করি। আমরা সাদাকে সাদা ও কালোকে কালোই বলতে চাই। 

এই সরকার যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছি, সরকার যখন জঙ্গি দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, আমরা তখনো তার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। সরকার যখন প্রথম অধিবেশনেই সবগুলো সংসদীয় কমিটি গঠন করল, তখন আমরা তার প্রশংসা করেছি। আবার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যখন সারা দেশে মাস্তানি-চাঁদাবাজি করেছে, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে হল দখল করেছে, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে, তখন তার প্রতিবাদ করেছি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর মন্ত্রীরা সবাই ভালো কাজ করছেন। ভালোই যদি করবেন, তাহলে পদ্মা সেতুর কাজ আটকে গেল কেন? সারা দেশের রাস্তাঘাট বেহাল কেন? কী করে শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হলো? বহুলালোচিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটি হলো না কেন? এ ব্যাপারে তাঁর দুজন উপদেষ্টা, একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী কী করেছেন তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই দেশবাসীর আছে। ভারতের একগুঁয়েমির কারণে যদি চুক্তি না হয়ে থাকে, কিংবা বাংলাদেশকে না জানিয়ে তারা একতরফাভাবে টিপাইমুখ বাঁধের উদ্যোগ নেয়, সেই কথাটিও সরকার কেন স্পষ্ট করে বলছেনা? সবকিছুতে ঢাক-গুড়গুড় ভাব কেন? 

খালেদা জিয়ার কথিত পূর্বমুখী কূটনীতিতে দেশবাসী পাঁচ বছরে কিছু পায়নি। বর্তমান সরকারের ‘চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্যের কূটনীতি’ও এখনো পর্যন্ত কোনো সুসংবাদ দিতে পারেনি। গভীর সমুদ্রবন্দর এখনো চিঠি চালাচালিতে সীমাবদ্ধ। হ্যাঁ, বৈদেশিক নীতি এই সরকারের যদি কোনো সাফল্য থেকে থাকে, তা হলো মালয়েশিয়ায় অবৈধ কয়েক লাখ শ্রমিক কাজের বৈধতা পেয়েছেন। নৌপরিবহনমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের চেয়ে পরিবহন-শ্রমিকদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এখনো পর্যন্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার কিংবা মাওয়া রুটে প্রয়োজনীয় ফেরির জোগান দিতে পারেননি। ড্রেজিংয়ের অভাবে নদীগুলোতে চড়া পড়ছে।

পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেলেও দেশের বনায়ন কিংবা পরিবেশ—কোনোটারই উন্নতি হয়নি। জলবায়ু তহবিলের অর্থ নিয়ে নয়ছয় করা নানা প্রকল্পের কথা শোনা যায়। বাংলাদেশে উন্নয়ন মানেই প্রকল্প এবং প্রকল্প মানেই মোটা অঙ্কের দাও মারা। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম। প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে রেখেছেন, যেমন—জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, বিদ্যু ৎ ও জ্বালানি, সোমবারের আগ পর্যন্ত পরিবেশ ও বন ইত্যাদিতে কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতা আছে কি? 

ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ ২০২১-এর যে রূপকল্প ঘোষণা করেছিল, তার কতটুক বাস্তবায়িত হয়েছে, কতটুকু হয়নি—সেই হিসাব চাওয়ার অধিকার কি ভোটারদের নেই? মহাজোট সরকারের শরিকরা এই মুহূর্তে কী ভাবছে, কী বলছে তা কি একবারও প্রধানমন্ত্রী শোনার চেষ্টা করছেন। গত রোববার প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষা ৎকারে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘সরকার পরিচালনায় আমাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয় না।’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বলেন, দেশে কী হচ্ছে, কীভাবে সরকার চলছে, তাঁরা জানেন না। এসব কিসের আলামত?

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীরা সরকারের ভালো কিছু দেখে না, কেবল সমালোচনা করেন। মন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদেরও সরকারের সমালোচনা করতেন। দুর্মুখেরা বলছেন, এখন মন্ত্রিত্ব দিয়ে সেই সমালোচনা বন্ধ করা হলো। মন্ত্রিত্ব না পাওয়া আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও যদি সেই কৌশল নেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কতজনকে মন্ত্রী করবেন? 

প্রধানমন্ত্রী যদি স্বীকারই না করেন যে তাঁর সরকার, তাঁর মন্ত্রিসভা, তাঁর দলের ও জোটের সাংসদেরা কোনো ভুল করছেন, তাহলে তো শোধরানোরও প্রশ্ন আসে না। ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছিলেন। ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর যে অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা শঙ্কিত হওয়ার মতো। তিনি বলেছেন, ভারতের মতো বাংলাদেশও দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। বছর দুই আগেও প্রধানমন্ত্রী যতটা জোরের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই বলে সনদপত্র দিয়েছিলেন, এখন কি তা দিতে পারবেন? 

দেশের সাধারণ মানুষ ভালো নেই। শেয়ারবাজার থেকে যারা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিল না কেন? এটি কি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী জেহাদের নমুনা!

প্রধানমন্ত্রী যদি সরকারের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে এতটাই আস্থাশীল হন, তাহলে তিনি বিএনপির নেতা ও ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার চ্যালেঞ্জটি নিলেন না কেন? খোকা বলেছিলেন, ‘সরকার তাঁর জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেই। এত বড় একটি দল, এত নেতা, এত মন্ত্রী, এত উপদেষ্টা—ঢাকার মেয়রের এই চ্যালেঞ্জটি নিতে পারলেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করছেন। সিটি করপোরেশন ভাগ করলেই যে মানুষ সেবা পাবে, সেই ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত হলেন কীভাবে? নগরবাসীর অধিকাংশ সেবা, যেমন—গ্যাস, বিদ্যু ৎ, পানি—এসব তো সিটি করপোরেশনের হাতে নেই। সিটি করপোরেশনের হাতে আছে রাস্তাঘাটের সংস্কার, রাস্তার বাতি জ্বালানো, পরিচ্ছন্নতা ও মশা মারা। আগে সিটি করপোরেশনের কর্মপরিধি ঠিক করুন। স্থানীয় সরকারের হাতে অন্তত কিছু ক্ষমতা ন্যস্ত করুন। 

জনমত উপেক্ষা করে সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করেছে। গতকাল জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে। ৪০০ বছরের রাজধানীর কথা না হয় বাদই দিলাম, ১৫০ বছরের পৌরসভাকে বিভক্ত করার বদনাম কেন সরকার নিজের কাঁধে নিল? যুক্তরাজ্যে মার্গারেট থ্যাচার এ কাজ করে নিন্দিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশে নন্দিত হওয়ার সুযোগ নেই। প্রস্তাবিত আইনে তিন মাসের জন্য অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। সেই তিন মাসে নির্বাচন করা গেলে আগের জন বাদ দিয়ে নতুন প্রশাসক আসবেন। পাঁচ বছর এভাবে চালাতে পারলে ২০ জন প্রশাসক পাবে।

অনির্বাচিত সরকারের দোহাই দিয়ে ক্ষমতাসীনেরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছেন। আবার সিটি করপোরেশনগুলোতে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করতে চাইছেন। জেলা পরিষদে অনির্বাচিত দলীয় লোক বসানোর পাঁয়তারা করছেন। এসব কিসের আলামত? একেই বলে যখন যেমন সুবিধার গণতন্ত্র। সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে হাজারটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, দলবিলীন হয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণীও করেছেন কোনো কোনো মন্ত্রী। বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির আসন আরও কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কৌশল করলে নাকি সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানও বিএনপির থাকত না। এত সব বড় চ্যালেঞ্জ প্রদানকারী মহাক্ষমতাধর দলটি ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার ছোট্ট একটি চ্যালেঞ্জ নিতে পারল না! 

ঘরোয়া আলোচনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন নামকরা অধ্যাপককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বড় বিপদ কী? তিনি মুহূর্ত বিলম্ব না করে বললেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।’ কেন এটি বিপদ হিসেবে দেখছেন? তিনি জবাব দিলেন, ‘এ পর্যন্ত যেসব সংসদে ক্ষমতাসীনেরা দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে, তাদের কারও পরিণাম ভালো হয়নি। দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেশে কারও মাথা ঠিক থাকে না।’

সোমবার প্রথম আলোর অনলাইনে ঢাকার বিদায়ী মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাক্ষা ৎকারটি পড়ছিলাম। তিনি দাবি করেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগের সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আগে বিএনপিরও হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতা হারিয়েছে বলেই আজ সেই কঠিন সত্যটি স্বীকার করেছেন সাদেক হোসেন খোকা। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে সেই দলের কোনো সাবেক মন্ত্রী ও নেতাও হয়তো এভাবে ভুল স্বীকার করবেন।
আমরা সেই সুদিন বা দুর্দিনের অপেক্ষায় আছি।

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net


সুত্রঃ প্রথম আলো, ৩০ নভেম্বর, ২০১১

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১১

অঙ্গভঙ্গি বুঝবে অ্যাপলের নতুন আইটিভি

টেক জায়ান্ট অ্যাপল ‘আইটিভি’ নামে নতুন টেলিভিশন তৈরি করছে বলে তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক প্রযুক্তি বিশ্লেষক। নতুন এ টেলিভিশনে এক্সবক্স গেমিং কনসোলের মতো জেশ্চার বা অঙ্গভঙ্গি বুঝতে পারার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইল-এর।

জেশ্চার প্রযুক্তিটি পরিচালক এবং নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘মাইনোরিটি রিপোর্ট’ ছবিতে দেখানো হয়েছিলো। পরে কাইনেক্ট ডিভাইসে এমন প্রযুক্তি আনে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেও এমন প্রযুক্তি আনার কথা মাইক্রোসফট ভাবছে বলে বাজারে গুজব রয়েছে। তবে, প্রযুক্তিবিশ্লেষকের দাবী, অ্যাপল কর্তৃপক্ষ টিভিতে যে প্রযুক্তি আনছে তার ব্যবহার গেমিং কনসোলের চেয়েও বেশি হবে।

আইটিভিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে টিভির সামনে কোনো দর্শক মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি করলে টিভি সেটা বুঝতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিশ্লেষক পিটার মিসেক জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তির এমন টিভি তৈরির পরিকল্পনা করে গেছেন অ্যাপলের প্রয়াত সিইও স্টিভ জবস। তার বায়োগ্রাফিতেও এমন ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন তিনি।’

আগামী বছরই অ্যাপল আইটিভি বাজারে আনতে পারে বলেই ধারণা করছেন পিটার।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১১

স্যামসাংয়ের বৈদ্যুতিক বাতি চলবে ৩৬ বছর

কোরিয়ান ইলেকট্রনিক জায়ান্ট স্যামসাং সম্প্রতি বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি শুরু করছে। স্যামসাং কর্তৃপক্ষের দাবী, নতুন প্রযুক্তির এ বৈদ্যুতিক বাতি ৩৬ বছর পর্যন্ত টিকবে। খবর ডেইলি মেইল-এর।

স্যামসাং জানিয়েছে, তাদের তৈরি এলইডি বাতিগুলো ৪০ হাজার ঘন্টা পর্যন্ত আলো দেবে যা সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির তুলনায় ৪০ গুন বেশি সময়। স্যামসাং-এর দাবী, সাধারণ হিসেবে ৪০ গুন হলেও প্রায় ৩৬ বছর পর্যন্ত এ বাতির আয়ু হবে।

স্যামসাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলইডি টেলিভিশন তৈরিতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এ বাতি তৈরিতে সে প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ এলইডি বাতিগুলোর চেয়ে স্যামসাং এর বাতিগুলোর পার্থক্য হয়েছে এর দীর্ঘস্থায়িত্ব।

স্যামসাং হোম অ্যাপ্লায়েন্স এর ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ডেক্সটার জানিয়েছেন, ‘সাধারণ বাতি হচ্ছে সাধারণ বাতিই। কিন্তু স্যামসাং-এর ডিজিটাল প্রযুক্তির বাতিতে যে এলইডি চিপ, ড্রাইভার বা ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার করা হয়েছে তাতে এটি দীর্ঘস্থায়ী বাতি হিসেবে টিকে থাকবে। এ ছাড়াও এ বাতি পরিবেশবান্ধব।’

জানা গেছে, এ বৈদ্যুতিক বাতি তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইডেন পার্ক নামের একটি কোম্পানি কাজ করছে। এ কোম্পানি ‘প্লাজমা লাইটিং’ নামের যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে সে প্রযুক্তিটি বাতিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এ প্রযুক্তিতে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের দুটি শিটের মাঝে কাগজের চেয়েও পাতলা প্লাজমা স্তর ব্যবহৃত হয়। প্লাজমা স্তর হচ্ছে শক্তিসাশ্রয়ী এবং পাতলা প্রযুক্তিতে আলোর প্রযুক্তি। নমনীয়, সাদা এবং রঙিন আলো তৈরি করবে এ প্রযুক্তির বাতি।

তথ্য সত্রঃ এখানে

মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০১১

এভাবে ভালোবাসা হয় না

আমি রবীন্দ্রসংগীতই বেশি শুনি। তবু বাংলাদেশের আধুনিক গানের অ্যালবাম নিয়মিত কিনি। এখন যেমন শুনছি নির্বাচিতা। প্রিন্স মাহমুদের কথা আর সুরের গান। এই অ্যালবামের প্রথম গানের কথাটা আমার মনে ধরেছে। দুই দিন ধরে সারা দিন এই গানটাই গুনগুন করছি। এমনকি গতরাতে আমার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে এই লাইন দুটো: দু পা আমি এগিয়েছি, দু পা তুমি পিছিয়েছ, এভাবে ভালোবাসা হয় না।
এই গানের কথাটা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে আমার মনে হচ্ছে। আর আমি ঘুমের মধ্যে বলে উঠছি, এভাবে ভালোবাসা হয় না। 

সামপ্রতিক প্রসঙ্গ অবশ্যই টিপাইমুখ বাঁধ। কিন্তু এই কথাটা হয়তো সার্বিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চড়াই-উৎরাই নিয়েই বলা যাবে।

আবার সামপ্রতিক বাংলা গান থেকেই উদাহরণ দিতে হচ্ছে। কৃষ্ণকলির গানের লাইন আছে, দিয়েছি তো যা কিছু দেবার।

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে আশা করা গিয়েছিল, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটা সোনালি যুগে প্রবেশ করল। ভারতের প্রধান উৎকণ্ঠা ছিল তাদের নিরাপত্তা। সন্ত্রাসবাদ, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা—এসব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাহায্য তারা কামনা করেছিল সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যদি তাকে উদারভাবে, আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে, তবে বাংলাদেশের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত নিঃশর্তভাবে তারা এগিয়ে দেবে, এই রকমই একটা ধারণা আমরা পেয়ে আসছিলাম বহুদিন ধরে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে দু পা নয়, কয়েক পা এগিয়ে গেছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা চলছে প্রকাশ্যে। কোনো রকমের ছাড় দেওয়ার ইচ্ছা বাংলাদেশের নেই, তা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সর্বমহলকে। বাংলাদেশের মাটিকে কোনো দেশের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহূত হতে দেওয়া হবে না, এই প্রকাশ্য ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সজাগ আর সক্রিয় রয়েছে। ভারতের আরেকটা বড় চাওয়া হলো ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট। ভারতের পূর্ব-অঞ্চলের জন্য মাল পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের জল-স্থল ব্যবহার করতে দেওয়া। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে কি হয়নি, কূটনীতিকেরা, আইনজ্ঞরা তা ভালো বলতে পারবেন, আমরা চর্মচক্ষে যা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতে মালামাল পরিবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নদী, নৌবন্দর, সড়কপথ ভারতীয় পণ্য পরিবহনে ব্যবহূত হচ্ছে (হোক তা পরীক্ষামুলক)। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তা চুক্তি হতে পারেনি। তখন আমরা বলেছিলাম, তিস্তার পানি না পেলে ট্রানজিট নয়। যদিও এই তর্ক আছে, অনেকেই বলছেন, অভিন্ন নদীর পানি বাংলাদেশের ন্যায্য প্রাপ্য, এটা অধিকার; ট্রানজিট অধিকার নয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে দেওয়া সুবিধা। এর আগেরবার যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন শুনেছিলাম, ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশ কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আয় করতে পারবে। এখন সে বিষয়ে আর খুব উচ্চবাচ্য শুনি না।

আমার যদি লাভ না হয়, কিন্তু পড়শির উপকার হয়, নিজের ক্ষতি না করে তা করতে দিতে আমি রাজি। পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি জীবন মন সকলি দাও, তার মতো সুখ আর কোথা আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও। কিন্তু পরের সুখের কারণে নিজেকে কতখানি মূল্য দিতে হবে, তার একটা পরিমাণ জানা থাকা চাই। আমাদের দেশের দুর্বল অবকাঠামোর ওপর দিয়ে ভারতের ট্রাক চলবে, বিপুল ভারবাহী লরির চাপ সইতে না পেরে সেতু আর্তনাদ করে উঠবে, সেতুর নিচে বার্জ আটকে যাবে, কার্বনদূষণ ঘটবে, পরিবেশদূষণ ঘটবে, যানজট হবে, বিনিময়ে কিছুই পাব না? 

তবু, তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন। আমরা দিয়ে চলেছি। বিনিময়ে এই কি আমাদের প্রাপ্য ছিল? বাংলাদেশকে না জানিয়ে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে ফেলল মণিপুর রাজ্য সরকার। অথচ কানে বাজছে মনমোহনের মোহন বাণী—বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছুই করবে না ভারত।
টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষেই মত আছে, আমরা জানি। পক্ষের মতটা হলো, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা হবে, ফলে ভাটিতে আর বন্যা হবে না। শুকনো মৌসুমে সেই জল ছেড়ে দেওয়া হবে, ফলে শীতকালে সেচ দেওয়া যাবে। এ থেকে বাংলাদেশও বন্যা ও খরার প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারবে। আর এর বিপক্ষের যুক্তিগুলো খুবই শক্ত। এক. এই এলাকাটা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। হঠাৎ করে ভূমিকম্প হলে ভাটি অঞ্চল প্রবল বন্যার জলে ভেসে যাবে। অবশ্য সেই ক্ষতি ভারতের ২০০ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী অঞ্চলেও হবে। দুই. টিপাইমুখ প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, সেচ প্রকল্পও বটে। তাহলে ভারত পানি প্রত্যাহার করবে। ফলে এই নদীর অববাহিকায় এত দিন যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হতো, তার ব্যত্যয় ঘটবে। 

এমনিতেই, বিদ্যুৎ প্রকল্প হলেও বর্ষাকালে যে উচ্চতায় পানি আসত, তা আসবে না। আবার শীতকালে হয়তো বেশি আসবে। তার মানে হাজার বছর ধরে এই এই অঞ্চল প্রকৃতির যে চক্রে অভ্যস্ত হয়ে আছে, তাতে ছেদ ঘটবে। প্রকৃতির ওপর হাত দেওয়া কোনো দিনই আখেরে সুফল আনে না। এটা অববাহিকা অঞ্চলের মানুষ, কৃষি, মাছ, গাছপালা, লতাপাতা, ভূপ্রকৃতি, নৌপরিবহন, নাব্যতা, জীব বৈচিত্র্য, লবণাক্ততা, না-লবণাক্ততার ওপর কী প্রভাব ফেলবে আমরা তা জানি না। এই জন্যই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প করার আগে বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে যৌথ সমীক্ষা হোক। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর যদি দেখা যায়, অপকারের চেয়ে উপকারই বেশি, তাহলে এটা মেনে নিতে আমাদের দিক থেকে কোনো আপত্তির কিছু নেই। আর যদি দেখা যায়, এতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, তাহলে মনমোহন সিংয়ের উক্তির বাস্তবায়নই কাম্য: বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছুই ভারত করবে না।
সেই যৌথ সমীক্ষা করা হলো না। টিপাইমুখ নিয়ে কেবল বাংলাদেশে নয়, ভারতে, প্রকল্প এলাকায়, এমনকি সারা পৃথিবীতে পরিবেশবিদ ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগী মানুষ এবং সাধারণ মানুষ প্রতিবাদমুখর। সেসব উপেক্ষা করা হলো। একটা চুক্তি করা হলো, যে বিষয়ে বাংলাদেশকে জানানোর কথাও ভাবল না ভারত।

দু পা নয়, অনেক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দিয়ে দিয়েছে, যা কিছু দেওয়ার। কিন্তু ভারত পিছিয়েছে তারও চেয়ে বেশি। এভাবে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা একপক্ষে হয় না। জোর করেও হয় না। এসব ভাবতে ভাবতে আমার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটল। এর মধ্যে শুনতে পেলাম, বাংলাদেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর উজানে একটা দেশ একপক্ষীয়ভাবে বাঁধ দিচ্ছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার? বলেন কী ভদ্রলোক!

এই লেখা শুরু করেছিলাম রবীন্দ্রনাথের নাম পেড়ে। শেষ করি তাঁর লেখা মুক্তধারা নাটক দিয়ে। কিছু সংলাপ তুলে দিচ্ছি, বক্তার নামছাড়া।
‘আমার বাঁধ সম্পূর্ণ হয়েছে।’
‘শিবতরাইয়ের প্রজারা এখনো এ খবর জানে না। তারা বিশ্বাসই করতে পারবে না যে, দেবতা তাদের যে জল দিয়েছেন কোনো মানুষ তা বন্ধ করতে পারে।’
‘দেবতা তাদের কেবল জলই দিয়েছেন, আমাকে দিয়েছেন জলকে বাঁধবার শক্তি।’
‘তারা নিশ্চিন্ত আছে, জানে না আর সপ্তাহ পরেই তাদের চাষের খেত—’
‘চাষের খেতের কথা কী বলছ?’
‘সেই খেত শুকিয়ে মারাই কি তোমার বাঁধ বাঁধার উদ্দেশ্য ছিল না?’...
এই নাটকের শেষে যুবরাজ সেই বাঁধ ভেঙে দিয়ে তারই জলে ভেসে যায়। এই নাটকের অন্য অনেক মানে আছে, এখন আমাদের কাছে, আমরা যারা সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনার স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ে চিন্তিত, তাদের কাছে মুক্তধারা নাটকের মানে এই যে প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো থাকতে দাও, তাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা কোরো না। এটা আমাদের চাওয়া, আমাদের বার্তা। কিন্তু ভারত আমাদের কথা শুনবে, এই রকম কোনো লক্ষণ নেই। তাহলে?


আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।




সুত্রঃ প্রথম আলো, ২২ নভেম্বর, ২০১১

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১১

ভারতের একতরফা উদ্যোগ অগ্রহণযোগ্যঃ টিপাইমুখ বাঁধ

বাংলাদেশের ক্ষতি হবে, এমন কোনো প্রকল্প টিপাইমুখে না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ আশ্বাসের পর স্বাভাবিক আশা ছিল, ভারত টিপাইমুখে যা-ই করুক তা বাংলাদেশকে জানিয়ে করবে। ভারত সে পথ ধরেনি। বাংলাদেশকে অন্ধকারে রেখে টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে ফেলেছে। ফলে একদিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে অভিন্ন নদীতে কোনো প্রকল্প করার ক্ষেত্রে যে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মেনে চলতে হয়—দুটোই উপেক্ষিত হলো।

টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেই পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই প্রকল্প ক্ষতিকর হবে কি না বা কতটুকু ক্ষতিকর হবে, সমীক্ষার পর এর পুরো চিত্র পাওয়া যাবে। কিন্তু ভারতের এই প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে, যা ভারত কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। অভিন্ন কোনো নদীতে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে নদীর পুরো অববাহিকার ওপর এর কী প্রভাব পড়বে সে নিয়ে যৌথ সমীক্ষা প্রয়োজন। এ ধরনের সমীক্ষা ও যৌথ অববাহিকার অন্য কোনো দেশের (টিপাইমুখের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের) উদ্বেগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কোনো প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ নেই। অতএব, টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গত ২২ অক্টোবর যে বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতির লঙ্ঘন। আর কূটনৈতিকভাবেও এই আচরণ সুপ্রতিবেশীসুলভ তো নয়ই। আমরা ভারতের এই আচরণ ও উদ্যোগের প্রতিবাদ জানাই। 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এক নতুন মোড় নিয়েছে। যেকোনো দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল যে বিষয়টি কাজ করে তা হচ্ছে পারস্পরিক স্বার্থ। বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এ স্বার্থরক্ষার কাজটি হয়ে থাকে। এটা সবারই জানা যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল নিরাপত্তা। ভারতের চাওয়া ছিল, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে বাংলাদেশ সহায়তা করুক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের উদ্বেগ পুরো দূর করেছে। ভারতের আরেকটি চাওয়া হচ্ছে ট্রানজিট। আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও অনানুষ্ঠানিক বা ‘পরীক্ষামূলক’ নামে তাও চালু হয়েছে। অন্যদিকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ছিল বাংলাদেশের দাবি। পানি পাওয়ার বিষয়টি যৌথ অববাহিকার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার। আমরা দেখেছি যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভারত এখনও পর্যন্ত তা করেনি। এখন দেখা গেল, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও বাংলাদেশকে না জানিয়ে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণে ভারত আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে ফেলেছে। ভারতের একতরফা উদ্যোগটি দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার সুসম্পর্কের অন্তরায় বলে মনে করি। 

আমরা আশা করব, ভারত টিপাইমুখে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের এই একতরফা উদ্যোগ থেকে সরে আসবে। দুই দেশের যৌথ সমীক্ষা এবং বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকবে।


সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ নবেম্বর, ২০১১

টিপাইমুখ: সরকারের ভূমিকা উদ্বেগজনক

টিপাইমুখ ড্যাম নির্মাণ বিষয়ে একের পর এক বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করে চলেছে ভারত। ২২ অক্টোবর ড্যামটি নির্মাণের জন্য একটি যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানে। এ ধরনের চুক্তি করার আগে বাংলাদেশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা মানেনি ভারত। দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা অনুসারে, একতরফাভাবে কোনো যৌথ নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও একের পর এক তা করে চলেছে ভারত।

নিজ দেশের স্বার্থের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি বাংলাদেশ। এমনকি কখনো ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির অধীনে ভারতের দায়দায়িত্বের প্রসঙ্গও ভারতের কাছে উত্থাপন করেনি। বরং ভারতের মন্ত্রীদের প্রায় অবিকল ভাষায় বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকেরাও বলছেন এ প্রকল্পে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না! উজানের দেশে টিপাইমুখের মতো একটি দৈত্যাকৃতির জলাধার নির্মাণ ভাটির দেশে কোনো ক্ষতি করবে না—এটি স্বয়ং ভাটির দেশই বলছে—এই নজির সারা বিশ্বে আছে বলে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকা শুধু নতজানুমূলক নয়, একই সঙ্গে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২. 
টিপাইমুখ বা অন্য কোথাও অভিন্ন নদীতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিটিই হচ্ছে দুই দেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক আইন। কারণ এই চুক্তিতে শুধু গঙ্গা নদীর পানি ভাগাভাগির কথা বলা হয়নি। এর ৯ নং অনুচ্ছেদে ‘ন্যায়পরায়ণতা (ইকুইটি), ন্যায্যতা (ফেয়ারনেস) এবং কারও ক্ষতি নয় (নো হার্ম)’—এসব নীতির ভিত্তিতে দুই দেশের সরকার অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির জন্য চুক্তি সম্পাদন করতে একমত হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, বাংলাদেশের সঙ্গে অবাধ তথ্যবিনিময়, আলোচনা এবং চুক্তি না করে ভারত কর্তৃক অভিন্ন নদীর ওপর এককভাবে প্রকল্প গ্রহণের কোনো বৈধতা নেই। আবার চুক্তিতে উল্লিখিত নো হার্ম নীতি অনুসারে টিপাইমুখের মতো কোনো প্রকল্প নির্মাণ করতে হলে অববাহিকাভিত্তিক যৌথ সমীক্ষা করার দায়দায়িত্ব ভারত কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পানিবিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত সম্প্রতি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কোনো যৌথ পরিবেশ সমীক্ষা ছাড়া টিপাইমুখ বাঁধ ভারত নির্মাণ করতে পারে না। 

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও আন্তর্জাতিক কিছু পরিবেশ চুক্তি রয়েছে যেগুলোর পক্ষরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই। এসব চুক্তি (যেমন ১৯৯২ সালের বায়োডাইভারসিটি কনভেনশন, ১৯৭২ সালের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন, ১৯৭১ সালের ওয়েটল্যান্ড কনভেনশন) অনুসারে, একতরফাভাবে টিপাইমুখের মতো প্রকল্প গ্রহণের অধিকার ভারতের নেই। আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে: প্রতিবাদ করার পক্ষে বহু এমন চুক্তি ও যুক্তি থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার এখনো সহায়-সম্বলহীনের মতো নির্ভর করে আছে ভারতের আশ্বাসের ওপর। অতীতের কথা বাদ দিই, এই সরকারের আমলেই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের মতো অনেক প্রতিশ্রুতি একের পর এক লঙ্ঘন করেছে ভারত। সরকারের টনক নড়ছে না যেন তবু!

৩.
একতরফাভাবে টিপাইমুখ প্রকল্প নির্মিত হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে ভারত যে আশ্বাস দিচ্ছে, তা শুধু আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্যই নয়, এটি বিভিন্ন কারণে অবিশ্বাস্যও।
প্রথমত, ওয়ার্ল্ড কমিশন অন ড্যামের ২০০০ সালে প্রকাশিত ড্যাম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক সুবিশাল গবেষণা রিপোর্টে বড় ড্যাম লাভের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি করে, পরিষ্কারভাবে এ কথা বলা হয়েছে। শুধু পরিবেশগত দিক দেখলে এসব ক্ষতির মধ্যে রয়েছে বন ও বন্য প্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গতকরণ, প্রাণীবৈচিত্র্য বিনষ্টকরণ ও পানির মান (কোয়ালিটি) বিনষ্টকরণ। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, এসব ক্ষতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অমেরামতযোগ্য এবং এ কারণে কিছু দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা, এরই মধ্যে নির্মিত বড় ড্যামগুলো ভেঙে ফেলছে। সামাজিক প্রভাবসংক্রান্ত অংশে কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বড় ড্যামের কারণে বিশেষ করে উজান অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়।

দ্বিতীয়ত, ভারতের এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্বয়ং মনিপুর ও মিজোরামের মানুষ সোচ্চার হয়েছিল এর মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাবের কথা বিবেচনা করে। মনিপুরের রাজধানী ইমফলে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২০টি অরাজনৈতিক সংগঠনের ডাকে হরতাল পালিত হয়েছে, আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং এখনো নিয়মিত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আরও উজানের একটি দেশ হিসেবে এ প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতি বাংলাদেশেই বেশি অনুভূত হওয়ার কথা।
তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা। ফারাক্কা ব্যারাজ হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না—এই দাবি ভারত ১৯৫১ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আমাদের অব্যাহতভাবে শুনিয়ে এসেছে। ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারত ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের কিছু সুবিধা হবে—এই দাবিও করেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের অপূরণীয় ক্ষতির তিক্ত অভিজ্ঞতার পর টিপাইমুখ ড্যাম ক্ষতিকর হবে না, ভারতের এই দাবি অন্ধের মতো মেনে নেওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ ড্যম নির্মাণসহ তিস্তা, গঙ্গা, দুধকুমারী, খোয়াই, মনু, মুহুরী, ধরলাসহ বিভিন্ন যৌথ নদীর ওপর ভারত একতরফাভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। তবে টিপাইমুখের আয়তন ও ব্যাপ্তি হবে এর মধ্যে সবচেয়ে বিশাল। ভূকম্পন এলাকায় অবস্থিত বলে এটি কখনো ভেঙে পড়লে তলিয়ে যেতে পারে সুরমা ও কুশিয়ারার দুই কূলের বিশাল অঞ্চল।
টিপাইমুখ ড্যামের সঙ্গে সঙ্গে ফুলের তল ব্যারাজ নির্মিত হলে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ফারাক্কাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফুলের তল ব্যারাজ নির্মাণের কথা ভারতের আদি প্রস্তাবে রয়েছে। এটি যে এখন তার প্রকল্পের অংশ নয়, সে সংক্রান্ত কোনো দলিল-দস্তাবেজ বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই। আমাদের একটি বড় উদ্বেগ এটিও।

৪.
টিপাইমুখ ড্যাম প্রজেক্টের বিষয়ে বাংলাদেশকে তাই অবিলম্বে সরকারিভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। এ প্রকল্পসংক্রান্ত সব সমীক্ষা, প্রতিবেদন ও প্রকল্পপত্র বাংলাদেশকে দেওয়ার জোর অনুরোধ ভারতকে জানাতে হবে। সব কাগজপত্র যৌথ নদী কমিশন, পানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে এনে (যেমন: টিপাইমুখ ড্যামের পরিবর্তে অনেকগুলো ছোট আকৃতির ড্যাম নির্মাণ করে এবং ফুলের তলে ব্যারাজ নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল করে) প্রকল্পের সুবিধা (যেমন: বিনা মূল্যে বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জলবিদ্যুৎ দিয়ে) আদৌ বাংলাদেশ সুনিশ্চিতভাবে পেতে পারে কি না, সেটিও আমাদের দক্ষতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ বিবেচনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ভারতকে এই প্রকল্পের বিষয়ে সব কাজকর্ম বন্ধ রাখার দাবি সরকারকে করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এসব করবে কি না, এই উদ্বেগ আমাদের থাকছেই।

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ নভেম্বর ২০১১ 

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

এটিএম বুথে জাল টাকা! ''চিন্তার কারণ আছে ''


প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আসসালামু ওয়ালাইকুম। আশা করি সকলে ভাল আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে হাজির হয়েছি। তাহলে আবার মূল কথায় আসি।

আমাদের চলমান জীবনে সমস্যার কোন শেষ নেই, দিন কে দিন সমস্যার পরিমান বাড়ছে বৈ কি কমছে না। তেমনি এক নতুন সমস্যা হল ATM বুথে জাল টাকা। সম্প্রতি এমন অনেক গুলো ঘটনা ঘটলেও তার কোন সুরাহা হয় নি।

সম্প্রতি আমারই এক ক্লাস মেট ডাচ বাংলার এটিএম বুথ থেকে ২ হাজার টাকা তোলে কিন্তু তার মধ্যে ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পায়। সাথে সাথে নিকটস্থ  শাখায় যোগাযোগ করলে ব্যাংকের ম্যানেজার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তিনি জানান তাদের বুথ গুলোতে জাল টাকা থাকার প্রশ্নেই আসেনা। তাহলে আমার প্রশ্ন এই জাল টাকা কি হাওয়ায় উড়ে এলো? শুধু ডাচ বাংলা ব্যাংক নয় অভিয়োগ আছে ব্র্যাক ব্যাংক সহ আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে।

এমন ঘটনা আরও ঘটেছে যা আমরা পত্র পত্রিকায় দেখেছি। এটিএম বুথ থেকে জাল টাকা পেয়েছেন এমন অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকে অভিযোগ করতে গেলে উল্টো জাল টাকার ব্যবসায়ী বলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে। কাউকে কাউকে অপমান করে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জানা গেছে, জাল টাকার সিন্ডিকেট গুলো বিভিন্ন ব্যাংক গুলোকে জাল টাকা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যাংকের এক শেনীর কর্মকর্তাও এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো অদৃশ্য কারনে এ ব্যপারে  নিরব ভুমিকা পালন করছে।

অতএব, সকলে সাবধান হবেন।  আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং এর সুয়োগে এক শেনীর অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা আপনার হাতে ধরিয়ে দিবে জাল টাকা, তখন প্রমানের অভাবে আপনার কিছুই করার থাকবেনা, রাগে ক্ষোভে নিজের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছে করবে কিন্তু কোন লাভ হবে না।

সকলে ভাল থাকবেন। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজ বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ। 

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: বিনিয়োগ করবে ব্যাংক, কালোটাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না -''ক্ষতি পোষানোর উদ্যোগ''

শেয়ারবাজার-পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি চলে রাত প্রায় সোয়া ১১টা পর্যন্ত। 

বৈঠকে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠক শেষে এসইসির সদস্য আরিফ খান সাংবাদিকদের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগ-কারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো সংস্থাই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বাজার-পরিস্থিতির উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে এসইসি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়। দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসইসির চেয়ারম্যান তাঁদের সুপারিশ-গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। জানা গেছে, তাতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর), বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হার কমানো, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের আইনি বিনিয়োগসীমা (এক্সপোজার লিমিট) নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা, ব্যাংকের বিনিয়োগের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশনিং) ধাপে ধাপে করা এবং শেয়ারবাজার থেকে করা ব্যাংকের গত দুই বছরের মুনাফার অংশ আবার বিনিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। 

আগামী শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বৈঠকে বসবে। তারপর আগামী সপ্তাহের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

এর আগে শেয়ারবাজার-পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক করবেন—এই খবরে গতকাল বুধবার দুই বাজারেই মূল্যসূচক বেড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী বাজারসংশ্লিষ্টদের নিয়ে ওই বৈঠকের উদ্যোগ নেন। আর তাতেই গতকাল দিনের শুরু থেকেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল দিনশেষে সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ৩৩৮ পয়েন্ট। আর অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বা ৮২৭ পয়েন্ট।

লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে অনেক কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণে শেয়ারের লেনদেন কম হলেও তা সূচক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরের মধ্যেই লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেড় শতাধিক কোম্পানিই বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে গতকাল আটটিই মূল্যবৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা (সার্কিট ব্রেকার) ছুঁয়েছে। 
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে থাকার পর বাজারের এই আচরণ অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।

যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, আমাদের বাজার এখনো ব্যক্তিশ্রেণীর সাধারণ বিনিয়োগকারীনির্ভর। তাই তাদের প্রতিদিনের আচরণের প্রভাব বাজারে দেখা যায়। শেয়ারবাজার-পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের খবরে বিনিয়োগকারীদের অনেকে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তাঁরা ভাবছেন, নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী বাজারের উন্নয়নে কিছু করবেন। তাই যেসব বিনিয়োগকারী লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ লোকসান পুষিয়ে নিতে আবারও শেয়ার কিনেছেন। আর কেউ কেউ লোকসান কমাতে নতুন করে দাম সমন্বয় করেছেন।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, শেয়ারের দাম ও বিনিয়োগকারীদের লোকসান যে পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে সামান্য আশার আলো দেখলেই বিনিয়োগকারীরা নতুন করে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ার পর অনেকেই হয়তো মনে করছেন, বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে গতকাল সকালে এসইসি বাজার-পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এবিবির সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুরে এসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এসইসির চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয় নিয়েই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

এদিকে, বাজারে মূল্যসূচক বাড়লেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকালও ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনের সড়কে সকাল থেকেই বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একদল বিনিয়োগকারী বিক্ষোভ করেছেন। এ কারণে ওই সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই ডিএসই ভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। 

ডিএসই ভবনের সামনের সড়কে যান চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেই বিষয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল। এ সময় বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। আর পুলিশের পক্ষ থেকে রাস্তা বন্ধ না রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যাপারে একে অপরকে আশ্বস্ত করেন।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৭ নভেম্বর, ২০১১ 

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১১

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য-'' সুন্দরবনের পরাজয়ের পর''

আমরা, এবং কিছুটা ভারত, চেষ্টা করেছিলাম সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি করার জন্য। পারলাম না। যে সাতটি নতুন স্থান নির্বাচিত হয়েছে সেগুলো হলো আমাজন নদী, ভিয়েতনামের হালং বে, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সীমান্তবর্তী ইগুয়াজু জলপ্রপাত, দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার কোমাডো জাতীয় উদ্যান, ফিলিপিনসের পুয়ের্তো প্রিন্সেসা নামের ভূগর্ভস্থ নদীটি, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত টেবল মাউন্টেন বা টেবিল পর্বত। টিভি থেকে যতটুকু পর্বতটাকে দেখেছি ততটুকুতেই মনে হয়েছে, এটি শুধু প্রকৃতি প্রদত্ত একটি রাজকীয় ভোজসভার টেবিল নয়, এটার দাঁড়ানোর মধ্যে একটি ভয়ংকর সমীহ জাগানোর ব্যাপার আছে। 


সৌন্দর্য ও ভয়ংকরতা মিলে যা হয়, যাকে ইংরেজ কবি উইলিয়াম ব্লেইক ‘ফিয়ারফুল সিমেট্রি’ (ভয় জাগানিয়া সমন্বিত সৌন্দর্য) বলেছিলেন তাঁর বিখ্যাত ‘টাইগার’ কবিতাটিতে, এবং যাকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নামে অভিহিত করে একটি কিশোর উপন্যাস রচনা করেছিলেন, যে ভয়ংকর সুন্দরের উপস্থিতি আমরা প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত মিসরের মমি কিংবা পিসা নগরের হেলানো মন্দিরে দেখতে পাই, সে ভয়ংকর সৌন্দর্য সুন্দরবনকে প্রচারিত করার ক্ষেত্রে আমরা উপস্থিত করতে পারিনি বলে যুদ্ধে জিততে পারিনি। 


''প্রকৃতির কারনে নয়, সুন্দরবন হারল আমাদের উদাসীনতার দোষে''


শুধু নিপাট রোম্যান্টিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হলে সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় টিকে থাকা মুশকিল; সে রকম হলে পৃথিবীর বহু জায়গা আছে, যেমন ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জগুলো যেখানে সাগরের নীল পানি, সাদা বালির সৈকত আর নারকেলগাছের সারির সঙ্গে বাঁধা হয়েছে মনোরম রিসর্ট, সেগুলোই পেয়ে যেত ভোট। সুন্দর চাখতে চাখতে একটু ভয় পেতে হবে, এই সংমিশ্রণটা না থাকলে প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত দাঁড়ানো যায় না। অনেকে হয়তো বলবেন, তাহলে ‘তাজমহল’ কীভাবে টিকে গেল? তার মধ্যে ভয়ের কী আছে? অন্যদের কথা বলতে পারব না, তবে আমি ‘তাজমহল’ মোট তিনবার দেখেছি, এবং প্রতিবারই অসম্ভব এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে বোধ করেছি মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শ। আগ্রার খুব গরমের দিনেও, মে কিংবা জুন মাসে, আপনি তাজমহলের সমাধিসৌধের মূল চাতালে উঠে শুয়ে পড়ুন, দেখবেন শ্বেত মার্বেল পাথরের ঠান্ডা স্পর্শে আপনার গা জুড়িয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুর সময় সম্ভবত এ রকম গা জুড়িয়ে যাওয়ার খেলা থাকে। জানি না, জানব আর কী?


কিন্তু সুন্দরবন ভ্রমণে গেলে খাপছাড়াভাবে আপনি একটা নৈরাশ্যের শিকার হবেন। কারণ সাদামাটা পর্যটক হিসেবে গেলে আপনি কখনো সে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা ডোরাকাটা হলুদ বর্ণের বাঘমামার দেখা পাবেন না। বাঘমামা দূরে থাক, তার থাবার দাগও খুঁজে পাবেন না (হয়তো অনেকে জানেন, স্থানীয় বনবাসীরা বাঘকে বাঘ বলে না, বলে মামা)। বাঘ দেখতে চাইলে ওরা কৌতুক করে বলে, মামাকে দেখতে না পাওয়াই ভালো, কারণ ওইটাই হয়তো হয়ে যাবে শেষ দেখা। যে দেখায় জীবন চলে যেতে পারে সে ধরনের দেখার কথা বলছি না, বলছি বাঘ দেখার ব্যবস্থা থাকার কথা। সুন্দরবন চার দিনের প্যাকেজ টুরে ঘুরে এসে আপনার মনে হবে, সুন্দর নদী, খাল, খাঁড়ি ও বৃক্ষাবৃত প্রাকৃতিক নিসর্গে আপনি একটি পোস্টকার্ডের ছবির মতো জীবন যাপন করলেন। কিন্তু কোথাও কোনো ভয় ছিল না, কোনো ঝুঁকি ছিল না। সে জন্য সুন্দরবন ভ্রমণটা উন্নততর একটি পিকনিক মনে হয়, কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার করলাম মনে হয় না। আবার আরেকটা উপায় আছে, সেটা হলো ক্যামেরা এবং বন্দুক নিয়ে, ভাতের মোচা বেঁধে রাতের পর রাত গাছে মাচা বেঁধে থাকা। গাছের নিচে একটা ছাগল বেঁধে রেখে তারপর বাঘমামার জন্য অপেক্ষা করা। ইদানীং সুন্দরবনের দৃশ্যাবলির ওপর ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক ও ডিসকভারি চ্যানেল দুটো কি তিনটে ছবি বানিয়েছে, যেগুলো ওরা ঘুরেফিরে কিছুদিন পরপর দেখায়। চিত্রগ্রাহকদের বর্ণনায় বুঝতে পেরেছি, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে রাতের পর রাত মাচা বেঁধে বনের ভেতর মশার কামড় খেয়ে থাকতে হয়েছে। তার পরও ছবিগুলোতে বাঘমামার উপস্থিতি তার খ্যাতির তুলনায় খুব কম। 

সুন্দরবন নিশ্চয় আফ্রিকার সেরেংগেটি, ক্রুগার, কালাহারি, ইতোশা বা সাহারা ন্যাশন্যাল পার্কের মতো অতটা ভয়ংকর বনাঞ্চল নয়। কিন্তু ওখানে বনের ভেতরে গিয়ে খুব কাছ থেকে পশুর রাজা সিংহ, পশুদলের ভিম গন্ডার, কিংবা পশুদলের খলনায়ক হায়েনা বা সুন্দরী লম্ফঝম্পের ওস্তাদিনী টমসন গ্যাজেল বা নিষ্পাপ চিত্রল হরিণী, কিংবা পশুর দলের জনতা ওয়াইল্ডার বিস্ট, কিংবা পাঁচ টনী হাতি, কিংবা করাত দাঁতওয়ালা নীল নদের কুমির, কিংবা জলহস্তি, সাপ, মনিটর প্রায় সবই গাড়ির কাচের নিরাপদ দূরত্বে থেকে অবলোকন করা যায়, ছবি নেওয়া যায়, গবেষণা করা যায়। জীবজন্তু, পক্ষিশ্রেণী, সরিসৃপ ও কীটপতঙ্গের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ ও দেখানোর জন্য পর্যটনবিজ্ঞানীরা এসব বনাঞ্চলের কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব রকম সুযোগ-সুবিধার অকাতর ব্যবহার করেন। সিংহ যখন জিপের সামনে মুখ ব্যাদান করে হামলে পড়ে, কাচের ওপর আঁচড়ায় তখন ভ্রমণকারীদের শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়, তার পরও ভ্রমণকারীরা জানে যে এ ভয়টা নিছক ইন্দ্রিয়গত, যৌক্তিক ভয় না, এবং তাদের পাওনা হয়ে যাচ্ছে সারা জীবনের জন্য এক অনুপম অভিজ্ঞতা। তাই তাদের ভয় পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়, আবার ভয় থেকে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতাও হয়। কিন্তু সুন্দরবন নিছক পর্যটক হিসেবে ঘুরে এলে মিরপুর চিড়িয়াখানায় বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে যে ভয়টা হয়, তার কণামাত্রও হয় না। ‘সুন্দরবনে গেলাম, অথচ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পেলাম না’—এটি যখন মন্তব্যাকারে সপ্তাশ্চর্য বিচারকারী আন্তর্জাতিক কমিটির কাছে পৌঁছাবে, সেটিই বিশ্বজনমত হিসেবে তৈরি হবে এবং তখন সুন্দরবন নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে, যা বস্তুত হয়েছেও। 


ভোটের হিসাবটা কী রকম জানি না। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ মিলে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ, সেখানে সুন্দরবন ভোট গণনায় হারতে পারে সেটা আমার মনে হয় না, মনে হয় হেরে গেছে ‘পর্যটন-প্রচারণা’, ‘ভ্রমণ-সুবিধা’ ও ‘ভৌগোলিক অবস্থানের দুর্গমতা বা সুগমতা’র বিবেচনায়।


এ পর্যায়ে আলাপে এসে যাচ্ছে আমাদের পর্যটনশিল্প নিয়ে কথাবার্তা। পর্যটনশিল্পের ভাষা হচ্ছে পোস্টকার্ডের উল্টোপিঠের ছবির মতো। যত পোস্টকার্ড, তত পরিচিতি। বিদেশে যেকোনো পর্যটনের জায়গা ঘুরতে গেলে পোস্টকার্ড অ্যালবাম কিনতে কিনতে হাত ভরে যায়। অথচ বিদেশি পর্যটকেরা বাংলাদেশ ঘুরতে এসে সুন্দরবনের পোস্টকার্ড কিনতে পারে কি না সন্দেহ। সুন্দরবনকে পর্যটকভোগ্য বা ভ্রমণ-উপযোগী করে তোলার জন্য এবং এর ভেতরের ভয়-জাগানিয়া ব্যাপারটাকে তুলে ধরার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার। বলাবাহুল্য, এ আশকারার কোনো জায়গা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালচিত্রে আছে বলে মনে হয় না। দ্বিতীয়ত, ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক বা অন্যান্য চ্যানেল কর্তৃক তৈরি ছবিগুলোর বেদনা আছে অন্য জায়গায়, বাঘ দেখানো নয়, মানুষ যে বন দখল করে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে, সেটি দেখানোয়। বস্তুত কোনো একটা ছবিতে এক জায়গায় এমন কথাও আছে যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রজাতিটি খেতে না পেয়ে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক আয়তন হারিয়ে ফেলছে। আর বাঘ কর্তৃক নরদেহ শিকারের প্রতিটি ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ এসে বাঘের রাজ্যে ঢুকে পড়ছে বলে এ দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে। তাই এই ছবিগুলো যখন বিশ্ব চ্যানেলগুলোয় প্রদর্শিত হয়, তখন সুন্দরবন নিয়ে আমাদের অব্যবস্থাপনা ধরা পড়ে। 


ভৌগোলিক অবস্থানের সুগমতা ও দুর্গমতা নিয়ে একই কথা বলতে হয়। যোগাযোগ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাঘের গুহার সামনে গিয়ে বাঘ দেখে নিরাপদে ফিরে আসা যায়। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের বিশাল কান্না মানুষ কি কাছে গিয়ে শুনতে পারছে না! আমাদের ক্রিকেটারদের মুখে শুনেছি, জিম্বাবুয়ে গিয়ে তাঁরা ভিক্টোরিয়া ফলস (স্থানীয় ভাষায় ‘মোসোয়া টুন্যা’) দেখে আসতে পারেন। অথচ জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তের মাঝখানে এ জলপ্রপাতটি পৃথিবীর একটি অতিদুর্গম খাঁড়ির মধ্যে অবস্থিত। শুধু তাই নয়, ওই খাঁড়িতে প্রবাহিত জাম্বেসি নদীর ওপর বাঙ্গি জাম্পিং বা পায়ে দড়িবেঁধে লাফ দিয়ে খরস্রোতা নদীর পানির ওপর দুলতে পারার ব্যবস্থাও নাকি আছে! ওই লাফটি দেওয়ার জন্য অবশ্য বুকের কলজের দরকার। 
সুন্দরবনে এ ধরনের অভিযাত্রিক হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সুন্দরবন খুবই সুন্দর, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা কক্সবাজারের চেয়ে সুন্দর হয়তো বা, কিন্তু এর যোগাযোগব্যবস্থা খুব দুর্বল এবং এর অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার কোনো পর্যটনসুলভ ব্যবস্থাও নেই। অর্থাৎ প্রাকৃতিক কারণে নয়, সুন্দরবন হারল আমাদের উদাসীনতার দোষে। 




মোহীত উল আলম: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি, ইউল্যাব, ঢাকা
mohit_13_1952@yahoo.com


সুত্রঃ প্রথম আলো, ১৩ নভেম্বর, ২০১১

বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১১

আমার দেখা সুন্দর একটি থিম!


আসসালামু ওয়ালাইকুম। আশা করি সকলে ভাল আছেন। আজ আপনাদের জন্য সুন্দর একটি মোবাইল থিম নিয়ে হাজির হলাম। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। থিমটি সিম্বিয়ান মোবাইল সমর্থন করে।

নিচে স্ক্রীন শট দেয়া হল।







ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

সকলে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ কামনায় আজ বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ। 

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য- ''আসুন, ভালোবাসি এবং ভোট দিই''

বাচ্চা দুটো সদ্য খোঁড়া ছোট্ট দুটো কবর দেখিয়ে বলল, আমাদের ভাইবোনের কবর ওই দুটো। ওদের আঙিনায় তখনো প্রাইমারি স্কুলের বই, মাদুর বিছিয়ে তাতে বইগুলো ওরা শুকুতে দিয়েছে। এই দুটো বাচ্চা বেঁচে আছে উপকূলের গাছের ডাল ধরে। সেই যেবার সিডর হয়েছিল, সেবার সুন্দরবন এলাকায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখেছিলাম। সেই থেকে আমি উপলব্ধি করতে পারি, সুন্দরবন আমাদের কত বড় রক্ষাকর্তা।


আমি জানি, প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানটার আসল উদ্দেশ্য বাণিজ্য। ওটা ঠিক জাতিসংঘের মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান নয়। যদিও ইউনেসকোর একটা অনুমোদন এদের আছে। এই দুনিয়ায় লাভ ছাড়া কেউ কিছু করে না। আমাদের বিবেচ্য, যদি সুন্দরবনকে আমরা ভোট দিয়ে সেরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যর তালিকায় আনতে পারি, আমাদের লাভ হবে নাকি ক্ষতি হবে। অবশ্যই লাভ হবে। প্রতিটি দেশই তার ইতিবাচক দিক তুলে ধরতে চায়। আমরা যে অলিম্পিকে সোনা জিততে চাই, সেই সোনার কীই-বা এমন দাম? বাজারে তো সস্তায় সোনার দলা পাওয়া যায়, কেন সবাই অনেক কষ্ট করে দল গঠন করে ট্রেনিং নিয়ে সোনার জন্যে ছোটে? কারণ দেশের নাম হয়। কেন আমেরিকা, ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স পয়সা খরচ করে এই দেশে সাংস্কৃতিককেন্দ্র চালায়? তাদের দেশের ছবি দেখায়? পৃথিবীটা চলছে ব্র্যান্ডিংয়ের ওপরে। 


আমাদের দেশের ভাবমূর্তি খুব খারাপ। দুর্ভিক্ষের দেশ, বন্যার দেশ, সাইক্লোনের দেশ। সুন্দরবন যদি প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটা হয়, তাহলে আমরা সত্যি একটা নতুন পরিচয় তুলে ধরতে পারব। আমাদের গৌরব বাড়বে। আমরা যে বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতামাতি করি, ওই মৌসুমে অন্তত চার-পাঁচজন বাংলাদেশি খেলার উত্তেজনায় মারা যান, কেন? একটা আনন্দ, একটা বিজয়ের গৌরব, একটা জয়-পরাজয়ের উত্তেজনা কাজ করে আমাদের মধ্যে। নইলে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলেই কী, নাহলেই বা কী? মেসি আমার কে হয়? কিন্তু আমরা উত্তেজিত হই, কারণ তা আমাদের অর্থহীন নিরানন্দ জীবনকে আনন্দপূর্ণ করে তোলে। কাজেই ওই আনন্দকে কখনো আমি খারাপ চোখে দেখি না। তেমনি একটা প্রতিযোগিতা হচ্ছে, না হয় ধরেই নিলাম, খুব তুচ্ছ একটা প্রতিযোগিতা, একেবারেই কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত নয়, তবু তো বাংলাদেশের সুন্দরবন তাতে আছে। আমরা কি চাইব না সুন্দরবন জয়লাভ করুক? এতে তো আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। পৃথিবীর সব দেশই নিজের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য অনেক টাকা খরচ করে। সুন্দরবনকে যদি জেতাতে পারি, সবচেয়ে কম টাকা খরচ করে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করা যাবে সবচেয়ে ভালোভাবে। এটা যদি এতই ফালতু হতো, তাহলে তাজমহলের জন্য ভারত কেন ভোট চেয়ে টিভিতে বিজ্ঞাপন দিল। আজকে তো নতুন সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় তাজমহল স্বীকৃত ও গণ্য হয়ে গেছে।


সিডরের সময় আমি সুন্দরবন এলাকায় গিয়েছিলাম। গিয়েছিলাম আশার চরে। একটা বাড়িতে গেছি। একটা পরিবারের দুটো বাচ্চা ভেসে গেছে জলোচ্ছ্বাসে। আরও দুটো বাচ্চা বেঁচে আছে। মা বললেন, কীভাবে তাঁর হাত থেকে দুই সন্তানের হাত ছুটে গিয়েছিল। পরে বাচ্চা দুটোর লাশ পাওয়া যায় ভেসে যাওয়া ধানখেতে।


ওই মা আর তাঁর দুটো সন্তান বেঁচে ছিলেন গাছ ধরে। সুন্দরবনের গাছের ডাল ধরে।
আমি একটা ছোট্ট ছড়া লিখেছি সুন্দরবন নাম দিয়ে:

সুন্দরবন

সন্তান: ‘সমুদ্রজল নোনা কিন্তু চোখের মতো শান্ত কেন নয়?’
মা: ‘বাছা তোরা জানতি যদি আমার বুকেও সমুদ্রঝড় বয়!’

সন্তান: ‘তুফান যখন আসে তখন সমুদ্র কি দৈত্য হয় গো মা?
ঝরা পাতার মতোন ওড়ায় ঘরদোর আর ডোবায় যখন গাঁ!
ভাইয়া যখন ভেসে গেল ভেসে গেল যার যা কিছু ছিল,
আমি তোমায় ধরে ছিলাম, ভাইয়া কখন আঙুল ছেড়ে দিল!’
মা: ‘এক হাতে ঠিক ধরেছিলাম পুরোনো গাছ ভিটের পূর্বপারে,
গাছটা তখন ঠাঁই দিয়েছে, গাছটা কত সইতে দেখো পারে!’

সন্তান: ‘আমরা তোমায় ধরে ছিলাম, তুমি ছিলে গাছের কাণ্ড ধরে,
এইভাবে আর যায় কি বাঁচা, সমুদ্রজল ফুসছে যখন জোরে!
ভাইয়া ঠিকই পড়ল ঝরে! 
মা গো আমার মা!
এ গাঁও ছেড়ে চল চলে যাই, এইখানে বল থাকবি কেমন করে!
কিন্তু গাছটা সঙ্গে নেব, ভাইয়ার বই, পুতুল গেছে ভেসে,
গাছটা তো ঠিক মায়ের মতো, ঠাঁই দিয়েছে, ওটাই নেব শেষে।
মা: ‘কী যে বলিস বাছা,
শেকড় উপড়ে ফেলা হলে গাছের পক্ষে সম্ভব কি বাঁচা?
গাছটা থাকুক গাছটা বাঁচুক বাঁচাক আমার গাঁ

সন্তান: ‘মা গো আমার মা!
চল চলে যাই দূরের দেশে, গাছটাকে কি সঙ্গে নেব না!’

অশ্রু ঝরে অশ্রু ঝরে অশ্রু কেবল ঝরে মায়ের চোখে
সমুদ্রজল বাড়ছে তাই তো, অশ্রুজলকে সাগর বলে লোকে! 

সুন্দরবন শুধু এই বাচ্চাটাকে বাঁচিয়েছে, তাই নয়, সুন্দরবন বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে চলেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে, আইলা ও সিডরের ক্ষয়ক্ষতি সুন্দরবন নিজের বুকে ধারণ করে বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখে। সুন্দরবন যেন আমাদের আরেক মা, পাখির মা যেমন ডানা মেলে বাচ্চাদের বাঁচায়, তেমনি সুন্দরবন বাঁচিয়ে রাখে আমাদের।


আর আমরা সেই সুন্দরবনকে একটা প্রতিযোগিতায় এত দূর পর্যন্ত এনে ভোট না দিয়ে হেরে যেতে দেব? কক্ষনো না। আর শুনতে পেলাম, মেয়েদের ভোট সুন্দরবনের পক্ষে কম পড়েছে। নারীরা বেশি করে নিজেদের ই-মেইল থেকে ভোট দিন। নারীর নামে নেওয়া সিম থেকে ভোট দিন। বারবার করে ভোট দিন সুন্দরবনকে।


হোক না ওই আয়োজক প্রতিষ্ঠানটা প্রশ্নসাপেক্ষ, সুন্দরবনকে নিয়ে তো আমাদের কোনো প্রশ্ন নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে তো আমাদের ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই। আসুন, ভালোবাসি এবং ভোট দিই।
১১ নভেম্বর ২০১১ ভোট দেবার শেষ দিন। SB লিখে পাঠিয়ে দিন ১৬৩৩৩ নম্বরে।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ১০ নভেম্বর, ২০১১ 

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১১

ধর্ম- ''ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে ইসলাম''

আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির সেরা জীব বা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হচ্ছে মানবজাতি। প্রকৃতিগতভাবে সব মানুষই এক ও অভিন্ন। তবে অবস্থানগতভাবে কিছুটা পার্থক্য ও বৈষম্য রয়েছে। কিছু উঁচু বংশের, কেউ নিচু বংশের, আবার কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র, কেউ চাকর, কেউ মনিব। তবে বংশ-গোত্র, জাতি-বর্ণ ও অবস্থানগত তারতম্য আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বা এর কোনোটিই তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়। মানবসমাজে ধনী-দরিদ্রের এ ধরনের শ্রেণীভেদ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী; কিন্তু আল্লাহ, তিনি অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।’ (সূরা আল-ফাতির, আয়াত-১৫) 


ইসলাম দুস্থ মানবতা, নিঃস্ব্ব-গরিব কাঙালের স্বার্থ সংরক্ষণের ন্যায়সংগত অধিকার বা হকগুলো ফরজ হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। দান-খয়রাত, সাদকা, জাকাত, উশর, করজে হাসানা, সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা ইত্যাদি ছাড়া দেশের প্রথা ও প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী গরিব-দুস্থ, নিঃস্ব-অসহায় কাঙালেরা ধনাঢ্য, বিত্তবান ও অর্থশালীদের অর্থসম্পদ থেকে যে ধরনের আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা লাভ করতে পারে, তা ইসলামের সম্পদ বণ্টন নীতিমালায় সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে তা যথাযথভাবে আদায়ের জোরালো তাগিদও প্রদান করা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে সর্বপ্রকার ধনসম্পদ বণ্টনের মূলনীতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘ধনসম্পদ যেন শুধু তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত-৭) 


ইসলামে মানবসমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম ধনদৌলত, অর্থসম্পদের উদারতা ও আদল-ইনসাফের দ্বারা গরিবের ন্যায্য প্রাপ্য, হতদরিদ্রের হক বা অধিকার ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত করেছে। ধনীদের অর্থসম্পদের ওপর যে দরিদ্রের হক রয়েছে, পবিত্র কোরআনে তা বারবারই উচ্চারিত হয়েছে, ‘আর তাদের (ধনী লোকদের) সম্পদে অবশ্যই প্রার্থী (দরিদ্র) ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত: ১৯)


অন্যদিকে দরিদ্রের স্বাভাবিক জীবনধারণের জন্যও ধনীদের প্রতি তাদের অধিকারকে নির্দিষ্ট করেছে। ইসলামের অর্থনীতিতে জাকাত-ফিতরা, সাদাকা এবং দান-খয়রাত কেবল গরিবদের বেলায় প্রাপ্য, দরিদ্রদের এগুলো হলো মৌলিক অধিকার। ইসলামে জাকাতব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানবসেবা তথা হতদরিদ্র মুসলমানদের আর্থসামাজিক জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাদাকাত বা জাকাত দরিদ্র, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি যাদের মন আকৃষ্ট করার প্রয়োজন, বন্দী, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় নিয়োজিত এবং বিপদগ্রস্ত পথিকের জন্য (ব্যয়িত হবে); এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, আর তিনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৬০)
জাকাতের মাধ্যমে সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। ধনীরা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ বছরান্তে জাকাত প্রদান করে মানবসেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ইসলামি বণ্টনব্যবস্থায় ধনীরা তাদের ধনসম্পদের কিছু অংশ দরিদ্রদের জাকাত দিলে গরিবদের সম্পদ কিছুটা বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীভূত হয়। 


পবিত্র কোরআনে ৩২টি আয়াতে সরাসরি জাকাতের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি আয়াতে সালাতের সঙ্গে জাকাত আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৯০টি আয়াতে কারিমায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জাকাত, সাদকা, ফিতরা আর ধনসম্পদ এবং তা ব্যয়ের বিষয়ে আলোচনা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায্য অধিকার দিয়ে দাও।’ (বুখারি) নবী করিম (সা.) ফরমান, ‘আমির ও ধনী লোকের ৪০ বছর আগে দরিদ্র বা গরিব লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা করবেন, “তোমরা দেখো তো, আমার প্রিয় বান্দাকুল কোথায়?” ফেরেশতারা নিবেদন করবেন, “হে রাব্বুল আলামিন! কারা আপনার প্রিয় বান্দা?” আল্লাহর থেকে উত্তর আসবে, “তারা হবে মুসলমান গরিব-দরিদ্র লোক, আমার দানে ও নিয়ামতে তারা পরিতৃপ্ত এবং সন্তুষ্ট ছিল তাদের জান্নাতে নিয়ে যাও”।’


দরিদ্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দান-খয়রাত এবং বিবিধ রকম সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য ও দায়িত্ব।’ সাহাবায়ে কিরাম নবীজির মুখ-নিঃসৃত বাণী শুনে বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! যার সামর্থ্য নেই, সেই ব্যক্তি কীভাবে তার কর্তব্য পালন করবে?’ তদুত্তরে তিনি বললেন, ‘শক্তি দিয়ে পরিশ্রম করবে এবং সেই পরিশ্রমলব্ধ অর্থ দ্বারা নিজে উপকৃত হবে এবং গরিব-দুঃখীজনকে অকাতরে দান-খয়রাত করবে।’ সাহাবিগণ আরজ করলেন, ‘যদি এমন কেউ সুযোগ না পায়?’ নবীজি বললেন, ‘যতই তোমাদের কষ্ট হোক, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত অভাবগ্রস্ত গরিব-মিসকিনদের সর্বপ্রকার আপদ-বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। অসহায়-উপায়হীন মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াবে।’ 


মানবজাতি প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার অগণিত নিয়ামত উপভোগ করছে, তাই মহান আল্লাহর বান্দা হিসেবে গরিব-অসহায় আর্তমানবতার সেবা, সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও উপকার সাধন করা মুসলমানদের অবশ্যকর্তব্য। দান-খয়রাতের উপযুক্ত পাত্র হলো সমাজের হতদরিদ্র ব্যক্তিরা এবং যে বা যারা আল্লাহ পাকের দ্বীন ইসলামের খেদমতে থেকে সৎপথে জীবন নির্বাহ করছে, তারাই প্রকৃত ঈমানদার।


ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২১ অক্টোবর, ২০১১